সমিধ গঙ্গোপাধ্যায় ৫টি কবিতা

 


সমিধ গঙ্গোপাধ্যায় ৫টি কবিতা

১ জার্নাল ৪০

 

ছেচল্লিশ ইঞ্চি খবরের কাগজের

তৃতীয় পাতার চেয়ে বহুগুণে জনপ্রিয়

ছয় ইঞ্চি মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ সুঠাম

জ্যাকেটবিহীন ঘোড়াশাল

 

'অতিবড় সাধকের নিরালা কামড়' নামে

অসহায় সূচীপত্রে শ্যাম্পু ও খুসকি বোঝায়,

প্রত্যেক ফোকলা কবিকে।

 

২ জার্নাল ৩৪

 

মরণের মতো নশ্বর একটা মৃত্যু

তার জন্য পাওনা বাবদ এত কানাকানি?

বিগত দারোগাবাবুদের ফাস্টোকেলাস

পান মুখে গুঁজে দিয়ে সরেজমিন হওয়া?

 

ঈশ্বরের মতো দামী একটা মৃত্যু

শৈলী তার পাশে বসে লজ্জায় হা হা হো হো

ঠিক যেন অপলক স্বয়মাগতা--

অবধারিত রঙ বেছে নিয়ে তার গোপন জামিন

 

কুকুরের মতো অতন্দ্র একটা মৃত্যু

লাইনে নতুন

শ্বাসের ভেতরে হুমড়ি খাওয়ার শব্দ শুনে এখনও বেচারা

গুরুপাকের পর একটা তেতো মাথা একঢোকে গেলার বদলে

ভুল করে চিবোয় বারবার...

 

৩ জার্নাল ২৯

 

অফিসে মিথ্যে কাজের কথা বলে

বেরিয়ে আসাটা

আমার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে

এমনভাবে দাঁড়িয়েছে যে বিভিন্ন

পায়ের তলায় মাথা বিঁধিয়ে দিতে পারে

অথচ আমার কোনও যন্ত্রণার সমকক্ষ

তুমি নও, হতেও পারো না

এবং কর্মের ক্ষেত্রফলের চেয়ে বেশি বেতনের মান

তুমি আমি কেউই চাই না

 

নির্ঘাত পরীক্ষার ধৈর্য তোমার

অসার পায়ুর চেয়ে বেশি বিমৃষ্য নয়

আর হকিংয়ের নেমন্তন্নে যারা পোকার গর্ত থেকে

বেরিয়ে আসতে পারতো

তারা শেষ অবধি নির্মিত কীটনাশকের গন্ধে

রাস্তার মতামতে ফিরেছে বিরাট

এবং একটি নমনীয় প্লাস্টিক সময়ের দাঁতনহীন মুখে

নিঃসন্দেহে চুমু রাখতে পারে যেভাবে

আমি সেই পদ্ধতির সফল ধর্ষক ও সার্থক সন্তান হবো

আমাকে আজও আরেকটা অফিশিয়াল মিথ্যে

লিখে নিয়ে যেতে হবে আগামী নামক কিছু

নেয়ামত আবিস্কার করার আগেভাগে।

৪ জার্নাল ৩১

 

ছোট নখের ময়লা

নখের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ পাতায়

ছাদে বসে তোমার কাঠের মতো শক্ত

আর বেড়ালির মতো নরম

লেজে ধরা বিশুদ্ধ ব্যবসা মনে পড়ে

 

"ভাইফোঁটার দিনও এত মেজাজ রেখো না মনে"

আদিভূতা বলেছিলো

মানুষের অনুবাদের সঙ্গে পাথরের ক্ল্যাপস্টিক দেখে

বর্ণান্ধ ছেলেটির ঘাড়ে আক্ষেপ পুষিয়ে নিয়েছিলাম

আর আমাকে 'কলকাত্তাই' বলে বিষম খেতে খেতে

মানিয়ে নিয়েছিলো তোমার স্মরণীয় মুন্ডমালা

 

কী বলতে পারতাম জানার আগেই যদি

দুর্দম বার্ষিকী পেয়ে যাই এই ভয়ে

অশীতিপর প্রণাম গ্রহণ না করে আমি

জিভের সিসমোগ্রাফে বিনিয়োগ করেছিলাম বলে

বাজি কারখানার জন্য সহমর্মি নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে দিলে

 

এ বিহন টের পেলে ব্যথা নামক শ্রম যে বোধিবৃক্ষজীবী

হবে তাতে আর আশ্চর্য কী!

 

৫ বাধ্য

 

একদিন সব ছন্দ অস্বীকার করবার চারণ জোটাব। একবারই। কারা যেন কানের কাছে মৃদুপম বোলানের মতো শুনিয়ে গিয়েছিল, হাত বাড়ালেই পাকস্থলীর যে গুনগুন শোনো, তা মোটেও ছন্দহীন নয়। আমি সেই তেরছা মাদকে একচালাটি, আমার, খুইয়েছি।

 

হাঁসের পায়ের পাতা আমাকে একটুকরো শ্যাওলা শুষে নিতে বলেছিল কবে, মনে পড়াটা উচিৎ? পাঁচিলের ওপাশে উঁকি দিলে সে নিজেই ভর দিয়ে ওঠাটুকু শেখায়। প্রথম সে-কথা জেনে শরীরী রোঁয়ায় আণবিক দম ভরে নেওয়া। হাঁটু ছড়ে যাওয়াটি কী বাতিকের শিশুচন্দন!

 

শোবার ঘরের রোদ বারো পোয়া হয়ে ভর সন্ধেয় খুঁট ছেড়ে দেয়। আমার শব্দের কাছে আগন্তুক অন্ধকার কত সাবলীল। সে কোমর আলগা দিয়ে আমার যা প্রাণে প্রাণে ঘোরে! ঘোষণাহীন এক গ্রহের জন্ম ফেটে আরও গ্রহ আর পাঁজরভাষার হাড়ে অ-বিকার বেঁধেছেঁদে থাকা, ভরপুর। দেখি দেখি দেখি, ছাড়ে না তো!

 

দু-দন্ড প্রেম জিরোয় যেরকম হীন ঝলসানির ছায়ায়, সেরকম শ্বাসে আমি অমানুষ হব।

 

যেতে দাও...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন