পলাশ দাসের গুচ্ছ কবিতা
হাওয়ার কথা জলের কথা
১
পৃথিবীর সব রাস্তার মতো
সব দরজাও কি একইরকম
ক্যাঁচ শব্দে খুলে যায় পথিকের মুখের ওপর
লাল সূর্যের নাম বদলে বদলে গেছে যে দরজায়
বৃষ্টির নাম বদলে গেছে
বদলে গেছে ঝড়ের নাম
সেই দরজা
গত পরশু দিন থেকে ছেলেটা ঘুরছে
জুতোর ভিতরে থাকা দশটা আঙুল
আড়ষ্ট হয়ে ছায়া ফেলছে রোদের মুখে
২
কলঘর থেকে গুম গুম শব্দ ভেসে আসে
পৃথিবীর অন্তরস্থল ছেঁচে উঠে আসে গার্হস্থ্যামৃত
কোথাও মুখ উঁকি দেয় সন্ধ্যার মতো বেড়ে দেয় ভাত
সংগোপন খুঁজি -- ফেলে রাখি যাবতীয় আয়াস
এখনও শব্দ ভাসে গেরস্থালির মতো
মুখ গুঁজে বসে আছে প্রাচীন পেঁচা
কাদা ঘেঁটে ঘেঁটে খুঁজে আনে লোনাজল
দু-চোখের নম্রতা মেখে বেজে ওঠে অমাবস্যার ঢাক
সরু রাস্তা আর পুকুরে ভেসে ওঠে আমাদের শৈশব
৩
তুমি কেমন আছো -- জিজ্ঞাসা করব ভেবেছিলাম
সেজন্যই এই আয়োজন
বইয়ের পাতার মতো
গুছিয়ে রেখেছিলাম সব
কিন্তু মিনিটের ঝড় এসে উড়িয়ে দিল
কাগজের মতো কথারা ভাসছে হাওয়ায়
দেখি ব্যর্থ মানুষের ছায়া
ক্রমে ছোটো হয়ে আসে
সূর্যের মুখ থেকে ছড়িয়ে পড়ে অন্ধকার
৪
হেসে কথা বলবার দিনগুলো মনে পড়ে না
কেমন ছিলাম তখন
খুব কি অন্যরকম
তোমরাই বা কেমন ছিলে
জীবন, সেই বা কেমন ছিল
এত বাঁক -- এত অন্ধকার
শুধু বুঝতে পারি, মনের সে এক ভীষণ বদলেছে আকার
৫
পৃথিবীর বুকে সাঁতার কাটতে কাটতে
যে পাখিটি চলেছে
আমি তারই মতো
আমাদের ঘরবাড়ি মিথ্যে
আমাদের পরিচিত মুখ মিথ্যে
বন্ধুস্বজন মিথ্যে
আর যা যা কিছু সব সবই মিথ্যে
বস্তুত আমরা একটি মিথ্যেকে ঢাকতে
আরও মিথ্যে দিয়ে নিজেকেই ঢেকে ফেলি
শরত রোদের মতো স্বপ্নিল উৎসাহে
৬
এইমাত্র ট্রেনটা চলে গেল
হু হু হাওয়ার মতো কাঁপছে মানুষ
হুটোপুটি শব্দ ভেসে আসছে
বুকের ভিতরের উত্তেজনার মতো
আপনিও এখন বেশ উত্তেজিত
প্রেস রিলিজ করেছে আপনার নতুন বই
সুগন্ধি আতরে ভেসে যাচ্ছে একচিলতে লেখার ঘর
পুরোনো বইগুলো মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে
আপনি কি ওদের ভুলে যাবেন
আমার বাড়িতে কোনো নতুন মহিলা অথিতি এলেই
ওরও চোখে দেখেছি সব বিশ্বাস ভেঙেচুরে যেতে
