চিত্রকর
ছবিদের
বাড়ি থেকে তুলিদের বাড়ির
দূরত্ব
গঙ্গা
নদীর এপার ওপারের মতো
মাঝ
বরাবর চরা, চাষ আবাদ
মানুষজন
ডানলপ
খেয়াঘাট থেকে দেখা যায়
নদীচর
জুড়ে যাপন রচনা গড়ে
ওঠে
এরকম
গৌরবের চোখ চিত্রকরদের থাকে।
বন্ধ
কারখানা শ্রমিকের মতো চিত্রকর হেঁটে
যান
গায়ে
তাঁর রং তামাশার চাঁদর
জড়ানো
পায়ে
পায়ে যতটুকু পদচিহ্ন ততটুকু শিল্প
শেষ
টুকু জীবনযাপন ---সাপের মতন!
প্রণয়
চকিতে
উড়েছে ধুলো। ধুলো, মাটি নতুন কিছু
না
আজন্ম
পৃথিবী থেকে যে দূরত্ব
বেড়েছে আমার
আমি
তার পরিমাপ মেপে মেপে জল
ছেটাবো না
নিতান্ত
প্রণয় হোক রবীন্দ্রসঙ্গীত
সুরে
সুরে ভেসে যাবে আমাদের
অন্তর্জলি যাত্রা
বিচ্ছেদের
পারাপারে তবুও পেছনে তাকাবো
না
লজ্জাবতী
গ্রাম
বিছানার
চাদরের মত আমরা দুজন
শরীরে
শরীর পাতা। প্রচন্ড দূরের গাছে গাছে
সম্মুখে,
ঘোমটা পড়া লজ্জাবতী গ্রাম
দিন
দুপুরে এখনো শেয়াল বেরোয়
চেতনা
জাগায় অল্প বিস্তর দারুন
অহংকারে
এমন
রূপের কথা তোমাকে বলবো
না ভেবেছি!
যে যে স্থান তুমি
পছন্দ করতে
সেই
সেই স্থানে প্রণতীর বড় হয়ে ওঠা
তোমার
কাঙ্খিত সরু ফিতের ব্রা---লজ্জাবতী গ্রাম
বন তুলসীর ঝোঁপ ঘেরা নাম
না জানা পাহাড়
শরীরে
শরীর বেয়ে ঝর্না গড়িয়ে পড়েছে মুখে
আঃ কী দস্যি মেয়ে
দেখো
বৃন্ত
চেপে ধরতো ফোকলা মাড়ির
চাপে
এমন
গ্রামের মতো রূপ আমাদের
প্রণতির।
সাম্রাজ্য
আর সম্রাট
কতগুলো
ফুল পেলে একাকী বাউল
হওয়া যায়
বাউল
ফকির হয় ঠিক কতগুলো
ফুল পেলে---
কাকভোরে
ঘুম থেকে তুলে ঠোঁটে
চুমু এঁকে দেবে
ঠিক
কতগুলো গাছ ,আমাদের আদর
শেখাবে
ভালোবাসা
বলে যাবে বাঁচো বাঁচো
কেউ শত্রু নেই!
এসব
আবেগী কথা তোলা থাকে
সাম্রাজ্য বিস্তারে
রক্তের
ভিতরে রক্ত জানে সবটুকু
প্রেক্ষাপট
অন্ধকার।
শূন্য ঘরে শব্দ আরো
বেশি শক্ত হয়
চিৎকার।
ভয়। খুব ধীরে ধীরে
দেওয়ালে দেওয়াল
চাওয়াপাওয়া
সন্তানের মতো এসে আঙ্গিকে
দাঁড়ায়
সাম্রাজ্য
একটা তীব্র তলোয়ারের ঝোলানো খাপ
যেখানে
সম্রাট আর হিংসা একসঙ্গে
ঘর হয়ে বাঁচে!
হত্যা
বধিব
গন্ডার ভোরে
কোন
পুত্তলিকা জাগে এ নগরে?
প্রকৃত
যোদ্ধার থেকে চাণক্যর ঘরোয়া
আলাপ
বড়
বেশি মুগ্ধ করে। মুগ্ধ করে
উদ্ধত পতন
আজ বৃষ্টি হতে পারে, ঝমঝম
আমাদের গ্রামে
ওঁর
শহরেও বৃষ্টি ছাদের উপর
কলিকাতা
কতদূর? সেখানেই বাস
সাজানো
রয়েছে থরে থরে বিমুগ্ধ
পশুর লাশ
উর্বর
মাটির থেকে একদিন উঠে
আসবে ভ্রুণ
শোধ
করে যাবেই যাবে এ জীবনে
বাকি যত ঋণ---
ছায়া
ছায়া
দীর্ঘ হয়ে গেলে
জলবন্দি
করে রাখি নিজেকে নিজেই
পরিধি
পবন থেকে জলমগ্ন বাতাসের
সুর---
একটা
হারানো গান মন খুলে
গাইতে ইচ্ছে করে
আপনার
কণ্ঠ ভেসে ওঠে
গাইতে
পারিনা, তবু চেষ্টা করি
আপনি
হাসেন ঠোঁটে ঠোঁট চেপে
আমি
লজ্জা পাই কিন্তু লজ্জাবতী
হই না কখনও
ধীরে
ধীরে আলো জাগে দৃষ্টিহীন
দর্শনের মত
ভক্তি
ছায়ার চেয়েও নম্র
ভক্তকুল
উচ্ছ্বাসিত তবু বলবান
এমন
কাব্যের ভোর
প্রতিদিন
বাংলা ভাষায় আসে।
ভোররাত্রে
যে গাছটি খুন হল
সফেদ
কাপড়ে মোড়া তুল্য মূল্য দেহখানি আজ
হাটবাজারে
নিলাম ডাক ওঠে সেয়ানে
সেয়ানে
পাখি
সব কলরব উড়ে যায়
ভেঙে পড়ে ঘর
আর্তনাদ
অবিকল গর্জে ওঠে পুরনো বিবাদ
সব ভুল ক্ষমা হয়ে
গেলে ফুল ফোটে গাছে
গাছে
মানুষ
মাত্রই ভুল করে খুন
করে বোমা ছোঁড়ে
নিজের
খাবার তৈরি করে খায়
আজন্ম গাছেরা
তবুও
মানুষ আজও ভূত ভগবান
ভবিষ্যৎ
ভোররাত্রে
যে গাছটি খুন হলো দেহ
নিয়ে গেল
সে আঠারোয় পা রেখে পরিপূর্ণ
হতে চেয়েছিল

