অমিতাভ দাস ৫টি কবিতা টানা গদ্যে লেখা
পাগল রচিত
🌿🌿
ক্ষণস্থায়ী বিষাদের দিনে বেজে উঠেছে মেঘ। বেদনার ডম্বরু। রিনরিনে চোখের
জল থেকে ভালোবাসার অনাঘ্রত ফুলগুলি শুকিয়ে গিয়েছে আজ প্রখর রৌদ্রসম্পাতে। আজ আমি নিশ্চুপ।
পুড়ে যাওয়া পাতার মতো হা হা বিষাদ সেলাই করেছি বসে। সারাদিন। সারাদিন আমি তোমার নিজস্ব
বিষাদগুলি সেলাই করেছি দ্যাখো। বিসর্জনের দিন এগিয়ে আসছে। এগিয়ে আসছে আমাদের ধুলি-চন্দনের
শোকগুলি। গোধুলির মেঘে মেঘে এ কী দাহ...ঝরে যাওয়া পাতাদের ব্যাথা, কেউ চলে যাবে বলে,
এত কী কাঁদতে আছে...? পাগল একটা...
পাগল রচিত-২
🌿🌿
কিছুদিন ভাবছি নিজস্ব নির্জনে কাটাব। কিছুদিন মুখবই থেকে বার্তালাপ থেকে
নিজেকে সরিয়ে রাখব। তারপর দেখব জ্যোৎস্নায় ফুটে ওঠা রাতফুলগুলির আনন্দ- ঘন চেহারা।
ঝড়-বৃষ্টির দিন তো এগিয়ে আসছে। অখ্যাত নদীতীরে গিয়ে বসব কিছুক্ষণ। ঝড় আমার কী আর ক্ষতি
করবে! জীবন তো আসলে ঝড়-বাদলের সঞ্চয়। ধূ ধূ মাঠ, সাইকেল...চাকায় লেগে থাকা ধুলো। আমি
সে ধুলো হতে চেয়েছি কতকাল। উড়ে যেতে চেয়েছি কেবল তোমার অসীমে...
পাগল রচিত-৩
🌿🌿
বারবার তোমাকে বলেছি, নিষ্ঠুর লোকজনদের থেকে দূরে দূরে থেকো। অথচ কী এক
হৃদয়ের ঔদার্য তোমার, বারবার ভুল হয়। ভুলভাল মানুষের সংশ্রবে নিজেকে বিদ্ধ করেছ প্রিয়
ফুল। বারবার বলেছি, ফিরে এসো-- এই ঔদাসীন্য, একাকীত্বের মায়াবী সংসারে। ফিরে এসো বিদ্যারূপের
অহং স্বরূপে। কিছু নেই-- কেউ নেই-- পঙ্কিল স্বার্থমগ্ন তিলফুল। রূপের বিভাব। মাকাল
ফলের আশ্চর্য শোভা। তোমাকে বিমোহিত করেছে কেবল... আচার্য শঙ্কর বলছেন: জগত মায়া...সেই
মায়ারচিত সংসারে দেবী ললিতা ও তাঁর চৌষট্টিযোগিনী...তুমি ছায়ামাত্র, আত্মা তোমাকে ছেড়ে
চলে গেছে কবে...
পাগল রচিত- ৪
🌿🌿
কে হেরে গেল আর কে জিতে গেল, জানা নেই। শুধু ঝড় উঠেছিল। শুধু মরুবেহাগের
সুর। ধুলোতে ঢেকেছিল সমগ্র শরীর। শরীরের ভেতরে কোষে কোষে, রক্তে রক্তে পুরোনো বিষন্ন
অতীত দাপিয়ে ফিরছিল। আমাদের নিয়তি তাড়িত জীবন। নিয়মিত লাঞ্ছনার শেষ হবে চিতামগ্ন দিনে।
যতদিন তুমি বেঁচে থাকবে জানবে, তুমি হেরে ভূত হয়ে আছো। বৈশাখ বিকেল জুড়ে কী এক আলুথালু
লিলুয়া-বাতাস...কী এক অশনি সংকেত...এ জীবন এত মায়া, ফুলেদের পাপড়ি ছিঁড়ে ফেলার যন্ত্রণায়
গাঁথা...হেরে যাবে বলেই তো বারবার সমুদ্র লিখেছ...
পাগল রচিত-৫
অদ্ভুত একটা ঘোর। অদ্ভুত একাকীত্বের নেশা। ছুঁয়ে ফেলছে বেঁচে থাকার সামূহিক
দাহ। নৈঃশব্দ্যের ভিতর থেকে কে ডাক পাঠায়। কে আমায় বলে ফিরে এসো। এই মোহ তবে কতদূর
সত্য! কতদূর সত্য কামকাঞ্চনের মায়া! বড় বিস্ময়, আধিভৌতিক শিস্ ওঠে। হিস্ হিস্ ধ্বনি
চরাচর জুড়ে...হারিয়ে ফেলেছি রুমাল, ছাতা, কলম, ডায়েরি...শুধু ওষুধের ছেঁড়া পাতা, বিয়ারের
শূন্য বোতল। হুস করে পাখি উড়ে যায় রৌদ্রস্নাত দিনের গভীরে...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন