রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায় কবিতাগুচ্ছ
মাইগ্রেন
অন্য মহাদেশে থাকে মেয়ে...আয়ার সাথে প্রায়ই কথা হয়
‘কিছু প্রয়োজন হলে জানিয়ো। চিন্তা কোরোনা সব ব্যবস্থা করে রাখা আছে।‘
ব্যালকনির কোণে দেখা যাচ্ছে আকাশ কালো হয়ে এল...
“ছাতা ছাড়া বেরোস
না পাপলান, অসময়ের বৃষ্টিতে মাথা না ভেজে,
তোর মাইগ্রেন কেমন আছে?”
অসুখ
যে অসুখ সারেনি সেভাবে, আজীবন আরোগ্যের স্বপ্ন অধরা থেকে গেছে
যে অসুখ আমাকে আমার থেকে দূরে নিয়ে যেতে যেতে ক্রমশঃ শূন্য একটা খাদ
যে অসুখ অন্তর্লীনের আয়ুধে আমাকে সশস্ত্র করেছে
যে অসুখে ডুবে যেতে যেতে আমি সলতের আঁশ থেকে শিখার অন্বয় চিনে নিই
সে অসুখ এক
জীবনের মাপে ধরেছি মুঠোয়
ফয়েলের স্তুপে কোথায় হারিয়ে গেছে তুলতুলে আলো...খররোদ...
ঠাকুর
একটা মারকাটারি ধুন্ধুমার বাঁধিয়ে চলে গেল লোকটা
কিছুতেই ছাড়াতে পারছি না অযুত শাখাপ্রশাখার স্পর্শ
আধোবুলি থেকে খেলার নৌকো
ভেসে গেছে...ভাসিয়েছে ঘাটও
কত শব্দে এক জন্ম উপছে ওঠে...বসুধা ও খ ব্যেপে দোলাচল জাগে মহীয়ান
সৃষ্টির জাদুঘোরে নিহিত জননী গর্বিত হয়ে
ওঠে সন্তানের উন্মন খেলায়
যে আকাশ আলো রেখে যায়, সে আলোয় নিবিড় কদম্ববনে সুর খসে পড়ে
“কে তুমি পড়িছ
বসি আমার কবিতাখানি আজি
হতে শতবর্ষ পরে”...
অমরত্ব
প্রাচীন গুম্ফার ভেতরে যে অন্ধকারে শ্রমনের সংযমও ভেসে যায়
অনুচ্চারিত কথাদের ঢাল বেয়ে নেমে আসে কানীন আলোরা
যেভাবে বোঝার কথা নয়, ধর, সেভাবেই বোঝাতে বসেছি এইসব
ধর, ভুল কিনারে ছপাট ছপ ধাক্কা দিয়ে গেছে চেনা ঢেউ
ধর, সে জটিল বার্তা রেখে যাওয়া আবর্তনের ভেতরে
অনিচ্ছুক দাঁড়িয়েছে এসে যত অবিকৃত
ক্ষরণের ক্ষত ও ক্কাথ
ব্যর্থ প্রতিশ্রুতির রেলিংয়ে যে বিকেল খুঁজে দিয়েছিল অপূর্ণ ইশারা
তার পুনশ্চতে রূপরসবর্ণগন্ধস্পর্শ
ঘিরে অবতীর্ণ হয়েছে অমিয়...
অর্জন
ওই জারুল পাতার কাছে ঠিকানা রেখে চলে যাচ্ছি
তুমি কি জানো পাতাদের বর্ণমালা থেকে উদ্ধার করতে হয়?
অলীক বিভাব থেকে চুঁইয়ে আসা আলোর শিরোস্ত্রাণ খুলে রেখে
যে সম্রাট নিঃসঙ্গ ঢেউয়ে ডুব দিতে ক্রমশঃ তলিয়ে চলেছেন
তার নিবে আর কোন শব্দ অবশিষ্ট নেই...এযাবৎ কৃতি ভুলে তিনি যেন
একজন নতুন মানুষ, জীবনের কাছে তার কোন ঋণ নেই
এই নিরাবয়বে, নিরাকারে
বারবার আমি তোমাকেই খুঁজে
পাই
এ উন্মত্ততা আমার
অর্জন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন