জুন ২০২৩ উদিত শর্মার ৫টি কবিতা

 


উদিত শর্মার ৫টি কবিতা

 

১ তৃতীয় ব্যক্তি 

 

রূপা হঠাৎ নিখিলেশকে বলে ওঠে --

আপনি কি চাননা আমাদের মধ্যে কেউ 

তৃতীয় হিসাবে আসুক 

 

চমকে ওঠে , তবে কি সে নিজেই

সেই তৃতীয় ব্যক্তি  --

 

জীবনের দৌড় থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে চোখ 

এখন আর সে একা নয় , তবুও 

পয়ষট্টির চাদর টেনে লিখে রাখছে সেইসব

পূর্ব অভিজ্ঞতা... 

বিনুনির ফাঁকে লেগে থাকা রোদ-বৃষ্টি-ঝড়

পুরোনো গলি দিয়ে হেঁটে চলেছে 

পা খুলে ফেলছে কথার বন্ধ্যাত্ব 

বুকের পাঁজর ছুঁয়ে নেমে আসা স্রোতস্বিনী নদী। 

আজও সেই বকুল ফুলের গাছ একইরকম

যার তলায় দাঁড়িয়ে ছিলো 

রূপা, নিখিলেশ আর সেই তৃতীয় ব্যক্তি  

 

২ শুভদৃষ্টি 

 

একটি খয়েরী রঙের ভালোবাসার কাছে 

সমগ্র বাৎস্যায়ন উপুড় করে ফেললেও 

মিলবে না সঠিক চিত্রটি

বুকের বাঁ দিকে ডান হাতের চার আঙুল 

স্পর্শ করে যদি বলা যায় -- লভ লভ লভ 

তবুও পাওয়া যাবে না সেই সমুদ্র-গন্ধ  

 

চোখের ভেতর রাস্তা আছে হৃদয়ে প্রবেশের 

রেটিনায় ধরা থাকে তার মানচিত্র  -

সেখানে অপলক থাকার কাব্যও হয়তো লেখা 

আছে কোনও কোনও পদাবলিতে

শুধু লেখা নেই সেই আরব্য উপন্যাসের 

মহামন্ত্র : খুল যা সিম সিম 

 

লেখা নেই পান পাতার আড়ালে থাকা 

দুজোড়া চোখের আত্মকথন  

 

৩ লাল ডুরে শাড়ি 

 

লাল ডুরে শাড়ির পাশে পাজামাটা 

বহুদিন ঝুলে ছিলো 

পাজামা কখনও চেয়ার হয়ে গেলে

রেলিঙের ধারে ঝুঁকে পড়া শাড়ি 

বলে ওঠে : চা আনবো

 

এভাবে বছরের পর বছর শাড়ি-পাজামা

বিসমিল্লা খানের হাত ধরে 

এগিয়ে যায় শিল-নোড়া পথে

সেখানের রোদ ঝলমলে দুপুরের 

সন্তানেরা পরিপাটি 

বেড়ে ওঠে লাউ মাচায়। 

 

পথ আরও চওড়া হলে

বিকেলের সাদা মাঠে

ওরা স্রেফ রেলিং বাসিন্দা 

 

দূর থেকে হাত নাড়ে

স্ট্যাচু অব লিবার্টি  

 

৪ মধ্য রাত্রির কোরাস

 

প্রতিটি নাইট আউটে নতুন নতুন রক মিউজিক

তাপমাত্রা বাড়ছে হেয়ার স্টাইলের... 

সারাদিনের আলফা নিউমেরিক নড়াচড়া 

লম্বা লম্বা গসিপ গুলজার

শরীর শিখছে ট্যাটুর অহংকার  

ফাটাফাটি। আউট ফিট। নিউজ ফিড। 

মুঠোফোনে দিল কী বাত 

চিকচিক ড্রিমল্যান্ড স্বপ্ন-গল্প-স্বর্ণসুখ। 

 

এই যে সারাদিনের ননভেজ বৃষ্টিপাত আর

চোরাবালির গর্ভপাত ... 

হাই ওয়াটেজ বাংলা ব্যান্ডের তালে

স্প্যানিশ গীটারের ভাষায় নিতম্ব-তরঙ্গ

লেখে প্রেয়সীর উল্লাস  

চাই আরো আরো চিৎকার

আরো আরো শব্দশক্তি 

কোনও গোপন দুঃখ চাই না আর  

 

৫ ওয়ার্ক ফ্রম হোম

 

আটলান্টিকের ওপার থেকে ভেসে এল

--- কী করছো ?   

শরতের শুরু বর্ষণ সিক্ত সন্ধ্যাকাল    

--- ওখানেও কি বর্ষা এখন

--- না এখানে ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে  

আমার চোখে অরেঞ্জ কালারের পুত্র 

ফিরোজা রঙের পুত্রবধূ এবং দুরন্ত রঙের নাতি

আহ্লাদিত মাঠ। এলিগেরায় ছাওয়া পথ। 

--- তোমার লেখা ভ্রমণ কাহিনী পড়লাম। খুব ভালো।  

আমার চোখ ডুয়ার্সে ফিরতে চায় পাড়ে না..( নৈঃশব্দ্য  ) 

--- কোথায় ? --- মিটিং ব্যস্ত ওয়ার্ক ফ্রম হোম  

--- দাদাসোনা কী করছে

--- পাজল সলভ করছে    --- আর তুই

--- আকাশ দেখছি। যেভাবে রোজ দেখি  

চারপাশে সবুজ লন। পা ছড়িয়ে নির্জনতা। 

বুদবুদের বুকে রঙধনু হয়ে ভেসে আছে জীবন। 

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন