ফেব্রুয়ারি ২০২৩ বর্ণজিৎ বর্মনের ৫টি কবিতা

 

 


বর্ণজিৎ বর্মনের ৫টি কবিতা

 

 

  সৃজনী 

 

 

গণিতজ্ঞ দরিদ্র টুডু জানে 

 

ত্রিভুজ সংসারের মাঝে 

 

খিদে চড়ে 

অতিভুজের মাথায় 

 

পেট চুপসে যায় কেরিব্যাগ দ্রব্য খালি করার মতো 

 

আমি স্কেল শক্ত হাতে  ধরি 

দরিদ্র আর জীবনের পরিমাপ করার চেষ্টা করি  

 

মূর্খ জ্যোৎস্না এসে এলোমেলো করে মাঝে মাঝে

 

সমস্ত হিসাব খাতা 

বক চিল উড়ে মাছরাঙা 

 

 

কতো বলেছি না , না হবে না 

তবু ইংলিশ যৌবন দুয়ার ধাক্কা দেয় বসন্ত ছ্ন্দে 

 

অনুভূতির জানালায় 

ক্ষমতার ঘনত্ব গাঢ় হলে প্রতি বর্গমিটারে 

সবুজ গাছ জন্ম নেয় 

গড়ে ওঠে নতুন ভারতবর্ষ

 

 

   উপহার 

 

একটি নীল রঙের দিন জেলখানায় উপহার পেতেই 

কাশীনাথের অগোছালো মনে খুশির নদী 

 

 

আহা সে কতো দিন অভুক্ত ছিলো 

বিরক্তির ছোপ ছোপ দাগ কেটে যায় তার 

 

 

অনুভূতির বিছানায় তখন 

বিজয়া দশমীর রুপঙ্কর মিছিল

 

এক পেগ দুই পেগ সন্ধ্যার রূপ গিলে খায় 

 

সে কিশোরীর ভাগ্য খারাপ ছিল সেদিন 

সেজন্য সে -উচ্চারিত পথে পুড়ে গেলো

 

 

মন প্রজাতি ডুবে যায় 

লাল নীল হলুদ সমুদ্রের অনির্বাচিত স্রোতে 

 

 

 

সেই শতাব্দী জেনে গেছে 

একটি সমগ্র কিন্তু কিন্তু নিয়ে সময় কিছুই করে না 

গামারের বন একা শুকতারা নিয়ে কাল কাটে 

 

 

 

জীবন উত্তরের স্ব স্ব ক্ষেত্রে 

নীল ঢেউ 

একটি করাল গ্রাসের নাম 

সংক্রামকব্যাধি থেকে মুক্তি পেলেই 

জীবনের চুড়ান্ত চূড়া স্পর্শ হয়

 

 

 

 সন্ধ্যার এক কাপ চা এবং চাঁদ

 

এখনো খুব মনে পড়ে 

মাস্টার বাড়ির পুকুর পাড়ে জোনাকির প্রেম কবিতার

অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপির কথা  

 

আমি পড়েছি কী মাধুর্যময় ভাষা 

শরতের পদ্মের মতো আকর্ষক চোখ 

পঙক্তিতে লেপ্টে যুবতী সবুজ ঘাসে যুবক শিশিরের ঢলাঢলি

 

 

 

চকো দি বলে 

যেন সন্ধ্যার এক কাপ চা এবং 

চাঁদ 

ফুটেছে বিনানই গ্রামে

 

 

 

 

   আদিবাসী বাড়ির জ্যোৎস্না 

 

ইদানীং ভালোবাসা ভাবলে 

আদিবাসী বাড়ির জ্যোৎস্নার কথা গ্রাম্য উঠোন জুড়ে খই ফোটে 

তরুণ ধুতুরা ফুলের গন্ধ ভেসে আসে কাব্যময় রূপে 

আমি জানি 

কোচবিহারের তোর্সা নদী আর সম্পর্ক কতো গভীর 

অনুভূতির প্রকাশ 

তবু ঝিনুক ডাঙার প্রকাশনী পাত্তা দেবে না

কদর আর পালিত কন্যার ইতিহাস

 

 

পাবে sensitive  নিম গাছে

 

 

 

 

 

 বাড়ি 

বর্ণজিৎ বর্মন 

 

গোপনে যাকে সব বলি উলঙ্গ রাখি বাঁশি 

এক দু নয় সাত জীবন ভালোবাসি 

 

দিন শেষে সন্ধ্যা নামে সাম্রাজ্য অবসান 

ফিরে আসে সব পাখি স্বতঃস্ফূর্ত গান

 

 মায়া খেলা লিখে রাখে 

বৈকুণ্ঠপুর ধাম 

নতুন কাব্যগ্রন্থ শালুকের ফুল 

এই দুপুর রাত্রে নতুন জনম