মারুফ আহমেদ নয়ন

 

দুটি কবিতা / 


।১।
স্বতন্ত্র চারার উচ্ছ্বাস

এমন বসন্ত দিনে, তোমার কথা স্মরণ এলো। দেবকাঞ্চনের বনে ফুলেরা হলো উন্মুখ। প্রিয় পাখিরা যাচ্ছে ভুলে ঋতুর মাখরাজ। অপরুপ জোস্ন্যায় উড়ছে নীল পিগমি প্রজাপতি। অন্ধকার প্রান্তরে সমস্ত আলোর বিন্দু যায় মূর্ছা। বিবিধ পতন দৃশ্যে আমাদের বিবাহ সংগীত। যেন বিসমিল্লাহ খানের সানাই বেজে চলছে সমধুর। ভূমিকম্পের মতো উঠছে কেঁপে এ নহবতখানা। 

পূর্বজন্ম, ঘুমিয়ে ছিলাম বীজের ভেতরে৷ মাটির সংস্পর্শে পেলাম জীবন। আমার ঈশ্বর প্রজ্ঞাময়৷ কোষ বিভাজনের দিনে আমি ছিলাম স্বতন্ত্র চারার উচ্ছ্বাস। উদ্ভিদজন্ম গেলো কেটে। তারপর মানুষজন্ম, প্রেমে পড়লাম তোমার। নিবিড় অন্ধকারে তোমার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। যেন আগুনের ভেতরে কাঠের জ্বালানী। জানি না সংবরণ। 

তুমি যেন আতাকামা মরুর চাঁদ, আমি ফুটেছি সুপার ব্লুম। দু-চোখে খেলা করছে খেলা মরুজ্যোতি। ছুটে বেড়াচ্ছি পৃথিবীর উওর থেকে দক্ষিণ গোলার্ধে। তবুও অস্থিরতা যেন গলাকাটা পায়রার সবক। জানি, এ জন্ম কেটে যাবে সৌর হাওয়ায়। পরমাণু আধান বিশিষ্ট কণা লিপিবদ্ধ হবে, আমাদের ধ্বংসের কাব্যে।

।২।
বালকের অন্ধ নিরঙ্গমঃ

অন্ধকারে চেপেছি, এক জাদু ঘোড়ার পিঠে। হাওয়ায় বেগে উড়ছি। অথচ হাওয়া যেখানে পৌঁছাতে অপরাগ, সেখানে পৌঁছেছে সূর্যের রোশনাই। দ্রুতবেগের কালে অন্ধ নিরঙ্গম বালকের। এ কোন দ্বিধার চক্র রামধনু অজগরের মতো হাজির হলো, দুঃস্বপ্নে। তখন আমি মৎস্যকন্যাদের কনর্সাটে হাততালি দিচ্ছি জলমহলে। মুগ্ধতার সাত রঙ ছড়িয়েছে আসমানে। 

তখন আমার পড়েছে মনে, কাঠের গুড়িতে ভেসে নীল জলরাশির নিকটে এসেছি। আমার শূন্যতা নিয়ে উঠে দাঁড়াতেই শুনি, জলমধ্যে গাইছো তুমি গানের দীপক রাগ। নিকটে যাই, দূরত্বে ফিরে আসি। ভেবেছি, অপরুপ সৌন্দর্যের দেবী তুমি। সে ভ্রম কেটে গেছে। তারপর নিশ্চুপ যুগ। আমার অস্তিত্বে রাখোনি আস্থা। 

ভেবেছ এ এক নীলগলা নীলচটক। অন্যের স্বর নকল করে গাইছে আশ্চর্য গান। উড়ন্ত পোকাদের নিচ্ছে ঠোঁটে পুরে। প্রজনন মৌসুমে জুটিয়ে নিয়েছে সঙ্গিনী। তারপর বাঁশের কোটরে শৈবাল ও মৃত পাতায় সরু মূলে পেতেছে সংসার। এমন দুনিয়াবি স্বপ্নে আমাকে লুট করেছো বহুবার। যেমন ব্যবসায়ী কাফেলার দৌলত লুফে নেয়, লুটেরা। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন