দুটি কবিতা
আয়নায় নিজের মুখ
#############
আয়নায় যতবার নিজেকে দেখেছি
শরীরের থেকে ছেঁড়া আলাদা সে মুখ
আমি তার কেউ নই তবু সে মুখের
আমার আদল নিয়ে ফেটে পড়া আছে
আমারই অভ্যাসে তার ওই চেয়ে থাকা
বস্তুত ভয়ের মতো অভ্যাস সে ১
ছবির আড়ালে যেন তাক করা আছে
একটি ধারালো স্প্রিং আমার হৃদয়ে
আমি তার যত কাছে সে আমার তত
বিচ্ছিন্ন হয়েছে তবু ১ রয়ে গেছে
যেমন গাছের পাতা ঝরে পড়ে গেলে
শূন্য থেকে ফাঁকা হাত তুলে নেয় গাছ
জীবনের এ কেমন উৎকট কাঠামো
আমি চুল আঁচড়াবো সে হবে সুন্দর
ভূতুড়ে পর্দার মতো চারকোণা কাচ
ওপাশে পৃথিবী আছে পৃথিবীর মতো
ঘৃণা নাকি ভালবাসা অনিশ্চিত টান
চোখ যে উপড়ে নেব সে উপায় নেই
আমি তাকে চিনি নাকি সে আমাকে চেনে
আমাকে বিগ্রহ করে পুজো সে করুক
দায়িত্ব নেবে না শুধু উদ্বোধক হবে
তাই হোক তবু আজ ফিতে তো কাটুক
প্লাস্টিক
প্লাস্টিকের ফুল কেন গোলাপ হল না
চৈত্র কেন বৈশাখের মুকুট পরেছে
তোমার উঠানে ১ পর্বত তো আছে
তার চূড়া থেকে তুমি বরফ নামাও
কেন শুয়ে আছ এই সকালবেলায়
বাসস্টপে পালিয়ে যাও কোথাও তো যাও
পোকা আছে সকলের হৃদয়ের কোণে
সুযোগ পেলেই সে তো কামড় বসাবে
কাগজের ফুল কেন কাগজ হল না
অরণ্যের গন্ধ পেল তোমার বাগান
বিদেশের চিঠি পড়ে ভুল বুঝেছিলে
শুধু তো সংবাদ ছিল যাচনা ছিল না
খবরের কাগজে মোড়া সস্তার খাবার
ন্যুব্জদেহ কুকুরের দুচোখে লালসা
যে আকাশে বৃষ্টি নেই তারই নীল ছায়া
কিছু কথা বলেছিল তুমি কি শুনেছ
করতলে যে রেখাটি প্রেম হয়ে আছে
সে যে কতদূর গেছে জিগ্যেস কোরো না
বৈশাখের তাপ এসে শরীরে লেগেছে
উত্তাপে উৎসাহ পায় লন্ড্রির মালিক
বিদেশের চিঠি পড়ে ভুল বুঝেছিলে
প্লাস্টিকের ফুল ছিল গোলাপ ছিল না
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন