জানুয়ারি ২০২৫এর কবি অলক্তিকা চক্রবর্তীর একগুচ্ছ কবিতা

 



অলক্তিকা চক্রবর্তীর একগুচ্ছ কবিতা

 

 

ডাক

 

অলক্তিকা চক্রবর্তী

 

ধরে রাখি মুহূর্ত কথা

আজন্মের সকাল হওয়া পাখি ডাকা ভোরবেলা

 

কবেকার সংকল্পগুলো কেমন সাধনক্ষেত্র হয়ে জুড়ে

নক্ষত্রের হাতে হাত

এলোচুলে উঠে আসা মায়ের আসন

 

পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সামলে আত্নস্থ সংলাপে

ঢেউ হয় যেতে যেতে কেবল কানে বাজে ,'বউ কথা কও' নাকি 'চোখ গেল' কে জানে

 

কোন ছিন্নমতি পালক খসানোর ডাক দিয়ে চলেছে  অবিরত

আমায় জাগাতে চেয়ে...

 

 

সৃষ্টি 

 

 

ঘুমন্ত সোহাগ পাশ ফিরে থাকে --

 

রাতের কোটরে জেগে ওঠে প্রাণ 

এবার অস্তিত্ব যুদ্ধ করবে 

তার পাওয়া না পাওয়ার দ্বৈরথ

 

দ্বন্দ্ব অবসানে কে জিতে নেবে জয় রথ 

 

শঙ্খ বাজিয়ে শব্দের বসত গড়বে কেউ 

কেউ বা বর্ণনায় কষ্টের কলম রক্ত ঝরাবে

 

 আর প্রান পাখি শুধু মুখ তুলে ঠোঁটে ঠোঁট বেঁটে দেবে সোহাগের ডালপালা 

 

অস্থির সময় শুধু বয়ে যাবে টিকটিক কর্ম ক্লান্ত গতানুগতিক...

 

 এবার বৃষ্টি নামবে...

 

 

 

শ্রাবণ 

 

 

কখন কিভাবে ফোঁটায় ফোঁটায় শ্রাবণ বুঝতেই পারিনি 

 

সময় তথৈবচ

অশ্বেতর ছন্দে কেটে যাওয়া পল অনুপল

 শুধু তেল হলুদ পাঁচফোড়নের হিসাব নিকাশ 

 

সন্ধ্যা আরতি কিংবা হঠাৎ ভেসে আসা ভোরাই 

ফুল কুড়োনো কদম কেশরে বোঝাপড়া চলতে চলতেই তো

 দৈবাদিষ্ট দেখা সাক্ষাৎ

 

 স্রোত তখন নাবাল 

অলৌকিক ছন্দে সুরধুনী 

যেন বেজে ওঠেন ব্যাপ্ত পরিমণ্ডলে

 

 বোঝায় না বোঝায় শুধুই দরবিগলিত 

বোধের পারে গিয়ে কেবল ফোঁটায় ফোঁটায় শ্রাবণ

 

 অতঃপর সন্তপ্ত চিত্তে অঝোর... অথৈ...শুধুমাত্র তোমারই নাম গানে

 

 

 কোলপোঁছা

 

 

আঁচলে বেঁধে নিয়ে ঘুরছ আমায় অচল পয়সা

 

কত কতবার টালমাটাল...পড়তে পড়তেও

ধুলোকাদায়  ক্লিষ্ট হাত তোমায় সম্বল

পরম আকাঙ্ক্ষায় চোখে জল

 

হোমেও নয় যজ্ঞেও নয়

সংসারে শুধু রক্তাক্ত হতে জানি

কেমন তবু আদেখলে দ্যাখো 'তুমি' কাঙালপনা গেল না

রক্তমাংসের এই খোলটাকে টেনে টেনে...

 

এখোনো পাশ ফিরতে গেলে হাত তোমায় খোঁজে

সংসারের উনকোটি- চৌষট্টি ঝড় ঝাপটায় ছাতা ধরতে

কিংবা শক্ত মাটির লড়াই

সবেতেই সেই বিগলিত করুণা

 

তাই আর আলাদা করে পুজোপাঠ নয়

নিত্য নৈমিত্তিক খেলাধুলো সাজাই

যাতে রাগ দুঃখের রসান লেগে

পরতে পরতে পাক খায় জীবনের ষোলোয়ানা

 

কেন চেয়ে আছ গো মা

 

 

 স্পর্শকাতর 

 

 

'যেওনা নবমী নিশি' পোষ্য কাঁদিছে,

হেলায় দুধের বাটি অযতনে পড়ে

 ছুঁইয়াছি শতবার আশীর্বাদ ছলে 

অস্ফুট স্বর তবু ভিতরে ভিতরে 

 

নিরুপায় শ্বাসচাপা ফুকারিয়া ওঠে 

ওষ্ঠে ওষ্ঠ দংশন প্রাণপণ ভারী 

 

মরমী আলোর বাণী আশার ছলনে

নিত্যকার আত্মজন চাপায় উপরি 

 

দলে দুর্বা মেদুর পথ একফালি স্নেহ 

আগুলায় নিরুপায় জননীর দেহ।

 

মাথা পাতে সুবোধ সে প্রিয় পোষ্য ভূমে

লুটায় কাতর স্বর মরমে মরমে 

 

নিঃসীম ফ্যাকাসে আলো অথ নীরবতা 

মুহূর্ত বাঁচিয়ে চলে শ্বাসের স্তব্ধতা

 

পালন গর্ভের ঋণ মহাকাল পরে 

স্তোকবাক্য নিরুচ্চার জননী অন্তরে

 

 

সেই 

 

 

প্রারব্ধ পূর্ণ হলে

 বাস্তব ছেনে খুঁটে খাওয়া পাখি 

ডানা মেলে আকাশের দিকে

 

 কেমন মোহন আলো 

কোথায় গেরুয়া বাস 

কীভাবে সে দিকদর্শন 

 

দাঁড়ি কমা সহ সবকটা সার কথা খোঁজ আর খোঁজ

 

 মেঘ মেঘে মেঘে শুধুই মুক্তির সন্ধান

 

অথচ ওই দেখো চিদাকাশ

 

 তিনি বসে মুখে মৃদু হাসি হাতে 'সেই' মুক্তির চাবিকাঠি

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন