নভেম্বর ২০২৫ এর কবি চন্দ্রনাথ শেঠের একগুচ্ছ কবিতা
১ মুশকিল আসান
এইটুকুতো তোমার লেখা ; বাকিসব বারুদ ভর্তি আকাশের
কাদের খেয়াঘাট কলমিফুলে ছেয়েছিল...
কেঠো সাঁকো থেকে মাছেরা ঝুলিয়ে দিচ্ছিল
নোনা পাউরুটির
টোপ--আমি কি বলব।
'না না, তুমিই বলো...'
এমন সপ্তপদী-ও ভেসে আসে বাতাসে
; (মৎস্যমুখীর দিনে ) গোটাটাই কপালের ফের...
কপাল বলতে একটা খোড়ো ঘর, এক চিলতে
রাইসরষের খেত
বাগান ঘেরা নাজনে ডালের খুঁটি
খুঁটির মাঝে রাংচিতা তোর ডাল...
'এইনে দিলাম ঘটি খানেক জল...'
ধোপানি তার জলের ছিটেয় প্রাণ ফিরিয়ে
দেয়।
সেই যে ছেলে প্রাণ ফিরে তার পেল--আকাশ
ভরা প্রাণ
বারুদে তার লবডঙ্কা , মুশকিল আসান...
২ ওঃ মা ও আকাশ
ও মা ও
আকাশ ও প্রদীপ ও জোকার
ও জঠর ও জ্বালা ও টাল
ও মাটাল
ও টিপ ও সই ও টুপ ও টাপ
ও জড় ও জোয়ান
ও জুন, ১৬-য় প্রথম ফোটা গান...
ও আপত্তি ও ওজর ও বীজ
ও তলা
ও জুন ,
১৬ সে তারিখের সাধা গলা...
ও উনিশ সাতান্ন-য় জন্মানো দান ।
ও জোয়ার ও ভাটা ও চরা ও
মাটি
ও রবি ও ফসল ও মানুষ
---ওগো মধুদাদা।
ও দখিন দক্ষিণাদিন
'কই গেলি' ডাকাডাকি।
দিনেদিনে বেড়ে যায় ঋণ
'ও দাওওও
কেড়ে নেওয়া লোক'
---'অফল-মাটিতো তুই...' চৈতন্য হোক ।
ও জুন --- জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ; ও জোর
ও বরাত
জো-হুকুম -- কাটা দিনরাত...
ও ট্যাঁক
ওগো ঘড়ি, 'গাছেতে রয়েছে ঝুলে নিয়তির-দড়ি...'
৩. মহাপুরুষের গ্রাম
নাড়া-পোড়া ধোঁয়ায় ছন্ন কার গ্রাম।
সর্পিল আলপথে জেগে আছে শ্রীচরণ তব...এবং
ফর্মালিন-এ ডোবানো ফসিল
শ্রীখোল...
কাটা ঘুড়ি হয়ে ঢেউ খেলে যায় : ক্বচিৎ
কেউটে খোলস। কচি পায়ের শট ; লক্ষ্মীশ্রী শামুকের
খোল--- অব্যর্থ মেসি বটে !
ক্ষুদিরাম-ক্ষ্যাপা পাগলেরা--পিস্তল ছোটায়
, বোমা হাতে এই আলপথ...
তিতুমীর... মধ্যযামে পেরোয় আড়ালে
স্বদেশী নিসর্গের স্ক্রিনশট আলো, খেলে যায়
সবুজভারত। কতজন্ম রজবন্ধের মতো বিপ্লব
ফোটায়
না কেউ; ফসলের অনায্য দাম গোগ্রাসে গিলে খান মন্দিরের রাম...
'ম র ণ !'---মুখঝামটা দেয়, দুধঝোলা ধানশিষ--চন্দরা যেন
৪. পেটেলাথ
২৬ হাজার
বেজে চলে (দক্ষিণী রাগ) বেজে যায়
চক্রবর্তী অজয়
--সিংহেন্দ্রমধ্যম : 'ফোটে যবে ফুল ওঠে যবে
চাঁদ...'
মাসমাহিনা সেদিন ; বাড়ির বাতাবিগাছ কি ভয় কি ভয়
সারাদিন বিধবা-মা করজোড়ে ; মন্দাকিনী মনে আহ্লাদ
নেবুর-ছায়ায় বসে, গোল হয়ে বেঁটেনেয় পাঁচজনে-- একেরই মাহিনা
সারামাস কি-সুখ কি-সুখ--বিষাদের কোমল গান্ধার আর গাহিনা !
ছ্যাতলা পড়া কলতলা সাজায় মনের মতো---বউ ; অপাপসুন্দরী ;
গেঁটেবাত-বুড়ি-শাশুড়ির---বিদেশি-কমোড বসাল কি তড়িঘড়ি...
হঠাৎ মর্টার বোমায়--গাজা-র ধ্বংসস্তূপ---যেন তছনছ বাংলাও
সিন্ধু সভ্যতার প্রত্ন-খনন থেকে উঠে
আসা মাতৃকা পুতুলের মতো যেন সব মা
এগিয়ে চলেছে সরীসৃপ-বাংলার
শহরে ও গেঁয়ো-পথে
২৬ হাজার ওই বজ্রমুষ্ঠি শিক্ষকের হাত-পা
৫ আজই ইতি
[ 'How many
times a man should forgive his brother ?' : "Gift of the magi"
--O.Henry ]
'আর কখনও কথা হবে
না আমাদের ---
আজই ইতি।'--পাহাড়ি
মৌমাছির মতো চণ্ডাল মেঘ উড়ে যায়...
মেঘ ঘুরে আসে ঘৃতবর্ণ
ঘৃণা শরীরে মাখিয়ে...
ছারখার হয়ে যাচ্ছে--একটা শীর্ণকায় মানুষ...
পিছন ফিরে, এক ঘট
শান্তিবারিও
দেবে না, তার, অস্থিভস্মাধারে...
৬. বিবাহবার্ষিকী-১
শিলনোড়ার বদলে তুমি মিক্সি কিনে দিলে...
দু-দুটো মুখোমুখি পাশবালিশের মাঝমধ্যি
ঘুমিয়ে
পড়ল গুটিশুটি ভালোবাসা তোমাদের...
সে অনেক বেলা অবধি--বিছানায়, পাপড়ি গোলাপ
লেপটে রইল...
রান্নাঘরে ম ম করতে লাগল মাখামাখি
মিক্সি সুবাস
৭. বিবাহ বার্ষিকী—২
নৌকা চাপতে চেয়ে পিঠেই চিৎপটাং ; আবদারে নৌকার ডানা লাগিয়ে নিলে।
মধুকানের ঢপ-সঙ্গীতের তালে তালে পাখনা নিয়ে ভেসে গেল নৌকা অতঃপর
ক্ষীরোদসাগরে। কলাছড়ার ব্রত ডাইনে
ফেলে
, কা'রা ভেসে
চলেছে...
বামপন্থার মতো সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার
দিকে
সাগরে পর্যাপ্ত জল নেই গোসল করার...
বিবাহবার্ষিকীর দিনে বিষ্ণুর নাভিপদ্ম থেকে
কেবলই বেরিয়ে আসছে
শুকনো কাশির সঙ্গে জিন্দাবাদ ধ্বনি...
৮. চাঁদ ও তরমুজ
ঋতবান নদী-চড়াটিকে
ছুঁয়ে থাকে একা চাঁদ।
সাদা তরমুজ গড়ায়
অঙ্গ জোড়া বালি
তারও রক্ত লাল হয় ক্রমে
গড়াতে ইচ্ছে হলে বালি মাখে
চাঁদও... খুব। চতুর্থ দিবসে ঋতুস্নান সেরে...
বিভাজিকা রক্তজবা তারও
গড়াতে গড়াতে কাছাকাছি
হয়--জড়াজড়ি দুটি
গোল গ্রহ একে অপরের
৯. রফা
সমুদ্রস্মৃতিই; জলকামান
লিখব না--সকালেই রফা হল। গোধূলি গড়াতেই: সব গলা অবধি
রক্তপলাশ গড়িয়ে নামছে
যমুনায়… কদম্ব-হোলি লিখি। রহস্যগহ্বর… লিখব না হাসপাতাল
স্বদেশের। 'এটা সত্য' লিখি। যত মিথ্যেই বলি...
লিখব না আবাগিজন্মের
কথা, আজই
তো, ছোরায় গোধূলি
হল লেখা : হিন্দু লিখব না--'মুসলিম' ? হিম
পাতা চলন্তিকায়
মিলেমিশে ছিল দুটি
বেশ
অথচ পূর্ণিমা নামতেই
মাঠভর্তি নক্ষত্রের তাড়া খেয়ে পিলপিল
ট্যারচা চাঁদের টর্চ
ঝাঁপ দেয় তামাদি কুয়ায়। চড়া রসুনের গন্ধে আম্মা নয়--মা লিখ
মনে পড়ে যাওয়া, আমিষরাত্রির
সরীসৃপ দেয় হামা
১০ নীলকৌটোয় মোহর
বুঝিবা মোহর কিছু,
ময়ূরের ডিম
আমাদের লোভাতুর আনাগোনা;
আমলকীতলায় ছিল রহস্য অসীম
যদিও
হয়েছে দেখা উত্তীর্ণ- উনিশে।
তখনো হয়নি চালু পিনকোড,
'পদ্ধতিটি বেশ... '
পরশুর পোস্টকার্ডে
লিখেছে সে:
'ময়ূরের ডিম ফুটে
মোহর বেরুবে...'
আহ্, দুর্গতি অশেষ..
১১ ব্রীড়াবন্ধনী
দশমাস দশদিন পরে
বৌদি রাখছে রোদে
আনকোরা কাঁচুলি তার...
বৌদির ব্রা-র মুখে
লেগে ওকি
পোয়াতির পবিত্র পায়স
!
বাহ্-বা রোদে শুয়ে
দেয়ালা দেখায়
বৌদির ব্রীড়া-বন্ধনী
১২. টব গান
টবে বসিও আমাকে
তবুতো
যত্নআত্তি পাব নিত্যদিন। স্নিগ্ধ বকাঝকা ; মৃদু
জলঝারি... ' হ্যাঁ, জলপটি...' বলে গাছ :
'টেংরির গুঁড়ো পাব। জৈব জুস...' বাস্তবিক সাতবাসি খোল পচা জল---ওয়াক
!
না
ঘেন্না না পিত্তি ---ক্ষণে ক্ষণে ঘাটজুজু , সামান্য পয়সা নিয়ে আঁশ তোলা
নির্জীব
বুকে ; মেরির দিব্যি কত।
তিনবেলা ঘুমন্ত আগুনে
গব্য-ঘি---থু

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন