লকেটের চাঁদ /ইন্দ্রাণী পাল
(১)
শ্রাবণের অধিক তুমি, শ্রাবণমদিরা
তুমি ঊর্ণাজাল, তুমি কুহক
সূর্যের পানে তুমি সম্বরণ
পরিবার পরিকল্পনার ভেতর ছেড়া
টুপি
গার্হস্থ্যের ময়ূরনিক্কণ
মেঘে মেঘে প্রিয়াবিরহী বার্তা
তুমি কলহ,তুমি ক্রোধ
তুমি ত্রাণ,তুমি অগ্নি
তৃষাতুর অক্ষিগোলক বনবন ঘোরে
অন্ন ও ভূমায়
যুগে যুগে আমাদের সর্বস্ব হরণ
হল
এই নিবিড়তা আমাদের,তমসাকুহকে
তোমাকেই সর্বস্ব দিলাম।
(২)
বীজের উপমা তুমি
বীজপত্র দ্বিধা হল।
ঘুমঘোরে যদি কেউ আসে
ছায়ার ঘোমটা মুখে টানি
লিখে যাই গূঢ় সঙ্কেত
জলের অক্ষর ঝাপসা
আম-জাম-তাল নিয়ে
আমাদের ছোট গ্রাম
যুগে যুগে পলি পড়ে
আমি তার কোলে জন্ম নিয়ে
প্রতি জন্মে হই চন্ডীদাস।
(৩)
ভবচক্রে জড়বৎ, এই পাখির নীড়ের
চোখ তোমাকেই দিলাম
ত্রস্ত শালিকের ডিম, মেঘেদের
উবুদশ
শীঘ্রপতন দোষে মাঝরাতে ঘুম
ভাঙে
মধুবৎ গীতিকবিতার পাশে লাঙলের
ফলা
শত শতাব্দীর শ্রী উল্লাসে ফোটে,
কলার মান্দাসে বেহুলা
সান্ধ্যভাষা চর্যাপদ অতিক্রম
করিল
এই সায়ংকালে মাটির দেউটি পরে
একটি মথ
ঘুরে ঘুরে বসে
নদীমাতৃক দেশে পিতৃপুরুষ বছরে
একবারই জল পায়
কলার মান্দাস ভাসে, গাঙে গাঙে
বাংলা গীতিকবিতার ঢল।
(৪)
তোমার শান্তি নেই, জল
তোমার স্বস্তি নেই,নৌকা
বাঁদিকে সারস,ডাইনে মজা খাল
টুপটাপ বৃষ্টি
এখানে বাংলা ছন্দ হাঁটু মুড়ে
বসে
পয়ারে কাব্য লেখে চাঁদ
লাউডগা সাপ গাছে গাছে ঝোলে
বীণা বাজে না, বীণাবাদিনীও
আসে না
মনখারাপের গিটার অন্যদিকে ঢেউ
তোলে
গর্ভিণীর ডিম্বাশয়ে জন্ম নেয়
রুদ্রপলাশ।
(৫)
লকেটের চাঁদ চিবোতে চিবোতে
মেয়েরা চলেছে
যখন প্রথম ধরেছে কলি
কমলি বোষ্টুমীর কাছে ওপাড়ার
ছেলেরা
ঘুরঘুর করছে
আলো পোড়ে ; রতনের বউ রতনকে
ফেলে
কাল রাত্তিরে
কোথাও একটা উধাও হয়েছে
মেঘেরা আমাদের জন্য অপেক্ষা
করেনি
চাঁদও করেনি।
৬)
উদ্ধত বেজি আমি, জলে স্থলে অন্তরীক্ষে সাপ ধরে খাই
এই খেলা রন্ধ্রে রন্ধ্রে তুমিও
কি দেখেছ?
একদিন নৌকার গলুই তোমার হাত
ফস্কে গিয়েছিল চর্যাপদ
একদিন বাংলার পলিমাটি কোমলে
পা ফেলেছিল
প্রদ্যুম্নের বাঁশিতে সরস্বতী
ধরা দেয়
মাৎস্যন্যায় অন্তে সিংহাসনে
গোপাল
আমাদের মেঘে মেঘে নৌকা অমলিন
আমাদের কন্টিকারি ঝোপে গোধূলিসন্ধির
সূর্য
অস্ত যায়। উদ্ধত বেজি আমি
শ্রাবণ মালকোষ বাজাতে গিয়ে
দেখি
এইসব সামান্য লেখালেখি
জলের ঝাপটা লেগে ভিজে গেছে
পীন পয়োধরা দেবী, আর একবার
এসো,
আমাদের রক্ত এখনও টগবগে
প্রদ্যুম্নের বেশে আমি চিরকাল
বাঁশরি বাজাব।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন