জানুয়ারি ২০২৩ কমলিকা দত্ত ৫টি কবিতা

 





কমলিকা দত্ত  গুচ্ছকবিতা

 

 

 

খনন

 

শূন্যতার ভিতরে একটি ইচ্ছে পুঁতে এসেছি...

অজান্তে কেউ  জল দিয়ে যায় রোজ---

রোদ দেখলেই  ছায়ারা এগিয়ে আসে

কোথাও একটা গাছের জন্ম হচ্ছে

যা কিছু বাড়ছে আসলে মাটির তলায়

মৃত্যু না এলে, মাটি খুঁড়বার প্রসঙগগুলো ওঠে না 

 

মন খারাপের পাশ দিয়ে হেঁটে কবিতা খুঁজছে কেউ...

কবিতার পাশে কবিদের ঘরবাড়ি

চালের কাঁকর বাছতে বাছতে ভুলে যাওয়া ধানখেত ,

বোঝাতে পারে না  --কৃষকের চেয়ে বড় কবি আর নেই...

 

 

শতক পেরিয়ে

 

আমাদের আর

বইপত্তর, খাতা পেনসিল লাগে না

পায়ে পায়ে আর ভাঙতে হয় না সিঁড়ি

তালুতে তালুতে জাদু--

জাদুঘরে রাখা  ভীনদেশী কিছু আপেল

পাহারা দিচ্ছে পোষমানা দেশী কুকুর

মাথার ওপরে এপাইরাসের ছাদ

হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে নিওলিথিক্যাল ঘর,

ঢালা হয়ে গেছে শেষ দোয়াতের কালি...

প্যাপিরাসে কেউ লিখে রেখে গেছে বিস্মিত কারাবাস!

দূরে আছে দাঁড়িয়ে,  গোলাপ হাতে-- দাঁত বের করা  ড্রপ আউট সভ্যতা

 

পাসওয়ার্ড

 

হাঁটতে হাঁটতে যারা পেয়েছিল আগুনের পাসওয়ার্ড, তারা  চলে গেছে ঘরবাড়ি খুলে রেখে তারপর থেকে  আগুনকে আর ভিক্ষা করতে হয়নি। খোঁজের যখন আগুন জন্ম হলো, তখন থেকেই অভাব, জোগাড়, বাড়ন্ত বলে কিছু নেই... লালার ভিতর  হ্যাক হয়ে গেছে খিদে ...

গোটা গোটা জিভ,উঁচু নীচু দাঁত, অথবা আস্ত চোয়াল

গা ঘষলেই... ,

আগুনের পেট পোয়াতি , মানুষের ঘরে এক এক করে  প্রতিটা খবরই সাধারণ।

 

আগুন বলছে, ওরা ভুলে গেছে গুপ্তমন্ত্র ছেটাতে...

মানুষেরা বলে, তো জানেনা কখন নিভতে হয়!

 

 

 "সেই লোকটির মত"

 

উচ্চতার প্রসঙগ উঠলে, সেই লোকটির কথা মনে পড়ে, যুদ্ধে গিয়ে যে উঁচু হয়ে হেঁটেছিল... অবশ্য  আর ফেরেনি। বেশি ঝুঁকে গেলে হাতগুলো সব পায়ের মতন লাগে। রোদ বৃষ্টিও ওঠা নামা করে ছাতা হারাবার জন্য।  যুদ্ধে তো  ছাতা লাগে না। মৃত্যু না এলে জামাও খোলে না কেউ। দাঁত--সাদা,কালো,নিরেট অথবা  ভাঙা - তফাত পড়ে না কিছু...  হাসতে হাসতে যুদ্ধ করাও যায় না... এই মুহূর্তে হামাগুড়ি দিলে সবাই  গড়িয়ে যাব।

যুদ্ধ বাঁধলে তখন না হয় উঁচু হব, নীচু হব।

উচ্চতা থেকে সরে, আসুন একটু সোজা হয়ে হাঁটি এখন...

 

"হাত তুলবেন প্লিজ "

 

জলের ওপর কে যেন বলছে মুক্ত খোঁজার গল্প!

জলের তলায় কান্না জমছে ডুবুরির...

অনেক কান্না, অনেক কান্না লাগে--

অনেক কান্না না হলে,

রাস্তা, শহর, জাহাজ, নাবিক সাঁতার কাটতে পারে না

 

শামুকজন্ম... এগোলে... পিছোতে জানে,

বাথটব আর সমুদ্র সবই এক স্যুটকেসে ঢুকে যায়

ডেবিট, ক্রেডিট, মর্টগেজ, লোন জলের ওপর ভাসছে..

ভাসতে ভাসতে  কে যেন বলছে মুক্ত খোঁজার গল্প!

হাত তুলবেন প্লিজ...

ডুবসাঁতারের সিলেবাস শেষ হলে,

আপনাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ব সাবমেরিনের খোঁজে...


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন