এপ্রিল ২০২৪-এর কবি অরূপরতন হালদার - ১২টি কবিতা

 



অরূপরতন হালদার  

১২টি কবিতা

 


ঘোরানো সিঁড়িরা


ঘোরানো সিঁড়িরা একে অন্যকে পাক দিয়ে উঠে গেছে, নিউরনে নদীখাত জেগে আছে
ওই বাহা পরব, আয়ুষ্মতী নগরী কেলাসিত অশ্রুর দল ওর ভেতরে নড়ে
তোমার ছড়ে যাওয়া আত্মা থেকে আয়োডিন-গন্ধ উড়ে যায়
স্মৃতির নিখিল বাজে, পতাকার গান দেখেছিল কবে
ভাঙা বাঁশি নিয়ে রাস্তায় মাতাল কাহ্ন চলেছেন, ঢেউটিন কাঁপে যমুনা-পুলিনে
শামিয়ানা পোড়ে দক্ষিণে, পাশে নিকোটিন-শ্বাস, মুগ্ধতা, জলছাপে মোড়া পরবাস
মরিয়া বাকলে আছড়ায়, বৃন্তচ্যুত পাতাটি পড়ে যায় মাটিতে
আহারের পুষ্টিরা বেঁকে গেছে পায়ে পায়ে, সমে এসে থেমে আছে নখের নাগর
অঘোর রাত্রি এসে দেখেছিল জবাটি রয়েছে যথাস্থানে
তবু কেন রক্তের তাপ এসে লাগে ভাঙা উপকূলে?
বালিশের কথকতা ঘিরে রাখে শ্রম, ভেতরে ঘুঘুদের ডিমগুলো
ধূসর নীল বিকেল থেকে কথা বলে, শব্দরা লেগে আছে অদৃশ্য তারের শরীরে
প্রোটিন সমগ্র ভেঙেচুরে যায়, তুমি আমার লাল সাইকেলে চলে গেছ দূরবর্তী শহরে



ছায়ানট /


সূর্যের গায়ে ধোঁয়াশা জড়িয়ে যাচ্ছিল
সিগারেটে ভেসে এল রত্নখচিত আগুন
আত্মা কি কোনো চৌখুপির ভেতর ক্ষিপ্র অথচ বেদম একটা নকশা
যা সন্ধ্যায় সরে যায় কফি টেবিল থেকে দূরে একটা আলগা ছায়ার নিচে?
ঘাম গড়িয়ে নামছিল, কিছুটা অসহায়, আর তোমার মধ্যে
শিস দিয়ে উঠল আঁধার জমিন, ঝরে পড়া আলেয়ার গুচ্ছ কেঁপে ওঠে
একটু অবাক তুমি, ভাবছিলে একটা রঁদেভ্যু কিভাবে তলিয়ে যায়
দৈবী আঙুলের ছোঁয়ায় আর তারাদের সমাপতন মানে
নতুন কোনো মুখোশনাচ থৈ থৈ জলের উপর
বিন্দুবাহিত আষাঢ় মরে গেল, আমরা মিশ্র জাতক
ঘুমন্ত ফ্রেম থেকে পক্ষীরাজ ছিটকে বেরোয়, তার দু চোখে মরণ
একটা মাঠ জ্বলে ওঠে, আমার স্মৃতির মধ্যে ফুলেল রুমালেরা
রক্তের অভাবিত তরঙ্গ ছিঁড়ে ফেলে, দিওয়ানা নাচিয়ের দল এসে
সারারাত ধরে ঘিরে ফেলছে তোমার ছায়া


ছায়ানট /


ঠাণ্ডা মাথায় জলছাপগুলো মুছে ফেলি
ওই ব্লু মুন আর এক করোনারি আঘাত জেগে উঠছে শহরের ধমনিতে
তাপ কাঁপে, এই লগ্ন যেন ঝড়ের, পাতাদের ক্রোমোজোম থেকে
ছায়ার আগল খসে পড়ে, তোমার আক্রান্ত মিনার ক্রমে ভেঙে যায়
মন পুদিনার গন্ধের থেকে আরও দূর, একটা ক্লান্ত বনের মধ্যে
কেউ অক্ষর হারিয়ে ফেলছিল, ধ্বস্ত আঙুলেরা 
দূরে দেখে চাঁদোয়ার নিচে আগুন তাদের  ডাকছে
আর সে ফিরে যায় তার নিজের ভেতর, সেখানে রাস্তারা
বহুরঙ নিঃশব্দতার কথা বলে, সে রঙের ভেতর বিন্দুরা
নিচু হয়ে নামে কোনো পুরোনো বাসাবাড়ির দেওয়াল বেয়ে
মনস্তাপ ঘেমে ওঠে, সুরবালা সোমের অসাড় পায়ের নিচে পিঁপড়ের স্রোত
তুমি জ্যাজ গিটারের শেষ তারে লুকিয়ে ফেলছ একটা পাথরের মুখ
ক্রোটনের পাতাগুলোয় নতুন ঢেউ আমাদের গুঞ্জন থেকে জেগে ওঠে 

 

চক্রব্যূহ


একটা বিরতিই কেবল জানে তার কেঁপে ওঠা
আমি মুখ ডুবিয়ে দিয়েছিলাম তোমার জঙ্ঘায়
আর বিদ্যুল্লতা তার হাত ঢুকিয়ে দেয় আমার ভেতরে
শামিয়ানা পাক দিয়ে নেমে যায় অতলে
তোমার বুথফেরত মুখ থেকে গর্জন তেল গড়িয়ে গেল
একটা পাথর কেঁদে উঠতে চেয়েছিল খুব আর ওই কাচের শহর
মৃন্ময় জাহাজের আলো খেলে বেড়াচ্ছিল আমার টেবিলে
ঘড়িটা একটা ছুটির ব্যস্ত দিনে জড়োসড়ো হাতদুটো থেকে ঝেড়ে ফেলছিল মুহূর্তদের
দৈব ফেনার বীজ এক লিখন তোমার প্রতিটা তির ফিরিয়ে নেয় তার বুকের ভেতর
এখান থেকে শুরু হওয়া ধ্বনি জেড গাছের পাতাদের মধ্যে ডানা মেলে দেয়
সকাল যে মধুর আয়তন নিজেকে পাল্টে ফেলে কিছুক্ষণ পরেই গলিত নিঃশ্বাসের স্তম্ভে
জড়ো করে সব জড়িবুটিদের, তোমার দিকে তার লক্ষ্য স্থির
পাগল একটা নকশা এরপর তার ধ্যান থেকে উঠে যায় দূরান্তের দিকে
তুমি এইসব ছায়ার আদত না জেনেই নাচের বিহ্বলতা দিয়ে মেপে নিচ্ছিলে গাছেদের আর 

মেঘেরা সারা দুপুর ধরে ঢুকে পড়ছিল একটা চক্রব্যূহের ভেতর



নিসর্গ, অনেক মৃত্যুর ভেতর


পুত্রকন্যারা গভীর কোনো সন্ধ্যা, জনান্তিকে আলাভোলা মানুষ এক

বলে গিয়েছিল কিভাবে তুমি খোঁজ পেতে পারো হারানো নৌকাদের
পোড়া ঘাস বয়ে যায় নদীর জলে, আর মুখের উপর
মরণের দিগন্ত ঢলে পড়ে, ফলের গূহ্য শাঁস ভেঙে যায়
অ্যাশট্রে নির্বিকল্প সমাধিতে ঢুকে গিয়ে স্থির, আর ধরো
ওই টেবিল ল্যাম্প, ঘড়ির হৃৎকেন্দ্রে জ্বলে ওঠে, নিভে যায়
সারারাত ধরে একটা হাতের পাঞ্জা ক্রমে আরও রোগা
বর্তুল ওই পৃথিবী তোমাকে ছুটিয়ে নিয়ে যায়
তার অজস্র কণা থেকে একটা ফাঁপা অন্ধকারে
তুমি দেখ টায়ারের দাগ সাপের দেহের মতো নড়ে
মাটি পায়ের নিচ থেকে আরও কিছুটা দূরে
তোমার জিভে জড়িয়ে গেল কোনো একটা মুহূর্তের উপাখ্যান
যা নেই তেমন সবকিছু একটা গ্রহান্তরের বিষয়, আমরা সেসব                                        

উদযাপন করি আর উড়ন্ত চাকির পথ চেয়ে বসে থাকি
দৃশ্য একটা আরক্তিম ছায়ায় দেখে সহজ হয়ে আসা মৃত্যুকে



অমৃতসমান


বৃষ্টি পড়ল, স্নান, স্নানের জঙ্ঘা হরীতকী ফুলে ঢাকা, পাগল
গ্রহের আলো পড়ে এল, এই দেহাবশেষের মধ্যেও কিছু গান
কুয়াশায় মোড়া, তারা জেনেছিল চান্দ্রমাস ভেঙে যায়, তবু
গৃহস্থ পাড়ায় দুধ উথলিয়ে গেলে আহা মরি মরি সে এক বাহার
ঘ্রাণ নিয়ে যায় বিড়ালের গোঁফ পথের প্রান্তটি বেঁকে গিয়ে
শোনে সূচপতনের শব্দ যে নীরবতায় সে আমার জানলা পেরিয়ে
একা দেখে কুরুশ-কাঁটাটি শয়ান ছেড়েছে কবেই, এত মহারব
নেমে যায়, ওই দূর লক্ষ্য আসলে ভেতরে কেঁদেছে, শিশিরে
জল জগৎ হারায়, একটি পরত মুছে এল, সাহানায় ডাহুকীর
গলা ডুবে গেলে ক্ষারের মাতন এমন ঐশী, স্বাদ পুড়ে গেল
জিভের অহৈতুকী লালে, ফেরাও এবার পাতকীর চোখ, মন্ত্রও
সমাচ্ছন্ন মাথা নিয়ে পড়ে যায় নদীজলে, লোনা দিন পুরবের
মায়া বেয়ে চলেছে আঁধারে, কষ বেয়ে ব্রহ্মজ্ঞান নামে, এই প্যাঁচ
তুমি কষো তোমারই চোরাটানে, এমত কথা আজ অমৃতসমান 

 

বেগানা


হাওয়াকল থেকে সূর্য নেমে এল আমার ধুলোর ভেতর
দরবারি কানাড়া থেকে মুখ তুলে দেখ তোমার দেহে উথলে গিয়েছে কবেই
সে দুধের পাত্র, বুকশেলফ থইথই করে সমুদ্রে
দরজার আগল খুলে দিয়েছিল রক্তিম চড়াই
শব্দের নীলাভ বিকেল গা ঝাড়া দিয়ে উঠে এসে দেখে
স্তম্ভের গা থেকে খসে পড়ছে মেঘের টুকরো, দূরান্তে ছড়িয়ে থাকা তাঁবুরা
উড়ে গেল এক একটা পৌরাণিক দ্বীপের মতো
একটু পরেই সন্ধ্যার গা খুঁটে খাবে লুপ্ত পায়রার দল আর অনন্তকাল 
পুড়তে থাকা টেবিল ক্লথ তোমাকে ডেকে নেয় ঘুমের ভেতরে
গানের খাতায় শস্যরা বাদামি হয়ে এলে দেহ বেয়ে আলপনা অবিরাম ঝরে
যেন প্যারাট্রুপারেরা মহাশূন্য থেকে নামে আদিকাল থেকে
মনকেমনের নাও দোলে গলির ভেতর আষাঢ় ডুবে যায়
আমাদের জীবনের থেকে দূরে পুরোনো কাগজের অক্ষরে
মালবিকা ফিরে এল আমার দুপুরে একটা লড়ঝড়ে হলুদ ট্যাক্সিতে
যে ময়ূর কাল শিয়রে এসেছিল পেখমে আগুন দেখে হেসে ওঠে
সারারাত ধরে আজ তার নাচ পূবের মাঠের বাজ-খাওয়া গাছটার নিচে



স্বাদ


শুয়ে পড়ো, কোনো প্রামাণ্য ঘুম নেই আর
কোহল-শাসিত চাঁদ চৌরাস্তায় পড়ে আছে, মৃদু চোরাটান ছিল বকের                               

উদ্ভাবনী গান ঘৃতকুমারীর আলো এসে
আমাকে জড়িয়ে নিয়ে চলে গেল তোমার শাঁসের মধ্যে
হে অদৃষ্ট, এই লেখা উদোম পুরাণে চান সেরে
মাছিদের ভয় নিয়ে খেলা করে, তোমার বীজ
তোমাকেই পেড়ে ফেলে আরও লাস্যের ভিড়ে
তারাদের পাড়ায় ব্যাবেল টাওয়ার ছিল?
ওই বাতিদান ক্ষীণ মাংসের ভেতর দিয়ে চলে গেছে
কামুক রাত্রির দিকে, স্বাদ কী আহাম্মক !
তুমি মুরাকামি ফেলে এসেছ গত রাত্রির ভেতর...
সমুদ্রের তীর থেকে কাফকার মনে পড়ে ভাঙা দুর্গের কথা
এত ভাসান, টলোমল ঘুম চোখে আজও হাঁটো নিষিদ্ধ গলি বেয়ে
পড়ে যাও বহু নিচে, এই শ্বাস যেন নিয়তি
বিছানায় কোমল রেখাব জ্বলে যায়
ঘাসের শেকড়ে জবাটির করুণা নেমে এল



প্রলয়


অহেতুক শব্দদের ওলোটপালোট করলে তুমি। একটা নিশান কতদূর 

তূরীয় হতে পারে তুমি জানো। বুড়িগঙ্গার নিচে রাত ফেটে যাচ্ছে, আর 

একটা জ্বালামুখ বন্ধ করে দিচ্ছিল কেউ, যেন সমর্পিত। তুমি টেনে নিচ্ছ                             

ব্রহ্মাণ্ড আর সরু সুতোর উপর দিয়ে হাঁটছিল পূর্ণা মাহাতো। তার স্তনের                              

বিভায় পৃথিবীর ঘূর্ণন হঠাৎ থেমে যায়। সমুদ্র ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরে,


ঘর ঢুকে পড়ে কুমড়োর বীজগুলোয় আর পাতারা এই প্রথম তাদের 

শিরায় রক্তের প্রবাহ টের পায়। আমার সমস্ত আলসেমি মৃত বেড়ালদের                           

আত্মায় ডানা মেলে দেয়। যত দূরেই যাও, এক ক্ষিপ্রগতি বঁধুয়া তোমার 

সঙ্গে সেঁটে থাকে সারাদিন। রাতের ওই দুর্মর শ্বাস, হাপরের শব্দ শোনো,                           

লক্ষ্মীর পায়েরা এক এক করে পুড়ে গেল। মাসকলাইদের মরণ ঘনিয়ে 

এলে কোণাভাঙা একটা তারা তোমাকে দেহতত্ত্বের গান শোনায়। 

 

 

 

অস্ত্রের কাল


ঘোটকীর রেশ থেকে যায়। ওই হাত তুমি বার করে নাও রেশম পিরান 

থেকে। দুলিয়া তোমাকে চেয়েছিল। এত বাহার, তাঁতসমগ্র কুয়াশার

মধ্যে খুলে যায় দিকচক্রবালে। লোহা গরম হয়, ঠাণ্ডা হয়। জবানে

হিমের রাশি নেমে এলে একটা যুগ যেন হাজার বছর। ঝিমধরা কাপ                                   

থেকে আলো ওড়ে, প্রাণবন্ত মেয়েদের ঠোঁট দুমড়ে গেল, অস্ত্রের কাল                                

জঙ্ঘা বেয়ে নামে। ব্রহ্ম তুমি, রাস্তায় একটা গোলমাল আমাদের                                    

স্নায়ুপথে কবেকার ভবঘুরে। ওই তো চাঁপাফুল, তার গর্ভ তুমি নিকেশ                                 

করো। দেওয়ালেরা  মিলিয়ে গেলে একটা স্বর আপেলের লাল

খেয়ে ফেলে।


তোমার ক্ষতরা আর পুনর্নবীকরণযোগ্য নয় জেনেছ সবে। টুকরো                     

ছায়াপথ শ্বেতকণিকাদের দঙ্গলে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে পড়ে। কাঁচা                               

আনাজেরা গমক শিখেছিল কাল রাতে। প্রতিটা এপিটাফ অন্ধ হয়ে

এল সবুজে।



এই আয়ু। নদীবিধৌত সন্ধ্যা ফুঁড়ে যায় মিনিটের কাঁটা। একটা খোঁয়ারির

উল্লম্ফন আমাদের পৌরাণিক গাছেদের কাছে নিয়ে যায়।



দ্বাদশপদী


তুমি তরুণ ভাগ্যবিধাতা মনে করেছিলে আমাকে, অথচ ভেতরে নাও 

সমুদ্রের বহুতল। তার নীলাভ অবদমন, বাইপোলার সিঁড়িরা সারাদিন
তোমাকে ডেকে যায়। হঠাৎ একটা আপেল জ্বলে ওঠে তোমার সমগ্রের                              

বাইরে যেন হুতাশন আর মোগরবাতির গন্ধ ওলটপালট হয়ে যায়।                                  

বাজারের ভিড়ে লক্ষ করো চাতুর্য তোমার জামার কলারে দপদপ
করছে আর দরদামে অনভ্যস্ত তুমি নুয়ে পড়ো অর্বাচীন ঢেউয়ের নিচে। 

আমি এবার শিকে ছেঁড়ার অপেক্ষায় থেকে যাব অনন্তকাল আর
আমার মূর্ধায় একটা তোরণ পুড়তে থাকে। তার ছায়া চিরবহমান
সংখ্যায় ফুটিয়ে তোলে নতুন পাখিপুরাণ, কিভাবে ছাই স্পর্শের আদি
অন্ত হয়ে ওঠে। জালিম লোশনের বিজ্ঞাপনে ভরে উঠছে দেওয়াল।
এরপরে তুমি সন্তর্পণে কাগজের নৌকোদের ডেকে নাও, তোমার 

প্রার্থনার মধ্যে ভেসে যায় অগণ্য ইমোজিতে মোড়া একটা সকাল।



পূর্বমেঘ


যেভাবে ভেঙেছি তোমাকে তারপর নেমে আসো পুরোনো ঘামে
ওই নতমুখ মিনতি করি জলের উল্টোপিঠে ফেলে দাও
ওইখানে অন্ধকার, ভয়ের চাতাল একদিন শাঁসালো দিনের মধ্যে ফিরে
দাঁতে তুলে নেয় আরও শরীর, অহং যেন আমার হয়, আমার পাপ
ওই মরা চাঁদ একদিন বুঝে নেবে কিভাবে তামাদি হয়েছে শস্য, মনস্তাপ
যেভাবে ক্লীব শুয়ে থাকে নিজের ভেতর, দেখে হ্রস্ব আলোর বাগান
ভেঙে যায়, ওল্টানো থালায় নেমে এল পাথরের শব্দরা
ফুলের দৃশ্য সাজিদ দেখে যেন হিরণ্য দুলে ওঠে, অমৃত নিয়ে এসো
এই পাত লক্ষ করো বহু পতনের পর আজ নম্র হয়েছে
অবান্তর হাসিগুলো টেবিলের চারপাশে ঘোরে
তুমি টেকনাফ থেকে ফিরে এসে দেখ নৌকোগুলো উঁচুমুখ
তোমাকে চেয়েছে যেন করুণ পোষ্যটি তোমার
সমুদ্র, তোমার নীল ঘর ভেসে গেল ছাইরঙ দুপুরে
হেন আর্দ্র খবরে কিছু যায় আসে হৃদয়ের ?
ওই গোলার্ধ তোমাকে জড়াবে এবার নতুন গেলাসে মদে
তার আগে ধীরে, শান্ত হাতে ছিঁড়ে ফেল উল্লিখিত জামা অক্ষর