অভিনন্দন মাইতির
একগুচ্ছ কবিতা
হানাবাড়ি
নিরাকার ফাঁস বেঁধে বেঁধে প্রেম খরগোশ হয়ে
তোমার পায়ের পাশে বসে।
তোমার কটাক্ষ। খরগোশের লাল গুটি চোখ।
চোখাচোখি বারবার।
দোলনচাঁপা আঙুল। বেসিনের জল ছোঁয়।
শিরশিরানি প্রবহমান তড়িৎ। লসিকায় মেশে।
রশি টানলেও সরে না রথ। কেবল ঝনঝন নড়ে।
ঝনাৎকারের ঝুরি বেয়ে
নামে লালনীলহলুদ অভিমান। মায়াকাজল....
টেমস নদীর তলপেটে হানাঘর। পাঁজর ছিঁড়ে ছিঁড়ে
জোড়া লাগায় পাঁজর। ভেঙে ফেলে আবার!
স্বগতোক্তি। নিজের সাথেই! অশ্রুত....
হানাবাড়ির ছোবল !
আগলে রাখি হানাবাড়ি...
পলি পড়ে আছে এতদূর !
একটা হলুদ তরঙ্গ রক্ত সংবহনতন্ত্রে ঢুকে
বেগনি ঝিল হয়ে গেল!
ঝিলের পাড়। জোসনা নরম জল।
আলতো ডোবানো দুই পা।
কিশোরী মেয়ের মতো খেলাচ্ছলে
দু পা দোলাচ্ছ । সামনে- পেছনে।
সৃষ্টি হচ্ছে জলবৃত্ত।
জলের আল্পনা।
বৃত্তের পরিধি হতে কেন্দ্র
গড়ার আগেই গড়ছে!
ভাঙার আগেই ভাঙছে !
বনহংসী। উদ্ভিন্ন যৌবনা ।
তোমার রাতুল চরণ লিপ্তপদ হয়ে গেছে!
জলের ভেতর চোখ!
ওল্টানো মূর্ধা।
পলি পড়ে আছে এতদূর...
নীল পিঁপড়ে...
লালশাদাবেগনি নক্ষত্রনদীজলে
মাত্র সাত সেকেন্ড হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলে,
আর আমি দাহ্য আনন্দের যন্ত্রনায়
সাত হাজার নীল তারাকে গুম ক'রে ফেলেছিলাম!
নরম দৃষ্টি আলোয় মোমের রুপালি জল ।
নীল চন্দন সরোবর। সুমেরীয় রানি। জলের বুদ্বুদ ।
তালশাঁস তালশাঁস গুহা।
ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়তে শুরু করেছি।
জিভের ভেতর জিভ,
জিভের বাহিরে জিভ।
নীল পিঁপড়ে আমার দখল নিচ্ছে...
গারদের বাহিরে বন্দীরা ঘোরে
উঁচু মাথা। বেঁটে চোখ।
বেঁটে চোখ। উঁচু মাথা।
দল বেঁধে গারদের বাহিরে বন্দীরা ঘোরে।
ঠুলি চোখের কার্বন কপি।
বন্ধ কানের কার্বন কপি।
জেরক্স সেন্টার থেকে জেরক্স সেন্টার।
ল্যাজ নাড়ে ব্যাঙাচি।
চকচকে বুট। পালিশ করে লকলকে চোখের লালা !
আলজিভ । পেছন থেকে খোলা। সামনে আটকানো।
কুনোব্যাঙ। প্রতিবিম্ব ।
কালো জল...
ব্রহ্ম তালুর নীচে শেকড়। ব্যাঙাচির ঝাঁক।
জনুক্রম, জীবনচক্র শেষ হয় তাদের।
দল বেঁধে গারদের বাহিরে বন্দীরা ঘোরে
অতিথি
নিদ্রার শিরায় পাতা খসার হলুদ শব্দ।
গোঙানো বিকেল । আবছা আলো।
অরব হুইসেল !
একটা কনকনে স্রোত আমার শিরদাঁড়া মুড়ে
পাট ক'রে রাখল।
দরদর ঘেমে নেয়ে উঠছি ।
অনির্বচনীয় অন্ধকার। লাল কুঠি। নীল কুঠি।
অনিকেত আলোর পাপড়ি।
পেরিয়ে যাচ্ছি সব...
কুয়াশাময় নৌকা,
অনাহুত অতিথি
মাছ
মাঝরাতে একবার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল আর আমি
চোখ বেঁধে পৃথিবীকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছিলাম!
বুড়ো আঙলে পৃথিবীকে সরিয়ে পৃথিবীর-ই কক্ষপথে
প্রদক্ষিণ শুরু করেছি।
দেখি ,জুরাসিক যুগের এক সরীসৃপ যার জিভ নেই
নিঃশব্দে হেঁটে যাচ্ছে।
ব্রেইল পদ্ধতিতে স্পর্শ করলাম । সব তারাদের নাভি ছুঁয়ে ছুঁয়ে
একটা নীল রেখা আমার কোষে কোষে ঢুকে পড়ল!
মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে আমি ভরশূন্য মাছ !
ফ্যাকশে । সুস্বাদু । কষাটে...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন