জুলাই ২০২৫এর কবি ইহিতা এরিনের কবিতাগুচ্ছ


 



ইহিতা এরিনের কবিতাগুচ্ছ

 

 

. নৈশ দীপদল || 

 

দীপদল

 

এমন রাতে সাঁইয়া গেয়ে ওঠেন 

 মিঞা কি মল্লার 

 

বৃষ্টির শব্দে রাতের  বন্দিশে ভাগ ভগ্নাংশ যেন নদী

 

 দীপদল   কার অপেক্ষায় থাকে আজ ?

 

 

হাসি থেকে ঝরেছে হাস্নাহেনা ঘ্রাণ 

 

- চারদিক

 পৃথিবীর সবচে  দামী পারফিউমও (দামী

 

সেই সুর   সুরা 

 

ব্যথায় রিফু করে মনের ক্রিয়াকর্ম 

 

অথচ হাঁটতে হাঁটতে মহাবিশ্ব হয় ফসলি জমি 

 

আর ঠোঁট

তৃষিত আকুলতায় ছুঁতে চায় ছায়াদের  বিজনবাড়ি 

 

 

য়ে এ্যা মি নি

 

দেহ থেকে খুলে যায় পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের নাটশাল

 

ফুলত্রাসে বন্ধ হয়  না  গন্ধের উপমা 

 

মহামতি শুনুন 

 

যেহেতু আপনি নিরংকুশ ফুল জাতক

 

অতএব তাঁকে মেলে দিন মৃতের গায়ে মিশে থাকা ফুলেদের সংবেদ 

 

তার ছায়া আসলে দূরের পরবাসী ফুলেদের বিষাদময়তা ۔۔۔

 

হে  দীপদল

 

. ডাক-হরকরা ||

 

যেখানে নিশ্চিত মৃত্যুর গন্ধ মেখে  উড়াল আঁকছে  শূন্যতার চিল

 

সেখানে হেঁটে গেছে আমারও পাহীন পায়ের পাতা 

ঝরে রক্ত ঝরে রঙের ব্যবহারিক শামিয়ানা

 

নিজেরই রক্তমাখা মুখ হাতে নিয়ে ডেকে যায় ডাক-হরকরা

এদিকে দেয়ালেরও কান আছে তবুও রাষ্ট্রের কেন চোখ, নাক, কান নেই!?

 

 

 কাঠের চশমা পরিহিত নিপোশাক রাষ্ট্রের গায়ে পৃথিবীর যতো কফ, থুথু আর ধুলোময়লা... 

আমিই সেই ডাক-হরকরা যে নিজের কবরে শুয়ে রাষ্ট্রের অসুখের চিঠি বিলি করছি 

 

. দরজা ||

 

ঠোঁটের মুদ্রায় হাসে সাঁওতালি মেঘ 

সোমবার থেকে খসে পড়ছে নৃত্যরত জল

ডাঙায় মাছ, জলে অস্ত্র ভাবছি কোনদিকে যাবো!

 

পথের অনেক দিক থাকে, তবু যাই না কোনো পথে যদি হারিয়ে ফেলি আপনজনের মতো সন্ধ্যা!

সংগোপনে সন্তর্পনে জোকার খুলে নেয় রাতের চারুকলা

বিষাদের সুর খুলে নেয় দূরের বেদনাগায়ক

 

চীৎকারে -শীৎকারে শরীরের ভাঁজ খুলে যায় 

বেরিয়ে পড়ি পৃথিবীর প্রবেশদ্বার খুলে,

দরজা বলতে আজও আমি পৃথিবীর প্রবেশদ্বারকেই জানি

 

 

. ছায়া কুয়াশার ছবিগুলো ||

 

 

যে ধ্বনি ঝুলছে আমার জুতো থেকে

নিপুণভাবে শুনছি তার মৃত্যু-শব্দ

 

ঝুলছে স্ফটিক 

 রঞ্জিত এক দুষ্ট ছায়া

এভাবেই অতিক্রম করছি সমস্ত আয়তন

 

 এক বালিকার পথে,

প্রসবাগারে দাঁড়িয়ে তুলে ধরলে  কাঁধ

সত্যি বলছি, কেউ নেই কারোর জন্য অপেক্ষায় 

 

 অতঃপর নমনীয়

 কুয়াশা আর ভাসা ভাসা কণিকার অবয়ব 

 

 তারপর স্বপ্ন এবং 

বেজে ওঠা 

যে ধ্বনির ব্যথা টের পেয়েছে যান্ত্রিক  টেলিফোন

তার অরব মৃত্যুর পরও জেগে থাকে অনাঘ্রাত ব্রহ্ম ۔۔۔۔

 

কেবল পরম্পরায় সেই সীমা ۔ শব্দের অনতিসজ্জা 

দেখেও দেখিনি

 

. অন্তর্ঘাত সমীকরণ

 

রাতের ময়না(তদন্ত) মূলত কাঁচা ভোর

অতঃপর রোদেরা সেলাই হচ্ছে সূর্যের কার্তুজে

কু(আশা) ফাটল চিরে মানচিত্রের হাহাকার...!

 

সপ্তকাণ্ডে লেখা  ছাব্বিশ পৃষ্ঠার নথিপত্র

ভ্রাতুষ্পুত্র কিছু যোগ্য ফিকশন 

ডিসেম্বরের বুকে উৎ (শব

তড়পাচ্ছে মাটির শ্লেষ 

 

হাতে যখন রেমেডির তাবিজ

ঝুলিয়ে ঝুনঝুনি তলায় মেজাজ ভি খোশ

 

আড়াইঘরের প্যাঁচাল শেষে 

হারজিতের প্রশ্ন আসতেই পারে____

ডলার অস্ত্রের মধ্যে কে বেশি জিম্মিকারী?

 

. বিপরীত পথের সমষ্টি

 

তোমার বলার ভঙ্গিতে হেসে ওঠে বৃহস্পতির কাঁচাপাকা রোদ

নামের মুদ্রার পাশে নাচে নভেম্বর রেইন।

 

উপেক্ষার কাঁটাগুলো হো হো নিঃশব্দে হাসছে; কলাপাতার মতো বাঁকা হাসি,

জোয়ার এলে সমুদ্রের দরজা খুলে যায় অথচ তোমাকে খোলা যায় না। 

 

ঢেউয়ের সাথে মেতেছো তুমুল 

শিশুবেলার মার্বেল খেলার মতো,

ভালোবাসার অধিক দ্বিতীয় কোনো অন্যায় করি নি কোনোদিন 

তবুও আমাকে টপকে গেলে সুদীর্ঘ বনস্পতির ছায়ায়।

 

ছায়ারা দীর্ঘ হচ্ছে আর ক্রমে দূরে সরে গেছো দক্ষিণ দিক থেকে

সেই থেকে আমি দক্ষিনমূখী হয়ে হাঁটি না। 

 

 

. জ্যোৎস্নার জলে ধোয়া হাত ||

 

জ্যোৎস্নার জলে ধোয়া হাত দেখে মনে পড়ে

আঙুলের আয়োজন

জলে ফাগুন ফুটতেই পারে যদি জলে চুমু খায় জল

ভৈরবী রাগে বাজে সমুদ্রের ঢেউ

অষ্টম পৃষ্ঠার জলে ঝরাপাতার কারুকাজ

 

ধরা যাক, জলের জ্বলে জালে ফুটে আছে 

অমাবস্যার জ্যোৎস্না 

এমনতর রাতে গিটারের কর্ডগুলো বাজাচ্ছে ঢেউসমূহ

 

ফানাফিল্লাহ বাজাও নুনহাসি

সমুদ্রশিশির, আমাকে দাও কুলকুল জীবন

অমরাবতী হতে চাই জলসঙ্গমে

 

. স্বপ্নগুণ কিংবা সুরব্যাঞ্জন ||

 

 

   এমন পাত শেষে বেজে ওঠ বে(শরম)  

                           সা রে গা মা... শরীর। তরল। মৃদঙ্গ

সুরের সমষ্টি  নিয়ে আরো আরো দীপক।

 

একসাথে পোড়ো

পোড়াওশেষতক জ্বলে ওঠো এলিডি বাল্ব

দৃশ্যত অধিক বাঁশির ছিদ্রপথ 

এক একটা যোনি অথবা তার নিকট প্রতীক

 

ফু ফুৎকার

      পৃথিবীর চোখে ঘুম              নামুক, নেমে আসুক

                 কোন কারণে উহা স্বপ্নগুণ নইবেক!