সুবর্ণকান্তি উত্থাসনীর একগুচ্ছ কবিতা


 

সুবর্ণকান্তি উত্থাসনীর একগুচ্ছ কবিতা


এই জন্ম হত্যা প্রভঞ্জন

 

যৌবন কীভাবে কাছে এসে ফিরে যেতে হয়

শিখিও না আর তাকে কী ক্ষতি বলো তরুণ

কবিটি আচমকা যদি বা সঙ্গম সেরে ফেলে

দুয়ার ভেঙেছে আয়ু জ্বেলে দাও দীপাধার

পুনর্ভবার জল যেভাবে উপচে ওঠে কেঁপে

কলসীর নিঠুর জঠরে ঘুম ভাঙা তুমুল

আদুরে স্বর তুমি কী পেরেছ দিতে নিরীহ 

পাথুরে বিশ্বাস নিদেন গার্হস্থ্যস্নানটুকু

সুখ কী অপলাপ উনুনে দগ্ধ ভাত তবু

কবির ফোস্কা থেকে দৈববাণী জেগেছে হায়

পয়মন্ত শ্মশানে সেটুকু ঈশ্বরী দাও বলির

রক্ত মেখে উল্লাশে মাতুক পাড়া অনিবার্য

সত্য নয় স্পর্ধার পাহারায় ভুলুক দুরূহ ক্ষুধা

এর বেশি কী পাওয়ার বলো বাংলা কবিতায়

 

ভণ্ডামিহীন যৌবন যখন করেছ বধ

গুপ্ত মারণ মন্ত্রে উপুড় হয়ে শুয়েছিল

আমাদের পিতৃপিতামহের খণ্ড পৌরুষ

পদ্মের নাভি থেকে মানুষীর ইতরজন্ম

কী প্রকারে ভেঙে দেয় বলো দৈত্যের জিঘাংসা

কী উপায়ে যৌনতা পুঁতে এসে নরকে

নারীর কোমল স্তনবৃন্ত স্পর্শের জীগিষা

পুরুষের ডানা গজানোর ক্ষণে বিচলিত 

ক্ষিপ্রতা চুষে নেয় আকন্ঠ উড়ানের মন্ত্র

অধোগামী হয় ঊষর প্রান্তরে সড়কে

চিলের কঠিন ঝাঁপ কিংবা পিঠে নখ রেখে

প্রার্থিত ছোঁয়ায় হেঁটে মন্ত্রচ্চারণের তৃষ্ণা

বয়ে আনে কানা আনুগত্য যা প্রাতিষ্ঠানিক

শরীরের বাইরে দাঁড়িয়ে তুলে দেয় অবাধ্য

পাঁচিল ডানাপোড়া মফস্বলের বুকে ছায়া

পড়ে আছে শূন্যে উড়ছে হাঁমুখে বিশুদ্ধ চিল

 

কেন পূর্ণাভিষিক্ত যোনির নিপুণ স্তব

মাৎসর্য জড়ো করে আসুরিক রিপুতে ক্রমে

ভেঙে দেওয়া কঠোর বিধান লিপিবদ্ধ করো

অশান্ত কবিতায় দুর্দৈব কবির সংসারে

কারা দেয় গালি দিয়েছে নিয়ত ভেবে দ্যাখো

প্রবীণ কবির ভ্রুভঙ্গীতে হেঁয়র প্রকাশ

অ্যালকেমির ঢঙে আর সে জ্বালা নিভে না

রিক্তের সামনে শুধু হাঁটুভাঁজ শুশ্রূষার

প্রদাহ রিক্তের মোহে শুধু ব্যভিচারিনীর

রোমশ তলপেট অপাবৃণু না হয়ে যায়

এটুকু খেয়াল রেখো শস্যে মুক্তি শস্যে

মাতাল হয়ে প্রব্রজ্যা সঙ্গমে পাড়া জাগানো 

প্রসববেদনায় হুলুস্থূল ফেল না ভোরে

জিহ্বা ক্লীবত্বের তফাতে জিজীবিষা নাই

 

ভাত গেলার হুতাশে একটি শহর গুঁড়িয়ে

যাচ্ছে অদূরে বরফে ঢাকা জাগ্রত মন্দির

পুরুত নাই ঘন্টাধ্বনি নাই কেবল ফোঁপা

কান্নার সুর পেরিয়ে আসছে সাঁকো প্রিয় সাঁকো

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনির তৈরি এক টুকরো

ভারতবর্ষ ঘিরে ফেলেছে বন্দুকধারী ক্ষয়িষ্ণু

বরকন্দাজেরা যেভাবে চাপে জননীহত্যার

দায় সেভাবে শাস্তি হয়ে এসো না হে যৌবন

শাশ্বত পুজোর আশায় নিষিদ্ধ গর্ভগৃহে

তোমার আমার নারী দেখো কী সুন্দর আহা

নির্লজ্জ চটকের ক্যাটক্যাটে আভা কুহকের

ঢেকে দেয় খুঁত গাত্রবর্ণ আর উদ্ধত স্বদেশ

রাতের জঙ্গলে নেকড়ের সতর্ক গামবুট

পিষে যায় মাথুর প্রতিকূল আবহাওয়ায়

দুর্বলতার চেয়ে প্রচ্ছন্নতা জেনো অধিক

সুষম অতএব স্থিতাবস্থা আশু জরুরি

 

হাড় হাভাতের কোল ভরে যাচ্ছে বাস্তুহীন

সাপেদের বিষথলি ক্রমাগত ফেটে যদিও

হাড়ের জুগুপ্সা থেকে অভয়মুদ্রা ছুঁয়েছে

আয়ু দুপুর আগুনভুক নতুবা ঘর্মস্নাত

বইপাড়া টাল খায় কুকুর দোকানী ভিজে

সপসপে প্যারামাউন্টের শরবতে আতুর

স্বপ্নে অথচ পারে না ছুঁতে বিক্রিবাট্টা নাই

ক্রেতা নাই তবু পরস্ত্রীর নিকটে মন পিচ্ছিল

দেহ পতনোন্মুখ এমতাবস্থায় যেভাবে

সংযত থাকা যায় কখনো কী সুদীর্ঘকাল

অভুক্ত থেকেছে কেউ বিয়োনীর যোনিদ্বারে

তবু এই কুণ্ঠা এই মাতৃবোধ শুধুই কী

সংস্কার নাকি ক্লান্ত মোক্ষপিপাসা এবং যা

সনাতন বলে দূরে ফেলে আসো অন্নসরা

ভেঙে গিয়ে এতদূর এতকাল মোহপিণ্ডে

সঁপেছ নিপুণ সনাতন অণ্ড ফেটে ফেটে

ভিনদেশী পুরুষের বিছানায় শুয়ে বলো

কী সুখ পাচ্ছে স্বজাত্য রমণীরা হে যৌবন

আফসোসে রাঙিও না আর ধূলিকণা ওই

আপাদমস্তক উচ্চাশার গর্বে স্ফীত বুকে

যেন কত ক্রীতদাসীর মৃত্যু ঢেকেছে হায়

 

ঢুলু ঢুলু নিঃসঙ্গতা সারাটা দুপুর জুড়ে

ক্রাচ হাতে ইতিহাস মঞ্চস্থ করেছে কেউ

সে সকল বিকারের শায়িত মনস্তাপ যে

কবি শিকার করে লিখেছে তুমুল আদর

একা ঘরে একা তার ধ্বস্ত হবে দূষণের

পাতলা চাদর কুৎসা রটিয়ে ফিরবে প্রবীণ

কবি জেনে পাশ ফেরে কালের গর্ভস্থ জল


সাদা ময়ূরীর যোনি

 

খেলা করো হে অন্বয় নিঃসাড়ে শিকারীর উপচানো স্নেহ

জ্বলেছে যেখানে মৃদু হত প্রার্থিতর জীগিষা কর্তিত

আঁধারে পাহাড়ের এপারে বনে ঘাইমৃগী ডেকে ওঠে

উপকূলবর্তী স্রোতে উল্লঙ্ঘন আসে নাস্তিক্যের পিপাসা

আচমকা গিলে খায় ক্ষমাহীন বাৎসল্য সিঁথির নিকটে

হাঁসের গ্রীবার মতো প্রশস্ত নিদাঘ মহুয়ার ঘ্রাণে

ঘামের শরীরে কেউ বসিয়েছে উল ভেজা রোঁয়া গেঁথে

আছে আঙুলের ফাঁকে যেভাবে দেখেছ এতদ্ বিশ্বকে

স্বপ্নে সর্প দেখে মৃত্যুর ডাহুক দুটি ডেকেছে হুতাশে

সতীত্বে ভিক্ষাপাত্র রেখে তোমার নগ্নিকা গিয়েছে

লোভাতুর ফুল পরাগে নগরীর সাবলীল বিস্তারে

কোটরাহত আত্মদাহ নখরাহত সুখ মূর্ধা মাঝে

পানশালার স্থাপিত উচাটন এভাবে নারীর রূপ

বর্ণণ আমাদের ক্লীবত্বে কিছুটা বণিক সুখ দেয়

পুরোটা দেয় না তাই কী হ্যাশট্যাগে বন্ধ্যাত্বের বিপণন

 

দড়ি ছিঁড়ে পালিয়েছে হায় গ্রস্তকাম সন্তান সন্ততি

পীতপুষ্পে বেষ্টিত রমণীর সংস্কারে গেঁথে দেবে উৎসের

অন্তরীণ পরশু আমাদের অন্ধ করে দেবে সন্দিগ্ধ

মড়কের ছুতো ভেঙে দেবে উৎসবের রেশ অবধূত

পেঁচার বাণী মাহাত্ম্যে বিচ্ছিন্ন করে ইঁদুরের বিলাসী

ঘোঁট এভাবে সায়াহ্নে এসে বলে যায় পিতৃপুরুষের

উর্দ্ধমুখ কীভাবে ম্লেচ্ছ হল কীভাবে ছিন্ন হল মুথা

ঘাসের জতুর্থ মোহবন্ধ তেমনই শোষিতের ছিনালি

এঁটো রোদ্দুরে বিছিয়ে যায় স্কুলফিরতি বালিকার ছেঁড়া

স্কার্টের ফ্যাকাশে ঊরুগুলি লেহনের স্থূল জিভ ডেকে

ওঠে তক্ষকের বনে অথচ মনস্বিনীর দেহজন্মে

দ্বিধা তরুণ সূর্যাস্ত এল ক্যুরিয়ারে চেপে সতীচ্ছদে

রেখেছিলে তুমি আদিম ইন্ধন মেদ গর্ভে বোদ্ধাদের

ছোঁক পাতা ভীমরতি স্বগতোক্তির মতো ভাসে ভেসে আসে

শিলা পরিসরে কেন হারানো শিশুর খোঁজে কে বা কারা

মরছে ঘুরে বন্দরের প্রেতে বিস্মৃতি পান করে যদি বা

মূর্ছিত হয় কাকবন্ধ্যা বিয়োবার আত্মগ্লানি তবে কী

দগ্ধস্নেহে পরজন্মে শুদ্ধ হবে সতীন কাঁটায় বিদ্ধ হবে

বিবমিষায় রৌদ্রক্লেদে মুহুর্মুহু দেবতার গুন্ঠনে

 

আহা ঋতুর অন্বয় তবু ভন্ডুল করো অন্ধ জীগিষা

মেহনের দ্রাব ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে গৃহীর আর্তস্বরে

তার রতির অনিমিখে ভেসে ওঠে ক্লান্ত বিকলাঙ্গতা

বাণপ্রস্থের কালে নির্বাণে থিতু হওয়ার সন্তাপ ততো

কষ্টদায়ক নয় যত চোখের সমুখে আলুলায়িত

মাংসপিণ্ড দেখেও দাঁত হারানো থরথুরে বুড়োর হাত

গোটানোর আপ্রাণ চেষ্টায় বশংবদ সাপের দোসর

প্রার্থনাহীন পরিত্রাণহীন যে বাতুলতাদুষ্ট সড়ক

কেন তোমার আমার অপ্রস্তুতিতে এড়িয়ে চলে গ্যাছে

তবু গ্রীষ্মের হিংস্রতা রমণীর শরীরে থলথলে প্রিয়

স্বামীদের ভুঁড়ির ঘাম ঝরে পড়া লাই দেয় পিচগলা

পথ আত্মতৃপ্তি এনেছে পুরুষের আগ্রাসন প্রস্তাবে

নতি খয়রেটে স্তনবৃন্তের বাসনা মুগ্ধতা থেকে দ্যাখো

সম্মোহন বিচ্ছিন্ন করেছে ধীরে আংশিক অবকলনে

 

কচুর লতির আমদানি স্টেশনের ছায়ায় হত্যে দেয়

চমকে জেগে ওঠে বহুকাল অভুক্ত রমণী যেহেতু

স্তনে ভিক্ষাপাত্র রেখে হেঁটে চলে দৈত্যের জিহ্বার দিকে

জ্বলন্ত অঙ্গারে রাঙা অভিশপ্ত পথে পুড়েছে হন্যতে

ময়ূরীর ডানা কঠোর ব্রতের দাক্ষিণ্যে আশ্চর্য কোনো

বীর্যবান দেবতার ফল পাওয়ার লোভ তোলপাড় করে

এবং হিক্কার পর্বতের গুহ্যদ্বারে অবান্তর ক্ষুধা

রেতঃপাতের তুমুল আহ্লাদে থৈ থৈ তবুও ডিম

ভাঙার মনস্তাপ সতীচ্ছদ ছিঁড়ে যাওয়ার চেয়ে কিছু

অধিক জিঘাংসাপ্রবণ বলে তারে লটকানো জীবনের

কিছু অংশ ব্রহ্মতালুতে শান্তিজল সিঞ্চনে কেটে যায়

বাকি অংশে তীব্র আষাঢ়ে পরিকীর্ণ ফসলের আশ্লেষ

অথচ ভঙ্গুর পাঁচিলের কোলে শুয়ে এক একটি ডিম

সয়ম্ভুতে দেবতার প্রস্তরীভূত জমাট বদ রক্ত

স্বচ্ছ জরায়ুতে পুরুষের ইতর দেহ নির্মাণ করে

 

বোদ্ধাদের রাতের স্নেহ শিকারীর অপদ্রব্য ক্ষুরে জ্বলে

গেলে ধীরে ধ্রুপদী উপচারে শরীরে আবেশ দেওয়ার

বীভৎসতা লসিকার অন্তরালুবর্তী তোরঙে আচ্ছন্ন

অথচ বৃষ্টি নামতেই হবে এই ভাবনায় চাতকের

উদয়াস্ত মাজা গতর আত্মশ্লাঘায় অকস্মাৎ স্ফুট

হয় অন্তরকলনের পরেও দৃশ্য যদি পিছু না হটে

রিপু থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে জনপদ থেকে আড়াল

রাখতে রাখতে নিজেকে পা থেকে জুতো বেড়ে যায় রাতারাতি

আদিম অস্ত্র হাতে মিলিটারি ট্রাক অধিক সন্তর্পণে

ছুটে যায় জঙ্গলে ষাঁড়ের কামার্ত শিঙে যেখানে সেতু

এফোঁড়ওফোঁড় করে জ্বলে ওঠে নীল গাভীবৃন্তের শিখা

সেখানে নয় দূরে কৌতুকে মানবিক ডিমগুলি একে

অপরের খোলসে ঠেস দিয়ে প্রত্নপরাভূত বুননে

সন্তানস্নেহে ঝোলে কালবৈশাখীর আনত নেত্রে তবু

অধিকন্তু সন্তাপের বিষফোঁড়াগুলি নিরবিচ্ছন্ন থেকে

নিষেধের প্রতিরোধ ভেঙে যোনিরসে মিশেছে ক্রমশ

স্তনের যে জটিল শিরা উপশিরাগুলি চূড়ান্ত ব্যগ্র

হয়ে কদর্যে প্রক্ষালিত ঘৃণায় থুতু ছিটিয়ে বেড়ায়

বেঢপ্ যৌনবিকৃতির নাক তোলা স্বভাবে ধনীগুলো

 

আসন্ন ভোটের সন্ধানে বিন্দাস জড়ো করছে দামালেরা

স্রোতের সান্নিধ্যে আরতির যে খলবলে নাভি ছিঁড়ে খাবে

বেশ্যাদের কুঠি ঘিরে পাড়াতুতো অবিমিশ্র উন্মাদনা

উদ্ভাবনী বিস্ময়ে সানুপুঙ্খ ক্রয়ের যাপন পুরোনো

হয়েছে ভাবা যাক নতুবা বন্যেরা যেন বনভোজনের

দিকে সরে গেছে সংযমে ছাড়ায় সাদা ময়ূরীর আঁশ

অল্প দূরে সমর্থন জড়ো করে দ্রুত হলদে জগদ্দল

স্তূপীকৃত হয় পাওনাদারের ভিড় ভাঙা সিঁড়ির নিচে

আদিম মাৎসর্যে মাতালেরা হিড়হিড় করে সতীলক্ষ্মীর

বসনে টান মারে স্খলনের দুরূহ পন্থা শানানোর

অবমাননায় বিদ্ধ হয় জনতার স্বরযন্ত্র যেন

মৌন থাকলেই বুঝি হাতে পেয়ে যাবে অখণ্ড রাম রাজ্য

কিংবা শিকারী অদ্য ওঁৎ পাতছে কোমল গৃহস্থ ঘরেও

নতুবা পুরুষ মাত্রেই শিকারী বন্য অভিযোজন

সেরে পুনরায় সভ্য হওয়ার বাসনা জেগেছে বর্তুল

সারারাত অজস্র ময়ূরীর সাথে শুয়ে শুয়ে পুরুষ

গলনের ঘোরে বুঁদ তোমাকেও সম্ভোগ করুক মাতঃ

 

বরং আমরা বসবো এসে দ্বিতলবাড়িটির মগ্ন

অপরাহ্নে সারঙের কূলদেবীস্নানে দাহশ্রান্ত পিঠ

সকল ঘ্রাণের শেষে তুলে আনবে ইস্তক অপরাজিতা

বসাবে ধুতুরায় ভেদ করবে মুদ্রার জটিল প্রপাত

মদ্য মাংস মৎস্য সহযোগে পল্লীর কুটিল পয়োদ

দূরগামী কল্লোলে শুনবো রোদনের স্তনকাতরতা হাতড়ে

কীভাবে ভিখারীর দুর্বল রাষ্ট্র ছিঁড়ে দেয় প্রমিতের

শিরস্ত্রাণ নিরাপদ কৌতুকের চেয়ে নিথর জ্যোৎস্নায়

ততক্ষণে পার হয়ে যাচ্ছে যোনির দগদগে জন্মছাপ


 

 

নিষ্কৃতি

 

বিলীনের সমান্তরালে আমরা শুয়ে থাকি পরস্পরকে জড়িয়ে

প্রস্তরীভূত পুঁজ আর কৃমির দংশনে ফ্যাকাশে হয়ে আসে দেহ

উৎসবের রাতগুলিতে চোখের অতিরিক্ত চোখ বিগ্রহের নিকটে

ঝাঁকুনি দেয় নাস্তিক্য ও সজীবতার প্লাজমায় যেন অন্ধ থাকলেই

হাতে পেয়ে যাবে সভ্যের উপহার নিশিঘোরের মতো পায়ে পায়ে

ঘুরলেই এক শতাব্দী পেরিয়ে যাবে রাষ্ট্র প্রথমবারের জন্ম ঠেলে

নির্বিকার জড়ো হবে ক্রমে দ্বিতীয়বারের জন্ম ঠেলে কারো কারো

শিষ্যত্ব দেহ ধারণ করবে তৃতীয়বারের জন্ম ঠেলে শিকড়ের

প্রতিবর্ত ধুয়ে যাবে পোকাকাটা বিয়োজনে অথচ আক্ষেপ গূঢ়

হিংস্র ও অকৃত্রিম আক্ষেপে মৃতবৎসা রমণী দাঁতে গুড়াকু মেখে কী

সন্ত্রস্ত সচেতনে জেগে থাকে সারারাত হাসে গান গায় চিটাল

স্তনবৃন্ত থেকে ইতস্তত ঝোরা উপচিয়ে বিভ্রান্ত করে রতিসুখ

যেন শোয়া মাত্রেই মৈথুন নয় অথচ এতকাল ঋতুস্রাবের

সময় যেভাবে সতী নারীদের পুরুষ্টু পাছায় গোঁজ দেওয়া ছেঁড়া

ন্যাকড়ার আঁশটে গন্ধে বুঁদ হতে হতে কর্মঠ পুরুষের ভাটিখানা

ভরে উঠেছিল হেমন্ত কৌতুকে নান্দনিকতার এ সূক্ষ্ম স্তরগুলি

বোঝার আগেই আছাড় বোঝার আগেই স্বস্তিক চিহ্নের লেপনে

নাটকীয় মর্মঘর উপনীত হয় যোনিতে তর্জনী খুঁচে খুঁচে

উপভোগের পুরনো খেলা আলেখ্য ও আগ্রাসনে বিধিসম্মত জ্বালা

কাকে কতখানি চোষা ও চেবানো সঙ্গত অথচ ভালোবাসা না পেলে

তার দূরে সরে গেলে শরীরে শরীর ঘষা আবিষ্ট মুগ্ধতাটুকু

ঘুড়ির মাঞ্জার মতো জড়িয়ে যায় গাঁটে পাকেচক্রে টেরই পাই না

শুধু টান বেড়ে গেলে আঙুল কেটে রক্ত ঝরে যায় সুপ্ত নেশায়

 

সোচ্চারে বিলীনের পথ ঘুমে চোখ বুজে এলে ঢাকের শব্দব্রহ্মে

রক্তে ভিজে যায় বিগ্রহের পদতল দৃশ্যের ফিনকি দিয়ে এবং

মুখে জল দিয়ে স্তূপীকৃত ছাগমুণ্ডের ওপর প্রদীপ জ্বেলে এসে

হৃদয়ে তখনো যদি নারীমেদ মগজে তখনো যদি সঙ্গমতৃষ্ণা

যদি লোভের স্তনে আঙুল ফেঁপে ওঠে তবে বিশ্বাস থেকে নিষ্কৃতি

ছাড়াতে ছাড়াতে মাতৃযোনিতে এসে মিলনের শ্বাসরোধী পিপাসায়

অচিরেই দেহজন্ম সানুপুঙ্খ পশুভাব আত্মসাৎ করে নেবে

জন্মান্তরের মুক্তি থেকে দূরে নরকের পাকদণ্ডী পথে যেতে যেতে

প্রত্যক্ষদর্শীর সামনেই নিজের মাকে নাঙকল্পে পুড়িয়ে মেরেছ

বহুবার অবোধ পশুর রিপু গলায় কাঁটার মতো বিঁধে থাকলে

খড়্গাঘাতের অতিরিক্ত কিছুমাত্র সহজতর পন্থা বিবমিষা

এড়াতে পারে না সুতরাং মুকুরের অভিঘাতে বিক্ষত হওয়ার

জন্য প্রস্তুত হও প্রার্থনা থেকে হাঁটু ততক্ষণে সরে যাচ্ছে ভেবে

ভুল পাত্রে ভুল মদে রতিকাতরতা স্থায়ী হল বায়ব ভ্রমণ

ভেঙে মশারি খাটিয়ে পরস্পরের শোয়া মৈথুন দোহনের পরে

ঘুম প্রিয় ঘুমে আত্মশ্লাঘা সহজে এড়ানো যায় নির্বাণের ধারায়

ঝরে শ্বাসহীন ঔরসের ফল পরিজনহীনতা মা থেকে দেবীত্বে

অভিষিক্ত করে সমাপতনের ঝর্ণায় স্নানসিক্ত রুধির বস্ত্রে

মদ দ্বন্দ্বে নগ্নতায় দুরূহ শ্মশানে নির্বাসন দেব এ ধৃষ্টতা

মার্জনা করো মা মাগো বামাচারী কবি আমি শ্মশান আমার গৃহ

ইতস্তত ছড়ানো ছেঁড়াখোঁড়া অস্পর্শী পংক্তিগুলি যেন রক্তভুক

কাটামুণ্ড চুল্লী আমার বুভুক্ষ হৃদয়ে শৃগালের অবধারিত

আনাগোনা তুমি দুর্দৈব প্রত্যালীঢ় হও আমারই শবকাতরতায়

 

নগ্ন নাভিসর্বস্ব ঈষৎ সোনালি চুলের কুমার দেবতা আসে

স্বচ্ছ ডানার মুগ্ধতা ছিঁড়ে প্রত্নাহত বন্দর প্রেতের বশীভূত

অন্ধকারে জলবেশ্যাদের গর্ভ ফাঁক করে পুঁতে দেয় মায়াঘ্রাণ

মায়াবীজে সমুদ্রের তলদেশে জেগে উঠছে অপার্থিব আঙুরের

ক্ষেত যা এতকাল দেবতাদের নান্দনিকতার রসের জোগান

দিত আজ তার অপপ্রয়োগে যদি বেশ্যারাও দেবত্ব পেতে চায়

যদি আত্মসম্মানের বেয়াড়াপনায় সুধাপাত্রে দেহ ঢেলে দিতে

অস্বীকার করে তবে দগ্ধ জীগিষায় নাভিমূল জেগে উঠে বলবে

জল দিতে জল জলের অতলে সিঁড়ি এইবারে ঠিকই স্বর্গের দ্বার

পাওয়া যাবে এদিকে নেশাড়ু কবি নিশ্চুপে এসে বসে দ্যুতক্রীড়ায়

সর্বস্ব খুইয়ে আজ বাইজীর ঘুঙুরে মুক্তির পিছুটান তাড়া করছে

কাঠপুতুলের দেহ রেখে সে পাড়ি দেবে বিমূর্তের পৌত্তলিকতায়

তবু তারও আগে যদি কিছু অর্থানর্থ ভেদ করার বিষাদ মাথা

চাড়া দেয় যা এতকাল বাহুল্যবোধে দুচ্ছাই করেছে অনায়াসে

তবে কী আবড়া মাগীর স্তনবৃন্তের মতো ভর্ৎসনায় পতনোন্মুখ

হবে প্রগাঢ় বিষে কী ফণা তুলবে না এই ন্যায্য ফুলেল জলসায়

চেয়ে দেখ দিগ্বিদিক জনস্রোতে পূজারী নেমেছে ধীরে শৃগালের

ধূর্ততা সর্বাঙ্গে লেপন করেছে শয়নের অলখে বিশ্বাস বসে

থাকে চুপিচুপি সিঁদ কেটে পালাবার তালে বলিপ্রিয়ার পূজায়

রজঃগুণে জর্জরিত থেকে মসুরাদি চতুর্দশ বলির নিদানে

অঙ্গচ্ছেদ হেনেছে নিপুণ চৌকাঠে কাত হয়ে পড়ে আছে নিষেধ

গৃহস্থের পাথুরে শরীর কী সয়ে নেবে আত্মার মায়াবী কামড়

বিমূর্তের পুতুল সাঁতরে পূজারী স্বয়ং আদিমন্ত্রে রেখে যায়

নিজের দখল যেন কোনো মিথ্যা প্রণয়ের শেষে হঠকরিতার

ধ্বনি অনুরণিত হল বিলীনে গতি না এলে এ বিড়ম্বনা হায়

এড়ানো যাবে না অতএব গুষ্টিশুদ্ধ আত্মহত্যায় মুখর হও

 

এবং শোয়া ছাড়া যখন আমাদের আর কোনো অস্থিরতা নাই

হত্যার প্রবুদ্ধ ছায়ায় গ্রাম্য তরুণী তার অপুষ্ট বুকে হেঁটেছে

চিরায়ত দীর্ঘ কপালে সামান্য টিপ গহনার ছিরিছাঁদ নাই

নাক সিটকানোর স্বভাবে সতত শ্রাবণ শীর্ণতা মুক্তির দায়ভার

নেবে না শহুরে ছেলেমেয়ের মতো গাড়ির কাচ না খুলেই তবে

টিউওয়েলে হাঁড়িপাড়ার মেয়ে বউদের কোমরে কাপড় গোঁজা কালচে

ও নগ্ন পা দুটি দেখে টিটকিরি করবে এই সত্যের কাছে কবিতার

কোনো মাস্তানি চলে না পাঠ্যের ভিতরে শস্য ও রতি যুগপৎ ঋদ্ধ

হয় বরং পূজারী এলে গণনায় নিদান দেবে শরীর দেখানোর

অতিরিক্ত এ যুগের ঝি বউদের আর কোনো অবলম্বন নাই

 

জুয়া খেলতে খেলতে পৃথিবীসুদ্ধ বাবারা তাদের স্ত্রীদের খুইয়ে শেষে

টঁসে যাওয়ার আগে শিশ্নোত্থিত বোধিলাভ সহজ হয়েছে অথচ

অশ্মীভূত মুক্তির জল চুঁইয়ে পড়াকালীন নিজ নিজ অণ্ড ফেটে

সতী নারীদের অশ্রুরক্তস্রাবে থইথই যন্ত্রণায় হাসপাতালের

করিডোরগুলি ভরে গেল জড়বুদ্ধির উন্মাদনায় শববাহীর

উদরে জ্ঞান উদরে ধোঁয়া একটি আস্ত আকাশ গিলে অস্ত্রের কত

কাছে গেলে বিলীনের শীর্ষবিন্দু পাওয়া যেতে পারে তারও নিকটে কী

আমাদের বসতিবলয় রতিস্রোত বাস্তুভিটা ধ্বস্ত করে যায়

 

ধৃতির অপচয় শ্মশ্রু নির্মোক পুড়িয়ে ফেল জন্ম জন্মান্তরের


 

নিয়তি

 

নিজেকে সরিয়ে রাখো সমুদ্রের ক্ষিপ্র চিৎকারে

কাছে না থাকাই যদি ভালোবাসা মানো শারীরিক

নয় বলে যেন আকাশের উড়ন্ত পাখিটির

ডানায় লুকানো ক্ষত অদূরে যজ্ঞে সমর্পণ

থেকে পা বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে ভাতের গন্ধে ভেজা

নখে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করো দীপ্র আত্মার মোহ

দুদিকে পিচের গলা আমাদের আয়ুরেখা ক্ষয়ে

শোণিতের মধ্যে দিয়ে চলে যায় দ্যোতনা সড়ক

সোনার স্বদেশে নেমে বুঝি তার লোভ হলো খুব

লঙ্কা দাহের নেশা ক্ষমাহীন ক্ষেত্রজাগ্রাসনে

যুদ্ধ জয়ের শেষে যেভাবে ক্লান্ত সেনাপতিময়

নিশীথের প্রাসাদে অবগুন্ঠন মোচড়ায় গ্লানি

লিপ্সিত দাসদাসী অবিরত একা ঘরে ধ্বস্ত হয়

রাজার পরাজয়ে চুরমার ছাপিয়ে রাণীর তীব্র

গোঙানি ভেসে ওঠে ডুবে মরা পচা ও গলিত

শবের মতো অবাঞ্ছিত শীৎকারে সেভাবে কেন

দ্বিতীয় মাংসাশী জন্মে রক্তের উপবিত শরীরে

ধারণমাত্রেই নৃশংস উল্লাসে খুবলে নিচ্ছো

শ্বাসাস্থি ছিন্নভিন্ন বারুদে উপপ্লাবিত মাটির

কঙ্কাল আহা কঙ্কাল  মাটি খুঁড়ে উপচে ওঠা পাঁকে

এই প্যারাডক্সের মধ্যে কোনো দেবতার বৈধ

ছায়াবলম্বিত ঘোড়াশালে এসে পড়ে নি কিংবা

আমারই দ্বিচারিতা উলের বলের মতো ক্ষিণ

গড়াতে গড়াতে অসহায় কুম্ভীলোকে মিশে গ্যাছে

 

চায়ের দোকানে বসে তুমুল ঝগড়ায় সানুপুঙ্খ

বিবরণী আর উত্তেজিত করছে না ক্লান্ত কবিকে

এখন সরিয়ে নেওয়ার পালা মন্ত্রোচ্চারণে

পাপকবলিত আত্মকামে মগ্ন থেকেছে এতকাল

মড়ার খুলির মতো ধীরে শান্তি ও প্রকৃতি দোলে

বমনকাতর বেড়ালের মতো ধুঁকে ধুঁকে বড়ো

গম্ভীর শ্মশানে আসা হল চিতার আগুন তাকে

হাতছানি দেয় নিভৃতে স্তব্ধ খিলানের গূঢ় মোহ

অগ্নি নির্বাপণের ক্রিয়া শেষ হয়ে এলে ক্রমশ

হাত থেকে নির্মাণ পা থেকে নৈরাশ্য দেহ থেকে

নিষ্কৃতি পৃথক হয়ে আসছে দূরের খামারে ঘ্রাণ

পারাপারে খাঁড়া সেতুর গুমোট শুশ্রূষায় জ্যান্ত

অনুতাপ যা পুরোনো দগ্ধতাই মুক্তি ব্রহ্মনাদে

শুয়ে আছে কবি ঘুমোচ্ছে অনৃত মদগর্বে

কঙ্কালে ও সমুদ্রে কিছু কিছু ভালোবাসা ভেসে

যাচ্ছে স্ত্রীর উষ্ণতাহীন চোখের মতো হিম ঘুম

হিম আর্তনাদে এখন নিজেকে সরাও একাকী

ভালোবাসা ফিরে গেলে পচে যায় ডিম হাহাকারে

বিপদপ্রাজ্ঞ তরী আমাদের সন্তান আগলায়

সংক্রমণের মিথ্যে আলোয় বোধশূন্য নগরীর

আমি শুধু তার অধোগামী স্রোতে ভস্ম রেখে আসি


 

অনশ্বর

 

সন্তাপ ও বিষন্নতার মাঝে পর্দা ওড়ে অবিচল

অবহেলিত দূরত্বে সতী নারীদের নিষ্পাপ মৈথুন

ভাসিয়ে যায় যূথচারী স্রোতে অমোঘ বাস্তুরেখা

যেখানে সত্য কাম সংশয়ী লোভ ধ্বস্ত করে একা

 

সন্তাপ বিকারী গুঢ় ভাবে রক্তভুক প্রণোদনা

একে অপরের নখে ঠেস দেওয়ামাত্র মনে হয়

প্রণয়ের অতিরিক্ত পৃথুল ঈশ্বর নাই আর

লোভ গিলে খাবে অচিরেই মোহপিণ্ডে অবতার

 

কেন আলপথে আঁধার বিছিয়ে চলেছ তুমি একা

সান্নিধ্যের অবিশ্বাস টপকে প্রাচীন আত্মার গন্ধে

কী কাম জাগ্রত হল নিজেকে ছত্রাকের আশ্রয়ে

সঁপে বোঝা মৃত্যুই আল গোধূলি চেবায় নির্ভয়ে

 

তবু গোধূলিগুন্ঠনে দুর্বল দেবদূত নেমে আসে

আহত উড়ানে তার এঁটো হয় যোনির কুমুদ

যেন শুশ্রূষার অজুহাতে সতীচ্ছদ ছিঁড়ে যাওয়া

সার বাস্তুসাপের জিহ্বায় তোমার সোমরসে নাওয়া

 

মেদ অনুবর্তী রক্তের কোন্ তৈত্তিরীয় বিষাদ

দ্যাখো রতিহীন আনুগত্যকে আবিষ্কার করেছে

যেটুকু আনন্দ পাওয়ার ছিল শরীরে পরস্পর

ডিম ভেঙে দিয়ে চুপিসারে ভাগে সাপের দোসর

 

এতদ্সত্ত্বেও ঊর্দ্ধ রতি সতীর ক্ষুদ্পিপাসু কামে

সজল চোখে‌ যে বিপন্ন যৌনক্ষুধা নাচে ধিকধিক

তুড়ি মারে মোচড়ায় ঘুরপাক খায় মাদক ও মাতৃত্ব

সংস্কারের মূল ছেঁড়ে তেজি অনুগত যৌনভৃত্য

 

নিষেধাজ্ঞা ভাঙার আগে সংস্কার অধোগামী হয়

তাই এত ছলাকলা সাধা বিছানার আয়োজন

তবু উর্ণাপ্রেতলোকে রমণী ঘাড় গুঁজে সন্তাপে

হেঁটে গ্যাছে ভুঁড়ি থলথলে পঙ্গু প্রিয় স্বামীদের পাপে

 

বিমুখ নারীর স্তনে পুরুষের স্পর্শতুষ্টি ভুলে

চিরকাল নিজ স্তনে তুষ্ট হওয়ার মন্ত্র পুরুষ

যদি না শেখে অনিবার্য সংযমের দুয়ার আছড়ে

বারবার অবাধ্য পেশির বাতিকে গমন নিঙড়ে

 

কার সহজ চলাচল পিতাকে স্মরণ করায়

পরন্তপ বার্ধক্য জংলা পিছুটানে ভাসান আসে

শৈশবের উপদ্রুত জলে অথচ প্রস্তুতি নাও

নিজের নগ্নতায় পিতাকেই যাচিত ভোগ দাও

 

বিকল যন্ত্রে মোহ মেয়ের কোলে শুয়ে ভাসমান

শ্বাসাস্থি বেয়াদব হয়না জেনেও যদি শান্তিক্ষয়

এবং নির্বাণের কিনারে দাঁড়িয়ে পিতা স্তনস্পর্শে

তার স্ত্রীর তৃষিত ছোঁয়া প্রথম পৌঢ়ত্বের বর্ষে

 

ফিরে পায় মোহ মেদ দোহনের শেষে আক্ষেপের

সন্ন্যাস জন্মে বৃদ্ধ প্যাঁচার অটল চোখ সংলাপে

চুরমার বিষণ্ণতার অণ্ড ফেটে পর্দা সনাতন

দেহশূন্য শস্যশূন্য রতি নেতিবাদে সমর্পণ

 

পাড়ে বসে আছো স্থির মোহগর্ভে গোঁজ বাস্তুভিটা

উপদ্রুত হাহাকারে ভাসে মাতৃকার কাটা মূর্তি

ঘাটের কিনারে উপুড় সিঁচ নিচ্ছ কাটা বাঁ স্তনে

 

জল ভেসে যায় দূরে বুঁদ জনতার প্রলেপনে


 

বিষন্নতা

 

কোল ঘেঁষে বসতে গিয়ে হারিয়ে ফেলছো সূর্যাস্ত

তোমার আমার ঠোঁটের ফাঁকে অশ্লীল হিম

 

রক্তের দাগ দিয়ে গড়াচ্ছে জল

জলও তো পাখি জেনো শুকনো ব্লেডের

 

পতিতার আঁশহীন হৃদয়ের মতো

ঘাই দিয়ে চলে গেছে অবাধ্য নগর

 

তুমি আমি সেতুর ওপর

ঘোড়ার নিরাসক্ত দৌড়ে

যুদ্ধে পৌঁছাবো

 

ঈশ্বরের কাছে কোনো ঈশ্বর তো নাই

তোমার শূন্যতাকে বলো কী নামে ডাকি

 

ছড়িয়ে ফেলেছো যত শৃগাল শাবক

পলাশের পাঁপড়ি ছিঁড়ে পথে প্রান্তরে

 

অসহায় পড়ে আছি বিষথলি ফেটে

পরাজিত পুরুষের নেতিবাদ দাঁতে


 

অস্তুত কৌমার্য

 

একটি মৃত্যু থেকে আরেকটি মৃত্যুর মাঝে

কিছু ভাঙা সান্দ্রতরল ছড়িয়ে থাকে

 

বিরহ কিশোরীর বুকে জমে ফুল হয়েছে

কুড়িয়ে আনতে গিয়ে কেটে গ্যাছে মেহেদি আঙুল

 

ত্রিকালদর্শী ঝাড়বাতি ঘুনসির বৈতাল

এ পাতার গাত্রে কেউ পা রাখেনি আগে

 

বোধিকূলে প্রত্যালীঢ় অস্তুত মন্মথ

রিক্ত নৌকার জলছাপে গোষ্পদ চিনে

ভিজেছে পাতা দুটি খয়রি জোছনায়

 

লোভী কিশোরের চোখ কাটছে সাঁতার

মফস্বলী আয়োসুয়ো কাঁচুলি আড়ালে

 

ক্রৌঞ্চবান্ধবী তার যে পিঙ্গল কান্তার

লোকায়তে রটে গ্যালে ক্ষোভ বাড়ে মনে

পায়েসের বাটি হাতে ইরা হেঁটে যায়

 

উনুনে ফুটছে মাংস মেয়েমানুষের

জাহাজ বোঝাই করে আসে ওলন্দাজ

 

বণিকের তৃষ্ণা নিয়ে শুয়ে আছো তুমি

ও বণিক পোষ্য নয় পণ্যমাত্র সার

 

অলক্ষ্যে মাস্তুলে চড়েছে বেতাল ডাকাতির পাপে

অস্পৃশ্যা গৃহিণীর আত্মস্তুদ বিরল অভিশাপে

 

আমার অতীত জন্ম কিশোর নিমাই

বস্ত্র ফেলে রেখে পাড়ে নদীতে নেম না

 

কিশোরীর অনাঘ্রাত স্বেদ থেকে ব্যাপ্ত বনস্থলী

কিশোরীর মহিন বাৎসল্য ক্ষুণ্ণের রসকলি

 

কৃষ্ণচূড়ার রেতঃপাত চুরি করে পালিয়ে এসেছে

তাড়া করে ফিরছে তার মাতৃকলঙ্ক


 

মৃগাক্ষিপুর

 

নদীর বিরান শুঁকে         শবাহত        পর্জন্য শহর

স্পর্শলোভে চারপাই পেতে গ্যাছে পাগলি মেয়েটা 

চাও যদি চলে যাও অকস্মাৎ বনগাঁ লোকালে

 

কলাপাতা শাড়ি মেলা আবাসনময়

ঘেয়ো কুকুরও নাই এমনই উদাসীন

 

নীল ও নরম ওম মেয়েছেলেদের

দুহাতে ঢেকেছে স্তন আহুতির বেলা

তুমি সরিয়ে দিলে তারা লজ্জা পাবেনা

 

লবণ অশরীরী শরীরমাত্রে লবণ অক্ষয়স্থাবর

মহার্ণব সাঁতরে তবু যেন সকলের ক্ষুধার আখর

 

কুমড়োফুলের বাষ্পে চলেছে শকট

দোনলার মুখে দুলে চলেছ কোথায়

এমন বিরসবেলা উঠে যেও না

 

ঘন্টার ধ্বনি            চিনে             ফিরেছে সারস

তেমন শ্রোতা তো নও (শারমেয়) পথ চিনে নেবে

 

প্রাকার ও পাজামার খেদ অভিন্ন অস্ফুটে

মন্থনে তো দোষ নাই অব্যক্ত কামনায়

শুয়ে আছো সারিন্দায় মেঘেদের রানী

পরাঙ্মুখলতা ঘিরে ডাকপিয়নের পথে

 

চেরা জিভ ছোঁক পেতে বসতির হত্যে শ্রাবণ

চেনা নারী ফিরে যায় অভ্যাসের নগরে

 

বিস্মরণ হেঁটে আসে জয়দ্রথ শপথ ডিঙিয়ে

স্মৃতি নাই         স্বপ্ন নাই       বিবশ শকুন্তলা

 

অন্ত্যজ পুতুলের স্তনে উৎসবের দাঁত

উথলে পড়ছে দ্যাখো বস্তুত জোছনা


 

খদ্যত

 

ঝড়ে ভেঙে পড়েছে গাছ আমরা হেঁটেছি যখনই দুজনে

প্রায়ন্ধকারে মহুয়ার রস ভিন্ন পানীয়ের অন্যকোনো

প্রতিকৃতি নাই যা সম্পৃক্ত করবে আমাদের মনে মনে

তোমার বুকের জন্মদাগ ধরে হেঁটে যাবে আমারই হন্য

মায়াশরীর দৈব শ্মশানে কোমলতার নিঃস্বতার ফলক

খদ্যতের দহনে কীভাবে ভস্ম হয় যোষিতের মৃন্ময়ী সন্তাপ

 

এখানে অনেক গোলাপ ফুটেছিল একদিন ফাগের চেয়ে

সুস্থিত কেউ কেউ হৃদয় উপড়ে রেখে এসেছিল নিরালায়

ফিরিয়ে দাও ছেঁড়া পাঁপড়ির দগ্ধ অলক ক্ষত শরীর বেয়ে

শরীরে ঝোলে তারার মাদুলি ডোমের প্রসূত অমানিশায়

চেনা চঞ্চল হাসি অপ্রভেদ্য রমণীর শবে লোভের অদিতি

অনেক রতির শেষে যূপকাষ্ঠে জমে ঢেলা ব্রহ্মচ্যুত শাপ

 

পরজন্মে মালঞ্চ হলে কী সেই পাপ ধোবে প্রস্থানের

উষ্ণবাসরে আমারই প্রতিচ্ছবি দগ্ধতা আকস্মিক

দীর্ঘ অবকাশে ছড়িয়ে যাই কুরুবক জংলি বালকের

ছলকে ওঠে নভোস্রোতে প্রেয়সীরা না পাওয়ার অনিমিখ

স্নানঘর শিলাবনত জংলা ছিঁড়ে তরী সীমান্তের বকে

শুভ্র চাদরে ভাসিয়ে ডানা মেদগলনের পুঞ্জ পুঞ্জ আত্মানুতাপ


 

শুশ্রুষা 

 

নদী পেরিয়ে চলেছ একা

ঈষৎ ঢেউ থেকে কুড়িয়ে নিচ্ছ পাতার শাবক

 

প্রান্তরের দ্রাব ঘ্রাণ প্রায়ন্ধকারে তোমাকে আঁকড়ে ধরে

 

লোনাকীর্ণ শহুরে হাওয়ায়

ভোঁতা হচ্ছে গৃহীর আয়ুধ

 

স্তনের ওমে ভেঙে গ্যাছে চশমার কাচ

যেখানে ছুঁয়েছে ভাপ দৃশ্য ঝরে যায়

 

প্রেতের আদলে পিপাসা গুঢ় হয়েছে 

যে আজ হাজির নয় তার সাথে শুয়ে

 

দূরগামী পাহাড়ের কোলে আগুন জ্বালিয়ে কেউ

সেঁকে নিচ্ছে হেলানো মোরগ

 

গড়ানো জলের ধারা পাখির উড়ানে

তবু তুমি ভালোবাসো অনশ্বর বক

 

বকের স্থিতধী নিয়ে দুরুহ কেল্লায়

ঝর্ণা দু ফাঁক হয়ে ঘেয়ো রক্তে ভিজেছে

 

বিরহ এফোঁড়ওফোঁড় করে ছুটে আসছে তীর

চিবুকে জন্ম নিয়ে খুন হবে ভাবী সন্তান

 

নিজেকে ফুঁড়ে দেই প্রাকারের জ্বলন্ত দীপে

 

রক্তের থেকে আরো সহজিয়া হতে

চিরুনির দাঁতে তুমি বিক্ষত হয়েছ

 

শরীর ব্যতিরেকে

ব্রহ্ম কিছুই নয় পাতার অধিক


 

মৃগতৃষ্ণোপাচার

 

এবং বন্ধুর অববাহিকা প্রণয়ে সাবলীল

তোমার শরীরময় খেলা করে রাধাভাব

দানীর ওষ্ঠে পিপাসায় রবাহূত বাঁশি

তবু দৈত্যের কুশস্খলন ক্ষমাযোগ্য নয়

 

মোহপিণ্ডের শুশ্রুষায় কাদের শরীরে

                                              চারিত হয় স্বর্ণলতাবীজ

কম্পাস বেজে ওঠে ছন্ন উঠানে জ্বালায় কে

                                                   কষাহত পলাশপ্রদীপ

প্রত্যালীঢ়ে বসে থাকে ক্ষুধা

কূল নাই ক্লান্তি নাই পঙ্কিলশ্বাসজলে দ্রাব ভোররাত্তির

খাবি খেতে ভেসে ওঠে মাছ

                                  নিপাতনে সিদ্ধ মৃদু

কামাসক্ত দেবতার ধ্যান কপটতা

 

আকস্মিকতামাত্রে জেগে ওঠে

                                          উদ্ধত লিঙ্গে নৃত্যরতা দেবী

 

যখন তুমি এসে ছুঁয়েছো

            ছুঁয়েছো

                      আমার অস্থি রক্ত মেদ

খাক হতে হতে ঊষর জিঘাংসায়

                             তুলে ধরি নতজানুর মাটি

প্রতিটি মোচড়ে জেগে ওঠে দীর্ঘস্নায়ু

 

আমাকে জন্মান্তর দেবে বলে

গ্রস্ত চাঁদের শীৎকার থেকে নারীজন্ম ঋণ নিয়ে

                                                            অবধূত হয়েছ


 

সংসার

 

ঘর ভেঙে পলাতকা ময়ূরীর ঘ্রাণে

গোক্ষুরের হিমে ভীরু গুপ্তঘাতী সাপ

 

ভেজা ঘাসে আচ্ছন্নতা শিশির নিকোনো

বিষথলি ফেটে পাতা পচেছে সমীপে

 

হাঁসের  পালকে মোড়া বুনো এই প্রেম

হাঁসের মাংসে ঘৃণা সম্মোহন করেছে

 

পুরুষ শিকল হাতে এসেছে শুধুই

রমনী পড়েছে ধরা বাৎসল্যের ফাঁসে

 

সাবেক এই নগরীর মাঝপথে কারা

বন্ধ্যাত্বকে প্রতিবাদে অস্ত্র করেছে