এই মাধুকরী
____________
১.
রজঃ অস্হির গ্রামটির সম্মুখে
সন্ধ্যের মৃত আগে কামোদ বেজেছে
এখন আকাশে পরিচ্ছন্ন তারা
পাল্টিয়ে যায় পাহাড়ের গানগুলো---
নদী নেমেছিল যেভাবে
শ্বেত বামনের গায়ে কাঁটা দেয়...
অরন্তুদের টিলা ভাঙো ভাঙো
সহজ বাদলে...
২.
ক্রমশঃই বুনো হয়ে ওঠা বাড়ির ভেতর
ডগমগ করে শটিগন্ধের ছায়া
বৃষ্টি আসলে বাজ খেয়ে নেয় নারকোল গাছ
---যত আনন্দে ঝলমল করে বৈজুঁ বাওরা
স্মৃতিকাতরের মতো দেখে যাই
পাশে বসে থাকে স্তনকাটা ছেলে
---একে বলা যায় নদী ডাকবার ক্রিয়া
সংকেতময়...
যেন শতবর্ষীয় বিকেলের মতো বিনয় মজুমদার
বারবার এসে ধাক্কা মারছে মাঠে
তোমার কবিতা অস্হির ছুটে গিয়ে
ঝাঁপিয়ে পড়ল বঁটির ওপর
তোমার বৃন্ত কুঁকড়ে গেলো কী!
তারপর শোনো,ধু ধু মানুষের গান পেয়ে যায়
ওলা জমছিল উঁইঢিপি জুড়ে...
সেসব তো গেল। তুমি কোন ঘরে হামীর ধরলে?
হঠাৎ করেই চামড়ার গায়ে গেঁথে গেল কিছু
কিমিতিবিহীন বাকপ্রতিমার কাঠামোর পিন
বুঝেছি এখন পুরনো বাড়ির ভাগ নিতে এসে
নাও যেতে পারি।নাও নিতে পারি পোড়া ফসলের স্বাদ ভাগ করে।
আমি কী বুঝিনি !
এটুকু বুঝেই স্যুররিয়ালিটি হারিয়ে ফেলেছি
দেবদারু গাছ থেকে ডেকে ওঠে হান্নান পাখি
ভাম বেরিয়েছে
বুঝিনি বৃষ্টি আসলে জামায় নিমপাতা দেব কিনা
স্বস্তা লোকের গাছ ভেঙে পড়বার পর কীযে ঘটেছিল
কেননা আকাশে বিড়ালের মতো ভয়
জ্যামিতির মতো ভয় ফুটে থাকে...
ঝরে ঝরে পড়ে বনাঞ্চলের সমূহ ভেতরে
যাকে জয় করে উঠতে পারিনি বলেই এখনও দিলবরখায় হাউল করছে ছোটো ছোটো প্রাণি।
এবং আকাশে বাছুর হারিয়ে গিয়েই আবার ঢুকে পড়ে গোল মাঠের ভেতর।
অপরপক্ষে জাদুচঞ্চল দরজার পাশে বসে থাকা সাদা কুকুর ছানাটি যত এনিগমা ছড়িয়েছে তার
শরীরের গায়ে শরীর ঘষেছ কিন্তু বোঝোনি হলুদ রঙের মেঘ নেমে আসে পাখির ওপর।
যদিও গাছের গন্ধের মতো অস্হির করা ভোর হয়ে যায়
অতিপ্রসন্ন খবরের মতো জল ভেঙে ভেঙে জেনে ফেলি এই শহরের এক ভুলে যাওয়া কবি
মরবার প্রিয় সময় পেয়েছে।
এসব সময়ে লক্ষণ দেখে বুঝে যাই বটে উড়ে এসে বসে আমার ঘাতক ।যত নির্জনে থাকিই না কেন এই বাড়িটার সব ঘরে ঘরে জানালা রয়েছে। মনে পড়ে যায়,এই বাড়িতেই শ্রোডিংগারকে পরীক্ষা নিতে একটা বিড়াল মাটির তলায় রেখে দিয়ে সেকি উত্তেজনায় তোরফোর করি তুঁতের বাগান।যদিও সকালে দাঁড়াশের বডি রাস্তায় পেয়ে ভুলে গেছিলাম মেয়েটির হাঁস সায়রে নেমেছে।
৩.
এই কথাগুলো লিখবার আগে নিভে আসবার প্রক্রিয়াখানি শিখিনি বলেই এখনও তোমার ওড়নায় ঘিয়ে উইয়ের দাগ। সমগ্র তিতপল্লার ঝোপে ডুবে থাকা ঐ বাড়ির ওপরে জ্যান্ত ঘাসের আস্তরটুকু বিছিয়ে দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে গাও ভিমপলশ্রী।
কিংবা ভাব তো বহুকাল পরে আমার এ লেখা পড়ে পড়ে কোনও ঈশ্বর যদি মীমাংসা করে দেখতে চাইল মনোবিকারের অন্ধ হরিণ!হয়তো আমিও বসে আছি তবু তুমি জল ভেঙে গিয়ে বন্ধ করছ সব ফুটোফাটা। উঠোনে তোমার গেঁথে যাওয়া পায়ে মাঝে মাঝে এসে ঠুকরে গিয়েছে মায়া মাছগুলো। আশপাশ থেকে বেজিদের ডাক ভেসে এসেছিল বলে বুঝতে পারনি, বুদবুদখানি ফেটে গিয়েছিল।
৩.
এই লেখা থেকে কী বুঝবে তুমি!তোমার উল্টো দিকে অর্থাৎ প্রতিপক্ষের মতো
দাঁড়িয়েছে পুরনো বাড়ির দুধকচু আর ফ্যাকাশে ছায়ারা। সূর্যাস্তের আলো পড়লেই তার
ফুলটুকু মলিন দেখাল।
তুমি এইসব কূলবধূপম শরীর পেয়েছ।যার সন্ধ্যায় একা হয়ে যায় ফসলের সখা
যদিও আবার
সচেতন ছেলে সচেতন মেয়ে
আল ধরে ধরে ঢুকে যায় সোজা
গৌড় সারঙে
এমন সময়
চোরা স্রোত থেকে গলা উঠে এসে
এই ছবিটির মনস্তত্ত্ব জানতে চাইলে
দেখেছি ভুঁড়িটি জড়িয়ে মরে পড়ে আছে
একটা যমজ টিকটিকি আর
অন্যটি তার গল্পের দিকে ছুটে যাচ্ছিল
এইখানে যদি তরুণ কবিরা ফটো তোলবার আবেদন করে!
কী বলতে চাও,বলে দাও দেখি,
বলাটা জরুরি
কেমন দেখতে ইশ্বর তুমি পছন্দ করো?
কোন মাধুকরী নেবে তুমি বলো মৃত্যুর আগে?
কিংবা হঠাৎ তুমি যেন আর মরতে পারো না
দুর্ঘটনার অপেক্ষা করে
শেষমেষ রাতে শুয়োর কেটেছ...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন