বিশ্বজিৎ বাউনার একগুচ্ছ কবিতা
ওষধি স্মৃতি
লুটেরা আলোর কাছে
দাঁড়িয়েছি আমি
আমি বলতে মৃত
ছায়ার
আর্কাইভ
এক অনাবৃত কঙ্কাল
প্রবণতা
আর ময়লাটে আধুলি
উর্বর পাপিরাস বৈভব
ছিল
একদিন
ষোড়শী আগুন ও
নদীখেকো মাঝ
বয়সি
বাতাসের
ছোঁয়া লেগে আমাদের
অযুত
বৈঠা
গলে
গেছে
লবণের অভিমানী সিলেবাসে
এখন পরোক্ষ অভিযোগে রস
খোঁজে
যন্ত্রনার উই
শাখা প্রশাখা জুড়ে
রোজ
রোজ
মরে
যায়
ওষধি
স্মৃতি
আততায়ী
আয়ত্ত করতে পারছি
না
নিখুঁত
খুন
শিয়রে মরা বিছের
মতো
আলো
খুবলে
নেয়
বেহুঁশ
গৃহস্থ দহনে মেতে
ওঠা
খোদায়
নুন
বিষাদ শস্যের নাভি
থেকে
জিওল
চাঁদের
কষ
গলে
যায়,
ম্লান দোহাই আঁকড়ে
তোমার
নৌকা
অক্ষরে
নির্লজ্জ জলের চাহুনি নিয়ে
বসে
থাকি
উদ্দাম হলুদ নিয়ে
একা
একা
ভেঙে
যাই
উন্মাদ
জ্ঞান
প্রাবল্য প্রতিক্ষণ মরু পেঁচিয়ে নেমে
আসে
শীতল মাছের সহকারী। নশ্বর
তীর
নির্বাক।
অন্ধ হোমারের পাঁজর
থেকে
খাপছাড়া বালির
প্রহর
উড়ে আসে উপমা
জাতক
তবু
জায়মান
উপেক্ষিত চোলাই থেকে স্খলনের বিনিময় বেজে
ওঠে
অন্তঃক্ষরা ঝাপটে---
স্বপ্নের অ্যাসট্রে শুধু ভরে থাকে
হত্যা
মেঘের
ছাই
দিয়ে।
বৃত্তের
সারি
এই যে চিরদিন
দেখি
বৃত্তের হিংসে
নেই
কোনো
দক্ষ জলের পেন্সিল দিয়ে
এঁকে
নেয়
শৈশব
শালুক ফেনা নিয়ে
চোখ
নিভে
আসে।
রোদ ছাত্রের গায়ে
শান্তিনিকেতনের শীত
ঠেস
দিয়ে
বসে
থাকে
অথৈ মুগ্ধ
স্খলনের বিপরীতে এই যে অগাধ
প্রোটিন মুগ্ধতা
নাব্য আড়াল রোপন
করে
দেয়
মজ্জায় প্রতিদিন
কোনো আক্রোশ পরিত্রান নয়
ছাই থেকে নেমে
আগুন
কুঁকড়ে যায়
অতিদূর ছায়া
কুকুরের গুহায়
নির্বিকার মথ সবুজ চর্চা
খেয়ে
খাদ্য
হয়ে
যায়
শূন্যের
নিথর ক্রিয়াপদে নেমে
আসে
বৃত্তের সারি।
উপেক্ষিত
বিকিয়ে যাওয়া ক্ষুরে ধুলো
তেতে
ওঠে।
মাথা সরিয়ে খুলি
রাখা
বিদ্রোহী বাতাসে
সন্ধ্যা নেমে আসে
তড়িঘড়ি হাড়ে ভ্রমের ঘোর
এঁকে
আজ সন্তানসম অভাবিত
ফাল্গুনের ঘাসে
চাঁদের স্লোগান ছড়ায়
পরমার্থ ভেবে
শীর্ণ মথের থেকে
ছিটকে
পড়ে
আছে
সময়ের
আঁচড়
বাতিল বিকিরণ ক্ষয়াটে
সহজ নিরাময় সেতু
নেই
পাঁজর
থেকে
পাঁজরের ফাঁকায়
সুতোর পাখি থেকে
দিব্য
খেদ
হলুদ রোদের মতো
নিঃশব্দে খসে
পড়ে
বলগা
উপেক্ষায়।
পন্থায়
নিজেকে যথাসম্ভব নির্বিকার রাখি
স্রোতের পুরুষ ক্ষয়ে যায়
আজীবন
পাথরের
সম্মুখে
বিবাহিত বাতাসে ছোবলের স্বাদ
নিতে
নিতে
আমি একা কাকের
মতো
ডিম
শূন্য
বাসায়
ঝুঁকে থাকা সূর্যাস্তের মরা
রোধে
বিলীন
উড়ি...
প্রত্যহ ভঙ্গুর হতে দেখি
পাটাতনে জলের
স্পর্শ
সীমানা গলে যায়
ভোগ্য ইঙ্গিত আলো
থেকে
শরীর
পাঠায়
আমি তবু অসফল
ডাহুকের মতো
একা একা খোদিত
দিনের
পায়সান্ন খুঁজে
খুঁজে
চমকে চমকে পায়ে
হেঁটে
লুকিয়ে পড়ি
ভীতু আত্ম বলয়ের
সমাহিত
সীমিত
মাটি
মঠে।
ভেবেছি কতবার মুঠি
থেকে
গুল্মের সংখ্যায় তোমাকে
আঁকড়ে
নেব
দাউ দাউ পাখি
জল
লবণের
চিরায়ত পন্থায়
পলায়ণকারী
এই ছায়া গৌড়ীয়
আমার নিভৃতে রাখা
অন্ধকার পলায়নকারী, মৃত
অভিসার
থেকে
শ্রীখোলে বেজে ওঠে অসুস্থ
শ্বাস।
পালকের
রোশনাই।
বুনো শিকড়ের কাছে
আজ
অভিমান
জল
হয়ে
স্রোতের প্রকট একাকী জ্বলে
ওঠে
উন্মাদ
প্রত্যয়ে
এই বিনম্র আন্তরিক খেদ,
উচ্ছ্বসিত খোলসের
নীচে
উদগ্রীব অতীতের গ্রীবা ছুঁয়ে
জলীয়
স্মৃতি
উড়ে
আসে
সমূহ প্রস্থানের অতিভূজ
যুগল
ঘাড়ে
নাভি ভেদ করে
ভাঙ্গা
বৃত্তের দিকে
চলে
যায়
মৌন ফারাক
বানভাসি তুমূল দূরত্বের নীচে
আজ
আলোড়িত প্রহর
মৃত আঁশের মতো
আরোহী
মিলনের
উষ্মা
বেদনায় বেদনায় ছড়িয়ে রাখে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন