সিরিজ: অরণ্য | লিটন শব্দকর
অরণ্যে
কতটা নির্জন হয়ে
এলে
টেবিলের কাঠ
কয়েকটি কথা ফুটে
ওঠে
কার্ত্তিক রাতে।
ধোয়া চাঁদের আঙুলে
অরণ্যগামী নিশ্বাস
কথাগুলি অনেকরকম ভাবে দাগ কাটে।
মগডাল থেকে নেমে
যায়
বানরের
পাল,
হুপ হুপ ডাক-এষণার দেওয়াল পালিশে
দুটো ভরাট অমিল
হাতির
শুঁড়ে
প্যাচায়
উদাসী তকমা গাঁথা
সুখ
নাম্নী
দেওয়াল।
অরণ্যদূঃখ
আমি কেমন আছি
জানতে
দেবো
না,
ভালো যে আজকাল
থাকি
না
একদম-
জানি তুমি তা
সহজে
ভেবে
নেবে
ঠিক
ভেবে নেওয়ার অভ্যেসে,শহরের
ঘাসে।
শহর সরে গেলে
ক্লান্ত খানাখন্দ এখন,
অনুষ্ঠান ফুরিয়ে যায় বসে
থাকি
ঠায়,
অপেক্ষার কোলাজ ফেরে কি
না
দেখি
রাতের ঘুমন্ত মাইক্রোফোনটির গানে
রাত ফুরোয়, আহা
বাজুক
অরণ্যবাঁশী
শহরের বাতাস ও
ভালোবাসার কানে।
অরণ্যাভিসারী
ওরা এলো,তুমি
ভিজে
গেলে
বহু
আলোতে
তোমায় দেখতে এসে
আমি
কুয়াশার পরতে
কয়েকটি হরিণের সকরুণ
চাহনি
ভুলে
যাই
না লেখা কবিতার
আদরে
ঘন
ঘন
চুমু
খাই,
সারাটি সন্ধ্যা বনানী
নিজেকে
স্বান্তনা দিলো
পাতারা বেসেছে ভালো
আমিহীন
রাতগুলো।
অথচ অরণ্য
চুপকথার জলে পুষ্ট সব
খর
নদীরা
অক্ষরের চৌকাঠে এসে থেমে
যায়,
আমাদের আজীবন দেয়াল
পূজো
নিয়মিত স্পন্দনে ঘরকন্না সাজায়।
চায়ের লিকার পর্যন্তই অপেক্ষার সুখ
অনুভব,যত্ন,ভাবাতুর কথার
নির্যাস,
বনানী বুঝে নেয়
হৃদের
মতো
করে
ডাল নুইয়ে জড়ায়
দু'পেয়ে বিশ্বাস।
অরণ্যদিন
এলাকায় পাখিরা নেই,
ঘুম থেকে উঠে
দেখি
পৃথিবী
আনন্দময়
খবরের কাগজ,স্নান,দৌড়,
সমীকরণে অজস্র আনন্দভুক পতঙ্গের উড়ান
সাদা বেগুনি লতানো শিমফুলে বিস্ময় লুকোই,
গেরস্থালী জমাট স্টেশনচত্ত্বরে
চুরি যায় ভোর।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন