মার্চ ২০২৩ পলাশ দাস ৫টি কবিতা

 



পলাশ দাস ৫টি কবিতা

 

 

 

 

রোজ পালিয়ে যাচ্ছি  

 

রোজ পালিয়ে যাচ্ছি 

পালিয়ে যাচ্ছি রোজ 

 

দু-একটা এভারেস্ট ভাসিয়ে দিয়েছি রাতের অন্ধ জলে  

ভাসিয়ে দিয়েছি আমাদের পৌরাণিক খেলার মাঠ 

ঠাকুরদার আদ্যিকালের ফেলে রাখা জুতো জোড়া 

নীল তরলের ছায়ায় দুলছে বলে ফেলা হাস্যকর প্রলাপ  

 

রোজ পালিয়ে যাচ্ছি 

পালিয়ে যাচ্ছি রোজ 

 

 

 

 

 

টুশব্দ না করেই 

 

রাতের নিস্তদ্ধতা ঠেলে 

একটা পাহাড় ঘড় ঘড় শব্দে সরে যাচ্ছে আর  

সমস্ত ক্লেদ পূর্বকৃত্য ফাটল থেকে বেড়িয়ে আসছে 

কয়েকটা সেগুন গাছ তার পাতা আর ছালের নম্র আয়োজন ঘিরে  

তাকিয়ে আছে খুব করুণ চোখ মেলে   

দেখি, তোমরা যাকে পোকার মতো আস্তাবলের কোণে ঠেলে দিয়েছ 

পোকার মতোই রাত্রিকে জড়িয়ে ধরি 

খুব আঁকড়ে ধরে আমাকেও নখ বসে যায় পিঠের দিঘল মাঠে  

গড়িয়ে নামে মোম  

 

টুশব্দ না করেই, ঝরে যাচ্ছে সেগুন গাছের পাতা 

টুশব্দ না করেই, খুলে পড়ছে বাদামি সেগুন গাছের ছাল     

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আমরা তখনও খুঁজে চলেছি 

 

এখান থেকে ফিরে দেখছে না কেউ 

কেউ দেখছে না কারও মুখ  

একটা দেবদারু গাছ আমাদের ছায়া দিয়ে যাচ্ছে 

নরম ঘাস মিশে যাচ্ছে দিগন্তের শেষ মেঘে 

একটা দুরন্ত পথ 

আমাদের ডাকছে 

একটা দুরন্ত আলোর ঝিমঝিমে আদরের ভিতর 

আমাদের দুচোখের পালক রেখে নির্দ্বিধায় ভিজে যেতে বলছে 

কিন্তু আমরা কেউ ফিরে চাইছি না 

আমরা তখনও খুঁজে চলেছি হারিয়ে যাওয়া জামার বোতাম  

 

 

 

 

 

 

ডাক 

 

এক পাহাড় থেকে দাঁড়িয়ে যখন দেখছি আরেক পাহাড় 

তখন চোখ কেমন জুড়িয়ে আসছে 

বারবার মনে হচ্ছে ওই সামনের পাহাড়টি আরও 

বেশি করে আকাশকে ছুঁয়ে আছে 

ছুটে যাচ্ছি তার কাছে 

ঠিক যখন তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম দেখলাম তার পাশের 

পাহাড়টি আরও বেশি করে আকাশকে ছুঁয়ে আছে 

আবার সেদিকে ছুটে যাচ্ছি 

পাহাড় থেকে  সে পাহাড়ে 

তারপর আরেকটায় 

ছুটছি, শুধু ছুটছি 

পাহাড় আমাকে ডাকছে 

আমি কখনও সে ডাক অগ্রাহ্য করতে পারি না  

 

 

 

 

 

 

চেয়ারগুলি 

 

সূর্য নিভে যাওয়া প্রত্যেক সন্ধ্যায় 

বাবাকে দেখেছি পুরনো সংলাপ মুখস্থ বলতে  

 

এখনও বাবা মুখস্থ বলে 

তবে সেই দৃপ্ত আওয়াজ আজ ক্ষীণ 

তবুও বলে চলে  

হাত আর সেই উচ্চতায় ওঠে না 

ঝোলানো মাইক্রোফোনে 

নিঃসঙ্গতার চাদর জড়ানো 

ভ্রাম্যমাণতা দেখল করেছে সম্মুখের চেয়ারগুলি    

বাবা টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে পাঠ করে যায় 

 

মাছ ধুয়ে জল ঝেড়ে ফেলার সময় 

যেমন আগলে নেওয়া হাত 

বাবা তেমনই রোজ আগলে রাখে ধুলো ঝেড়ে 

একান্ত নিজস্ব ঠিকানায় লেখা চিঠি 

যা কখনও পাঠানো হবে না অন্য ঠিকানায় 

 

 

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন