ডিসেম্বর ২০২২ এর কবি রাখী সরদারের ৫টি কবিতা

 



রাখী সরদার

একটি প্রাগৈতিহাসিক ক‌ই মাছ  



কানকো বেয়ে উঠে এলো
একটি
প্রাগৈতিহাসিক ক‌ইমাছ

ছেলেটি হাঁ করে

দেখতে দেখতে নিজেও শিখে নিল
কানকোর দ্রুততা ...


পুকুর উপচে
পড়ছে প্রথম আষাঢ়ের ভালোবাসা


জল স্থলভুমি
এখন এক খাটে শুয়ে শুয়ে

গল্প করে

আর ছেলেটা কানকো মেরে
শৈশব পেরিয়ে অতি

দ্রুত উঠে আসে বাংলা কবিতার
মরুপথে...




চিত্রনাট‍্যের উট



কচি ধানখেতের পাশে একটি উট আকাশের দিকে

মুখ উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে! দেখেই মনে হল যেন

কোনো চিত্রনাট্য থেকে পালিয়ে এসেছে

খেতের চাষী কিছুতেই তাকে খেতের
পাশ থেকে সরাতে পারল না

একসময় ধানগাছ বড় হল,বিয়ের
পর পর কনক বধূটি রূপে চলে গেল
কৃষকের ঘরে

তখনও উটটি ঠায় দাঁড়িয়ে ...

মাস গেল,বছর গেল,জলভরা মেঘ
শুকনো ঠনঠনে - বৃষ্টিহীন সেই খেত ধীরে ধীরে খাঁ খাঁ মরুভূমি

মাটির আর্তনাদে ঝরে পড়ছে বালি ,এখানে ওখানে

ফণিমনসার ঝোপ,কাঁটা ঝোপে  হলুদ ফুল ধরলে উটটি 

ডেকে উঠল, চঞ্চল পায়ে এগিয়ে গেল নিজস্ব চিত্রনাট‍্যের দিকে...




ভস্মাক্ষর


আমাকে পোড়াচ্ছে কোন স্খলিত
অক্ষর! কবিতার নামমাত্র গন্ধ
পেলেই ঈশ্বর তার শান্ত ক্রোধে
আমাকে ছুঁড়ে দ‍্যান ব‍্যস্ত পৃথিবীর
অস্থিরে প্রেতের শরীর বেয়ে কেঁপে
ওঠে লোভ। হাড়-কঙ্কনের ঠন্ ঠন্
শব্দে   ক্ষুধার্ত শিয়াল মুখ ফিরিয়ে 

একাগ্র সন্তের মতো হেঁটে যায় ,

আর আমি ভস্মাক্ষর হয়ে জনম জনম 

পাক খাই কালের শশ্মানে






ধুলো আঙুল


ফেলে গেছো স্পর্শের প্রহর। ঝুঁকে
আসা জ‍্যোৎস্নার লাবণ‍্য ।আর,
তোমার চোখের থেকে প্রেমঘোর ধ‍্যান।

যে হাত তোমার জড়িয়ে
ধরেছিল পা ,তাকে বৃথা ধুলো ভেবে
এক ফুঁয়ে ওড়ালে সুদূরে!তবু তো
হাত খোঁজে ধুলোর আশ্রয়।

মেঘ এখন শান্ত বাউল,চোখ বুজে শুয়ে থাকে

নদীর ছায়ায়। সব গাছ
মাটির রোমাঞ্চ ভুলে উঠে আসে শূন্য
করতলে। তালুজুড়ে নীল বনভূমি,
বনে বনে সহস্র হরিণ,লাল,নীল
ফুলের উৎসব ।প্রতিটি আঙুল যেন
হয়ে উঠছে মেহেদি  কবিতা।


 




ভাস্কর্য



এই পৃথিবী কোন দৃশ্যের সর্বনাম!
অথবা বাতাস কয় প্রকার ? পুরুষ
বাতাস বলে যদি কিছু থাকে তবে
তা কেমন করে নারী হৃদয়ে ঝড় তোলে ?

এসব  কিছু বুঝি না
শুধু তোমার কথা মনে হলে
সেইসব হিরন্ময় রাত্রি মহামৎস‍্যের মতো

ঘাই মারে বুকের অতলে...


শূন্য ধ্বনির অপেরা থেমে গেলে
ভেসে  ওঠে আবছা  মুখের এক
ভাস্কর্য