কুশপুতুল
পিয়াংকী
(১)
অনির্বাণ ধ্বসে গেলে...
আয়ুর ভিতর হেঁটে যায় মানুষ
চাষমাটি স্ট্রীটলাইট আর বাতিস্তম্ভ পেরিয়ে বিরতি
নোঙরে বাঁধা পথ।
থতমত পা, অবশ আঙুল
এদের জড়ো করলে পিঠের ওপর জন্মায় খড়গাদা
আলো জ্বালাই, ঘর খুঁজি
কুশপুতুলে বারুদ ভরে লুকিয়ে রাখি দেরাজে
একটি রাত এসে খুঁটে নেয় সমস্ত হিসেব
হিসেবের যে গরমিল তাতে রাষ্ট্রের হাত নেই
বেহিসেবী স্বপ্ন এবং লোকলাজ -- অন্তরায় কারা ?
অত:পর পুতুল নাচে...
*************************************************
(২)
সেদিন একটু সরে দাঁড়িয়েছিলাম
তারপর থেকে সব লাল হয়ে আছে
গতরে যে পোকারা খুঁটে খাচ্ছিল শরীর,
ওরা এখন পায়রা পোষে।
বাটিতে জল ভরে রেখে দেয় আমার দুই স্তনের ওপর
মাটি কাটি রোজ,পুতুল বানাই
দুই চোখে ঠেসে দিই গর্জন
কান নাক ঠোঁট। আঁকি সাবধানে
সূর্য ডোবার পর কেনাবেচা শেষ হয়।
যে পোকাদের সাথে সহবাস, তাঁদের চলাফেরা দেখি আর
চেষ্টা করি, পোকার ভিতর থেকে শুষে নিতে নিজের
রক্ত
প্রতিটি সাহসী রাত জানে, বিক্রিবাট্টার পর আমি
ক্লান্ত
দড়ির বদলে গলায় ঝুলিয়ে রাখি পুতুলের গলা
*****************************************************
(৩)
...অথচ সব জল হতে পারত , চুম্বনও
যে তুমি, তারল্যের ওপর নিষেধ বসালে
মাছি উড়লে ধুয়ে নিলে গ্লাস--
সেই তুমিই জানলে না, ক্ষমতার কথা
ক্ষমতাহীনের কথা।
রাষ্ট্রের উপর নির্ভর করে যারা খেয়ে নিল
গ্লাসসমেত
তারা আজ পুতুল বানায়। তুমি আমি আরও...
অথচ, সবটুকু আগুন হয়ে যেতে পারত, এমনকি জলও
এক আঙুলে ঘোরানো যেত জীবন।
লাট্টুটা ফুটো হয়ে গেল
মানুষ রাষ্ট্র ধর্ম
ধর্ম আগুন প্রেম
প্রেম অহিংসা অতিমারী
অতিরিক্তটুকু গার্হস্থ হলেও তো ক্ষতি ছিল না---
*****************************************************
(৪)
আয়ু থেকে কাল -- বিয়োগ করি রোজ
শূন্য এলেই শেষ করে দেব,
ভাবি।
শূন্য আসে না তবু--
এ-ও এক অপেক্ষা।
ট্রেন চলে যাবার পর রেললাইন কাঁপে যথারীতি
অবশিষ্ট পাথর জ্বলে ওঠে নিবিষ্ট মনে
দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে,
চক্ররেল ঢুকে যায় প্রত্যেকের ভিতর
আমি জানি,
তুমি আমি সে নিভে গেলে পড়ে থাকবে সামান্য যা
তার পাশেই গজাবে ছাতিম।
ট্রেন ছেড়ে যাবে অন্তিম স্টেশন
কুশপুতুল আসবে। মুছিয়ে দেবে আমাদের কান্না
*********************************************
(৫)
সন্তর্পণে ফেলি। বিড়ালের মতো নিঝুম পা আমার
শব্দহীন, তবু নিজেকেই সন্দেহ হয়।
বিড়ালকে দাঁড় করাই আয়নার সামনে
নিজে ----- আড়ালে থাকি
দরজাটুকু পেরোতে পারলেই সংক্ষিপ্ত
হয়ে উঠব, একথা জেনেও গিলে নিই উক্ত সন্তর্পণ
অথচ, এই গুটিয়ে আসা ভয় আমাকে টেনে রাখে মৃত কপালের
ডগায়
ঘন ঘন শ্বাস পড়ে ।
সূঁচের ফুটো বরাবর গলে যাই,
যেমন গলে যায় নির্দিষ্ট একজন কবি
আশ ফুরিয়ে যাবার আগে শেষবার পায়ের দিকে তাকিয়ে
দেখি
পোশাক বদলে যাচ্ছে,
পুতুলের উলঙ্গ গায়ে উল্কি আঁকছি নিজস্ব
ডিজাইনে...
****************************************************
***********************************************
(৬) সমর্পণ
সমর্পণ এনো।
বিছিয়ে দেব অহংকার
তালপাতায় লেখা যত পরিণাম
শুভ হোক বা অন্যকিছু,
চৌকাঠ পেরিয়েছি। এখন কেবল উধাও হবার পালা
দর্পণে জলের ছিটদাগ। কতকাল হল
খসে পড়ছে নিজস্ব মুখোশ
পাহাড়ের দিকে তাকাই। তারপরেই নদীর দিকে
মাথা উঁচু করি, আকাশ
চোখ সরলরেখায় থাকলে ঘর পাই, ক্ষীণ আলোও
যতক্ষণ ভিতরে কাঠ আছে ততক্ষণ নগর
ফুরোলেই শেষ
ধ্যান ভাঙলেই আগুন