সৌমাল্য
গরাই কবিতাগুচ্ছ
রমণীয়
স্নেহকলসের
পাশে রেখেছি আনত
মুঠি,
যদি ছুঁতে পারি আমিও শিশুর
সঙ্গ
পাব। আমি হব একাধারে
পিতা ও সন্তান
ঘুম
থেকে উঠে ফিরে যাব
গর্ভগৃহে
লেখা
নেই শরীরের যেসব অজ্ঞাত গুপ্তধন
উত্তপ্ত
নিঃশ্বাসে খুঁজব প্রতিক্রিয়াশীল
সেইসব
গোপনতা, চরম জাগাব
শরীরের
উপর শরীর, মেঘে মেঘে ভেঙে
দেব
সমস্ত
দুয়ার। মুহুর্মুহু বৃষ্টি আর ক্ষণিক তফাতে
ঠোঁটের
নৌকাটি দুলবে সংশয়ের ভারে
স্পর্শের
মুহূর্তকাল আগে মনে হবে
স্তন নয়, কাঁপে
তার হৃদয়ের কালো দুটি চোখ...
মীনকেতন
যাও দ্রুতগামী মীন।
জল যেরকম যায়
পুচ্ছবীণায়,
রেখো হে বেগম আলাজ্বিন
নেভানো
আগুন আজ গুণগুণিয়ে এসেছে
ধোঁয়াকে
ধরিতে চায় পুড়ে যাওয়া
ছাই
করকমলালেবুর
পেলব খেয়াল থেকে
উঠে
এসে বসেছে সুরামাছি,
কী রোগ ছড়াবে ছড়াও,
পেতেছি আসন
স্বগত
কার্বন কপি, যতদূরেই সরাও
হেলানো
মুখের পাশে তোমার ত্রিকোণমিতি
দেখেছি
বিকল জাহাজের সফেদ ডানায়
স্যাঁতসেঁতে
আর্তস্বাদ ছুঁয়ে আছে নাভিধূপ
তার-
ই গন্ধ পেয়ে আমিও
এসেছি
তোমার প্রতিটি
কোষে নিখুঁত যাতনা হয়ে...
দূত
আত্মা
ও অতীত, তোমাকে পেয়েছি আমি সূর্যাস্ত বেলায়
যেভাবে
জলেরা ফেরে সন্তরণ শেষে
যেন
সেও এক মাঝি নিজের
ভেতর
ডুবো
জাল ফেলে দেখে প্রকৃত
বন্দর
এমনই
অতল দেশে আলো নিভে
গেলে
সীমানা পেরিয়ে জাহাজেরা ডুবে যায় সমুদ্র
প্রবাহে
সেইসব
সুষুপ্তি পেরিয়ে মনে পড়ে
ছিলাম
সূর্যের দেশে, লক্ষ লক্ষ জীবাশ্ম
কণায়
আকাশের
অমূল্য শূন্যতা চুরি করে
স্বয়ং
ব্রহ্ম ও আমি
অন্ধকার
লোভে পালিয়ে এসেছি
যুগ
যুগ ধরে তাই সূর্যকণাদূত
হন্যে হয়ে খোঁজে
প্রতিটি
অনন্তে আমাদের-ই লুপ্ত পদছাপ
সৌরকণাদের
এই অন্বেষণ হেতু
সূর্যের
আলোক এসে পৃথিবীতে পড়ে...
ম্যাটিনি
শো
একটা
যেকোনো বই তার জন্মের
অনেক আগেই
আরেকটা
অন্যরকমের জন্মদিন দেখতে পায়
তবু
আয়না যেরকম আয়নাকে দেখতে পায় না
তেমন
করেই একটা বইয়ের
ভিন্ন ভিন্ন লেখকেরা
একদিন
রেসকোর্সের মাঠে গিয়ে দাঁড়ায়
ফ্ল্যাশব্যাকে
তখন একটিই ঘোড়া
সাদা কালো বাদামী
ইত্যাদি রঙে রূপান্তরিত হয়ে
ছুটে চলে
যেন
কেউ আগে থেকে ঘটে
চলা তুমুল স্বপ্নকে
জীবনের
পর্দায় সাজিয়ে
সিনেমার মতো করে চালিয়ে
দিয়েছে
দর্শন
চোখ
হল সেই বোধি প্রবেশের
আগে
সারারাত
অন্ধকার জ্বেলে
দুদিকেই
খুলতে হয় আয়না ও
পারা
দু'রকম দরজায় দু'রকম মানুষ
গোলাকার
শূন্যদ্বয় জন্ম- মৃত্যুর পর্দায়
লুফে
নিয়ে ঢুকে পড়লো
একে
অপরের জন্মের
ভিতর...
ওরাকল-
২
ঘড়িগুলি
ঘুমাতে থাকবে
সমুদ্রের তলদেশে,মাছেদের সন্তানকামনায়—
এমনই
এক রূপকথা চেয়েছিল জন্মাতে।
তারাদের
অবস্থান পালটে
তারপর
—
একে
একে এলো
অণুকোষ,
সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম গুঁড়ো, প্রত্নবিভীষিকা
আর ক্রমাগত আত্মপ্রবঞ্চনার সামনে
মানুষের
দীর্ঘশ্বাসে ঘড়িগুলি ভয়ে, দৌড়াতে শুরু
করলো।

