মার্চ ২০২৩ পিয়াংকী ৬টি কবিতা

 



পিয়াংকী ৬টি কবিতা

 

শূন্যকে ভেঙেছে যারা

 

গুদামঘরের ইঁদুর অথবা ইতুপুজোর শস্য--

বৈরাগ্য যখন তাপমোচন করে  

জলীয় মাছের গায়ে জন্মায় শ্যাওলা

ঘুমের বিপক্ষে জেগে থাকে দুর্বিনীত দস্যু

 

সেইসব অস্ত্রমুহূর্তে বুকের ভিতর ডাহুক , সামান্যজল ডোবা আর কয়েকটি নুড়িপাথর

 

ধ্যানচ্যুত কপালের বালি, হাত দিয়ে সরাই 

আবছা কুয়াশা ঢাকা দিতে চায় পথিকের অসুখ

 

স্নানপথ = সম্মোহন

এই অসহায় চড়ায় সূর্য ডোবে না, ঘনত্বে জল ঢালে কে যেন

 

ঘিয়ের পাশে আগুন যেমন

কিছুটা সেভাবেই নাভির ওপর টিকে থাকে শূন্যভাঙা -দ্বীপ 

 

 

ডিপ্লোম্যাসি এবং ক্ষয়কাজ

 

প্রবাহের দিকে তাকিয়ে থাকি

একটা একটা করে তীর ছুঁয়ে যায় জলতল

তেষ্টা থেকে উপচে পড়ে কাকের পালক 

 

মসৃণতা কি অনুবাত ঢালের মত খানিক অহংকারী

 

পুকুরে ঢিল পড়ে। জল হেঁটে যায়

হেঁকে যায় শরীর পর্যন্ত 

দরজা বন্ধ। কড়িবরগায় জ্যান্ত পাখি

যতদূর যাবার কথা ছিল, স্নান শেষে ততদূরই...

 

ধার্য দ্রবণে এখন ক্ষয়কাজ

ডিপ্রেশনে কলমীলতা

 

ঘর ভেসে গেছে যে  অবিচ্ছিন্ন  জরিমানায়, কুলোর বাতাস দিয়ে ক্রমশ তাকে... 

 

জন্ম কেটে যায় ওয়াকিং স্টিকের পাশে জিরিয়ে নেওয়া সাবলম্বী হাঁটুর ক্ষতে 

 

 

শবাসন থেকে উঠে 

 

মোহ এবং অবসন্নতা...  মিলিয়ে গেলে শূন্যস্থানে জমতে থাকে ইকুইটি 

ছাপোষা গতর ফুলে ওঠে।  ময়ূর বাসা করে ঠিক মধ্যবিত্ত সমাজের মতো

নাভিকূপের ওপর ব্যালেন্স খেলা দেখায় আমন্ত্রিত অতিথিরা

 

লাস্য অথবা উর্জা -- স্থানীয় পাঁচিলে ছোপধরা বিচ্ছিরি লাল 

স্তুতিসমেত কিছু বৃন্তচ্যুত অশোক

 

গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেছে অতীত 

এখন ক্রাইটেরিয়াতে নকল নোঙর

 

মাথার পেছনে যত সাদা পেঁচার বসবাস  , দু'চোখে গিলে নিচ্ছে রুদ্ধ অমাবস্যা 

সম্বিত ফিরেছে--

আড়মোড়া ভেঙে মজুতঘরে সবাই 

 

আপাতত... 

বিছানায় রোদ আর শবাসনে ছড়িয়ে থাকা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ 

  

যা কিছু স্পর্শকাতর

 

বনমোরগের বাস ভিটের ঠিক পেছনেই

রোজ রাতে বিড়াল এলে সে গুটিয়ে ফেলে অস্পৃশ্য চামড়া

কামড় খায়, দেয়ও

বন্যা হলে ঘরের ভিতর জল ঢোকে

খুঁজে পায় না পরস্পরকে

দাঁত খিঁচিয়ে মাটি খুঁড়ে... উল্টে ফেলে ঘটিবাটি  

 

হ্যামলেটের মতো এখানে কেউ মাঝরাতে চিঠি বিলি করে না

নক্ষত্র সরলে ছুটে যায় না পেছন পেছন 

 

শিকারী আসে, চন্দ্রাবতীর নিভু আঘাত  জ্বলে থাকে লুটেরার জোড়াভুরুর মধ্যিখানে

 

জল নেমে যায়,

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আরও নিচে ক্রমাগত অদৃশ্য হতে থাকে  স্পর্শকাতর একটি নম্রঅধ্যায় 

 

 

ক্যামোফ্লাজ আর হরিণ 

 

জিরিয়ে নিতে নিতেই ঘুম ভেঙে যায় 

একটা ঘুম ভেঙে গেলে আরেকটা ঘুম

মাঝের ইঞ্চিখানেক দূরত্বে পোকামাকড়ের রাজত্ব তখন।  কিলবিল মফস্বল 

 

উল্লাস ফেটে চৌচির হচ্ছে পরিধি

স্বপ্নের দরজায় হরিণ বসে।

ঘুমের জরিমানা ঘুম ছাড়া আর কি হতে পারে -- সামান্য এটুকু ভাবতে ভাবতেই বিদ্রোহী হয়ে উঠছে অপটিক লোবের রাসায়নিক

 

...ধুম জ্বর। বিবর্ণমুখ মানুষ। আলপথ পিছল।

 

 ক্যামোফ্লাজ আর কিছু খণ্ডচিত্র -- ঘুম এখানে ঢিলেঢালা সাপের খোলস 

 

 

একটি বঁড়শি একটি ঘর


সংক্ষিপ্ত হবার রাস্তায় দাঁড়িপাল্লা

ওজন অনুযায়ী ভাগ হবে নাভিকুণ্ড

এখনো ঢের দেরি, তীর্থের কাক সেজে আছে যারা তাদের কপালে জোড়তিলক

 

স্নানঘরে বড়শি ফেলে চলে গিয়ে ফেরবার  দৌড়ে আসছে কেউ কেউ 

যত সহজ এই যাতায়াত বা চলাচল 

হয়তো তার এক সিকিও নয় স্তব্ধ হওয়া 

 

এরপরও স্মৃতিপাপ জন্মায়

কাদা কাদা অন্ধমাটি জলের মতো মিশে যায় বেহায়া জলচরের গায়ে

আয়ু আর আবির্ভাবের মাঝে সরু গলিতে প্রজাপতি ওড়ে

শামুক ত্যাগ করে খোলস

 

অমাবস্যার প্রাক্ মুহূর্তে আধসন্ধ্যা জানান দেয় স্নানঘরে সারসের উপস্থিতি 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন