দেবব্রত রায়-এর একগুচ্ছ কবিতা
থার্ডপার্সন
মেয়েটি তার শরীরের
সমস্ত
স্বরবর্ণ এবং
ব্যঞ্জনবর্ণগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে
একটা
পরিত্রাহি-চিৎকারে আমাকেই
ডেকেছিল !
আমার এই সাদামাটা জীবনে,
ট্রেন-বাস-ফেরিঘাটে স্কাইল্যাব,আইলা,লাতুর, গুজরাট,৭১-৭২ নিয়ে কত
ধুন্ধুমারই না
ঘটেছে
!
কত মানুষকে দেখেছি
শুধুমাত্র, বেঁচে
থাকার
আকুলতায় শূণ্য
মন্দিরের শিকড়হীন গাছ
আঁকড়ে
হাউমাউ
করে
কাঁদতে
!
নিজেকে বোঝাই, আপৎকালে থার্ডপার্টি ইন্সুরেন্স হোল্ডারের মতোই
এক-চুটকি হাওয়া ছাড়া
আমি
কিস্যু
নই!
অতএব
মেয়েটির অসহায়-আর্তনাদ শুনেও, প্রতিবাদহীন শব্দে
চায়ের
কাপটা
টেবিলে
নামিয়ে
একটি
অসংখ্যের ভীড়ে
প্রতিদিন মিশে
যাই
ভোঁতা কাঁচি বিষয়ক
তোমার দাঁত ও
জিভের
গঠন
দেখেই
বোঝা
যায়
তুমি
কী
চিবাও
অহরহ,
ভোঁতা
কাঁচিটি-র
মতো
একটা ফুলেরতোড়া সাজাতে
গিয়ে
কতগুলো
কুঁড়ি
তুমি
অকারণেই থেঁতলে
দিলে!
বহু চেষ্টায় একটা
ডিপ্রেশন ভেঙে
অঝোর-শ্রাবণ, বেশি কিছু নয়,সামান্য দু-একটা কাগজের
নৌকা
তোমার
বেত্রবতীর চরে ভাসাতে
চেয়েছিল...
অথচ, নৌকার বদলে
তুমি
কয়েকটা
কুমিরকেই বেছে
নিলে!
তোমার
কাছে
পাঁক
এবং
পাকাঁলমাছ দুটোই
সমান
কারণ,তুমি জানো একটিকে
প্রশ্রয় না
দিলে
, অন্যটিকে পাওয়া
মোটেই
সম্ভব
নয়
উওর-আধুনিক ভারত
খড়মের
ছাপ
ফেলছে'০'থেকে মহা
O-এ!
ইদানীং ভোঁতা-কাঁচিটি-ই
বায়োলজিবক্সে পরম
সহায়
ব্যালকনি
বস্তুত,একটা জামা
না
থাকলে
তার
পকেটের অস্তিত্বটিও যেমন
অলীক
ঠিক তেমনি কোনও
ঘর-বাড়ি ছাড়াই
একটা ব্যালকনি
আবছায়া অথবা, সম্পূর্ণ আলোক-সম্পাতহীন অন্দরমহল আর,গলি-ঘুঁজির
করিডর
আছে
বলেই, একটা খোলা-হাওয়ার ব্যালকনি দিব্বি
আকাশমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
আজন্মকাল
একটি মুক্তোদানাবর্ণের
আলো
একটা মুক্তোদানাবর্ণের আলো
ভাগ্যিস আমার
ভেতরে
সেঁধিয়ে গেছিল
নইলে,
জীবনভর
এত
অবহেলা
লাথি-ঝাঁটার দুরছাই-রেজিসটেনস কোন
অ্যান্টিবায়োটিক যোগান
দিত
যতবারই, চড়-থাপ্পড়
তীর
তরোয়াল
বিঁধেছে চামড়া
ভেদ
করে
একেবারে পঞ্চেন্দ্রিয়ে , একটা
শিশিরভেজা-সোঁদা
গন্ধ
আদরের
হাত
বুলিয়ে
গেছে
শরীরে
!
একজন ফার্স্টডাউন ব্যাটসম্যান টেল-এন্ডে এসে দাঁড়িয়েছে বিষুবরেখার উপর
!
আলোগুলোও কি এভাবেই ফিরে আসে
মুক্তি
না-পাওয়া অন্ধকারের মতোই
! চারিদিকের লু-বাতাসজুড়ে মাত্র, একজনই মানুষ
বাকীবাদ, শয়তানের কীটাণুদাস !
প্রেম ছড়িয়ে পড়ে সুষুম্নাকাণ্ড
জুড়ে
একটা গোলাপফুল এবং
কাঠের
চেয়ারের প্রেমের কাবুলিয়তনামা লেখা
হতেই,
করাতের
ষষ্ঠাঙ্গ থেকে
বেরিয়ে
এলেন
কিশোরকুমার
মেরেছো কলসির কানা,
তাই
বলে
কি
প্রেম
দেবো
না,বলে গলা জড়িয়ে
ধরে
ঘরজামাই পালানো-ভাদ্রমাস, যেন ক্ষমতাসীনদের সশ্রদ্ধ হাততালির ভিতর
দিয়ে
হেঁটে
গেলেন
বিরোধীরা
হাউইয়ের ফুলঝুরিগুলো বৃষ্টির ফোঁটার মতো নেমে
আসে
এলপিজি
পেট্রোল ডিজেল
আলু
বেগুনের সীতাহরণ এবং
লঙ্কাকাণ্ড জুড়ে
আর আলো বাতাস
এরা
কেউ-ই আমার পোষা নয়
অথচ,
সুষুম্নাকাণ্ড জুড়ে
চড়ুই
পাখির
মতোই
নেচে
বেড়ায়
টকের জ্বালা
রাতের বসন্তবাহার রাগ
দীপক
হয়ে
উঠতেই,
স্বপ্নের করিডরে
আমি
একটা
রিভলবার পোষার
বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম
অনেকটাই পোষ্যহীন বাড়ির দরজায় বি-ওয়্যার অব ডগের
মতন
অথবা,
কলিংবেলে কুকুরের সরগম
বাঁধা
থাকলে
যেমনটা
হয়
কিন্তু সবই উল্টা
বুঝলি
রাম,
আপাতত
ঘুমের
পরিখায়
আসপাশের পরিদেরও আনাগোনা বন্ধ
হয়ে
গেছে
টকের জ্বালায় পালিয়ে
এসে
তেঁতুলতলায় বাসের
মতো
ইদানিং,
প্রতিরাতেই, স্বপ্নের মধ্যে
ছেনোমস্তান এসে
হানা
দেয়
নিয়ন্ত্রিত পরমাণুশক্তিও যে ন্যাংটোকালী হয়ে
উঠতে
পারে
তা
বোধহয়,
শিবের
বাবাও
জানতেন
না
অমর্ত্য
সেন ও জগাইমাধাই
এমনকী ,অমৃতকণাও চিরস্থায়ী নয়
অর্থাৎ,
অক্সিজেনের ও
মৃত্যু
হয়
এবং
যেহেতু,
কারোর
কারোর
অক্সিজেন ইজুক্যালটু, রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দ...
ফলত, তাদের নিঃশ্বাসে কার্বনডাইঅক্সাইডের পরিমাণ
জিরো
কিন্তু,
নির্মল
জ্যোৎস্নায় শুধু
তো
মা
মেরি-ই থাকেন না,
সেখানে
হেরডের
উপস্থিতিও ভীষণ
প্রয়োজন
অর্থাৎ, যে-কোনো
নির্মলতার পিছনে
শুধুমাত্র, নির্মা-
ডিটারজেন্ট পাউডারই নয়,
হারকিউলিস-শ্রমও
লাগে
ভেরি গুডবয় রেজিস্টারে যেমন
অমর্ত্য সেন-রা থাকেন তেমনি-ই, জগাইমাধাইদেরও পাশাপাশি থাকতে
হয়
নাহলে,
এত
সহজেই
নিমাইকে চেনা
যেতো
কি...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন