ডিসেম্বর ২০২৫ এর কবি শিবালোক দাসের একগুচ্ছ কবিতা

 




শিবালোক দাস একগুচ্ছ কবিতা

 

তুঙ্গভদ্রার মুর্ছনা


তিক্ত ধারে খুলি নাভিমূল

ত্যাজ্য নীলের প্রশ্বাসে, চূড়ায়,

প্রবাহে ইষদুষ্ণের গান...

 

চন্দ্রাহতে পরিবর্তিত পিপাসামুখ।

 

পদ্মকাঁটায় মরীচিকাই যেন সন্ন্যাস...

ভ্রমে নামহীন দস্তুর কবচ পেরিয়ে 

থামাল বজ্রমূল...

 

দেখি, ঘুমন্ত কুন্ডলীতে পোড়ে শীত।

 

দূরে তুঙ্গভদ্রার মুর্ছনায় কারা খুলে

রাখে সুষুম্না ?

 

 

দরজা

কতবার সাক্ষাৎ চিনতে পারে গান ?

কতবার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ঋদ্ধ করো আহ্বান ?

 

বর্ষামঙ্গলে বৃষ্টি সর্বনাশে--

 

ওল্টাই ধার,

নিমন্ত্রনে সে স্পর্শ নেই

ধ্বংস চেনাতে মৃত ঘোড়ায় ভেঙেছে শত ব্যবধান,

টিপেছে শেষবার উষ্ণ অভিব্যক্তি,

নিভিয়েছে রোশনাই।

 

দরজা খুলে যাচ্ছে শান্ত হাতে, রোদ্দুর 

ছুঁয়ে উদাসীন কবিতার মতোই ফেরে,

আতস কাচ পুড়িয়ে থামো, গুহালিপিতে।

লোভাতুর

 

বৃষ্টিপাত কথা জানেনা

কেন খরোষ্ঠে নিশাচর হয় 

নাভিকুণ্ড,

সুদূর, তুমি বলতে বলতে মুক্ত

হও অভিশাপে, নিহত প্রতিমায়

নিঃশেষিত নিঃশব্দ ইতিকথা...

 

লোভাতুর, উৎসমায়া ভুলে যাও।

হেঁটে যাবার পথে পড়ে থাকে

অসম্পূর্ণ শূন্যতা।


শোধ


মুমূর্ষু আয়তনে বার দুয়েক জ্বর--

রেখে যাও শোধ, বাতাসের পালকে

থামাই জন্মান্তরের ছায়া, গাছ ভেবে

যাকে দীর্ঘ মায়াঘর মনে করতে...

 

জন্মেছি, এটুকুই বুকের কাঁটায়

প্রলম্বিত সাধনা, মনে করতে করতে

সরে দাঁড়াল রোদ্দুর...

আমি বালিতে লিখে ফেলি তার গোপন

ভাবনা, ভেতর দিয়ে চলাচল করে

লজ্জিত নদী।

 

লেখা ছিল ব্যথাতুর যে ভাষা, উপমায়

সে চোখ বোজে, কেউ কি আছে নির্জনে ?


বাৎসল্য


লুকোনো ডানার নিরীহ সত্য ইনফার্ণোয়

মুক্ত করে মহাশূন্য...

বাৎসল্যে, অজ্ঞাতে, নষ্ট কত জলের আঘাত !

 

বিলুপ্ত অনুসরণে সরানো মাটিতে পা

রাখতেই মনে পড়ে ভাসানো সহস্র

উৎসব চিরঞ্জীব নয়, শুধু শ্রাবণ-দিন।

 

কঙ্কালে‌ রাখিনি তোমায়,‌ কর্কটক্রান্তি...

প্রার্থনায় যদি খুঁজে পাও মেঘ, তাহলে

থামো, স্তব্ধ আলোছায়ায় পেরোতে

পারবে না নীরব বিস্ময়....

ধাত্র

 

বলা সহজ--

সংক্ষিপ্ত পুরোনো-নতুন শোক,

দীর্ঘ পরিবর্তনে কোমল লাগে

না আহ্বান; শুধু বাড়ে ঢেউ...

 

খুঁজে পাওয়া অর্ধস্রোতে দুটি

চোখ পূর্ণ হোক।

 

এখনো বিহ্বল হয়ে ভুলে যাইনি তোমায়,

কালক্ষয়ে তরুণ যে বাতাস সীমা পার করে,

তার ভেতর ত্যাগ করো সমস্ত ধারণ।

 

শান্ত বালকের মতো অন্তর্ঘাতে ঋদ্ধ হয়ে 

আশ্রয়ে দূরগামী করো আমায়...


তুমি, পতঙ্গ

 

কোনো বিদ্বেষ না,

ইচ্ছে করে, আরো একবার

বিবর্ণ হয়ে যাই--

নরকগামী পথে পড়ে থাকে

কঙ্কালসার ঘুম।

তুমি তার বুকে কোনো আলো

চেও না, বিরুদ্ধতার কোনো

উপশম...

বলে গেছে অন্তত এই আকাশের

নীচে দুবেলা জ্বালিয়ে রেখো

অপাঙ্ক্তেয় মুখ...

 

আগুনের কাছে তুমি পতঙ্গের মত উপহার...

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন